আমি ভালোবাসলে প্রচণ্ড ভালোবাসি, কিন্তু কোনও কারণে যদি সেই ভালোবাসা শেষ হয়ে যায়, তবে পৃথিবীর সব মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়ে ওই একজন জীবিত থাকলেও আমি তাকে বেছে নেব না। ভালোবাসাকে একবার মৃত ঘোষণা করার পর আর তা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।
ফেইক লোকের গার্লফ্রেন্ড বা বউ হওয়ার চেয়ে বরং জেনুইন লোককে একতরফা ভালোবেসে যাওয়া অনেক ভালো। এতে নিজের মনটা অন্তত বেঁচে থাকে। আমি এ জীবনে যেসব মানুষ দেখেছি, তাদের অধিকাংশই একেবারে চিপ মেন্টালিটির, কিন্তু তুমি একেবারেই অন্যরকম, কেউ তোমার মতন হতে পারবে না শতচেষ্টা করলেও।
যারা আমাদের হেল্পিং-হ্যান্ড, ওদের জীবনে পদে পদে লাঞ্ছনা। ওরা কারও দামি সোফায় বসলে অপমানিত হয়, ঘরের বাসি খাবারটাও ওদের কপালেই জোটে। এসব আমার নিজের চোখেই দেখা, ছোটোবেলা থেকে অনেক নেগেটিভ বিষয় দেখে দেখে বড়ো হলাম।
ভাগ্য ভালো, আমার এক্সের সাথে আমার বিয়ে হয়নি। ও স্ট্যাটাস ছাড়া কিছুই বুঝত না। প্রায় সময়ই গর্ব করে বলত, ও খুব সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে, যার-তার সাথে কথা বলা কিংবা মেশা ওর ধাতে নেই। ওর মতো মানুষের কাছে আসলে শেখার কিছুই নেই, শুধু টাকাই আছে ওর; অনেক বড়োলোক হয়েও মানুষ হিসেবে নিতান্তই একটা ছোটোলোক ছিল আমার এক্স। ছোটো মানসিকতার ধনী লোকের ঘর করার চাইতে অনেক অনেক ভালো বড়ো মানসিকতার গরিব লোকের ঘর করা।
ভালোবাসা নিতে বেশি আনন্দ? না কি দিতে... বলো তো? আমার মনে হয়, দিতেই আনন্দ বেশি। আমার ইচ্ছে করে, তোমাকে ভালো বাসতে বাসতে নিজেকেই ভুলে যাই! কোনও প্রত্যাশা নেই তোমার কাছ থেকে; তোমাকে ভালোবেসে আমার আত্মা ভালো থাকে বলেই তো তোমাকে ভালোবাসি। সবই পাওয়া হয়ে যাচ্ছে যেখানে, সেখানে আবার প্রত্যাশা কীসের? মানুষ আত্মাকে খুশি রাখতেই ভালোবাসে। তার পরেও প্রত্যাশার জায়গাটা আর কোথায়?
একটু ভাবো, এই যে বাবা-মা সন্তানকে ভালোবেসে বড়ো করেন, সেখানে সন্তানের চেয়ে বরং বাবা-মা'য়ের প্রাপ্তিই বেশি। সন্তানকে স্নেহ করে এবং ভালোবেসে যে অপার শান্তি, তা বাবা-মা সাথে সাথেই পেয়ে যান। ওঁদের প্রাপ্তি এখানে নগদ ও প্রত্যক্ষ। ভবিষ্যতে আবার প্রাপ্তির আশা কীসের? ভালোবেসে শান্তি না পেলে কোন বাবা-মা তাঁদের সন্তানকে ভালোবাসতেন? বরং এখানে সন্তানের প্রাপ্তি অনিশ্চিত। সন্তান বড়ো হবার পর যদি মানুষ হতে না পারে, তবে বাবা-মা'য়ের অত অগাধ ভালোবাসা তার কী কাজে এল? বাবা-মা'য়ের ভালোবাসা প্রদানের চেয়ে বরং সন্তানের সেই ভালোবাসা গ্রহণটাই অধিক নিঃস্বার্থ। আমার খুবই প্রিয় লেখক কাহলিল জিবরানের সেই অত্যাশ্চর্য দিব্যবাণীটি মনে পড়ছে...
Your children are not your children.
They are the sons and daughters of Life’s longing for itself.
They come through you but not from you,
And though they are with you, yet they belong not to you.
যা-ই হোক, আমার মতো ইন্ট্রোভার্ট মানুষেরা পারে না সবার সাথে মিশতে। আমি তো কাউকে সহজে আপন করে নিতেও পারি না, কিন্তু তোমাকে আমি এত কিছু লিখি কীভাবে! ইন্ট্রোভার্টরা তো এভাবে ভালোবাসার মানুষকে লিখতে পারার কথা না! তবে একটা কথা কী জানো, আমার মতো ইন্ট্রোভার্টরা যা-ই পারি আর না-ই পারি, আমরা কখনোই ফেইক হতে পারি না।
কেউ আমাকে স্পেশাল ফিল না করালেও চলবে, আমি একটু বোরড ফিল করলেই বরং ভালো, তাহলে একটা ছেলের সাথে টাইমপাস করতে হবে না আমাকে। যাকে ভালো লাগে না, তার সাথে টাইমপাস করা মানে এক বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া। যার-তার সাথে টাইমপাস করার চেয়ে তো অনেক ভালো যাকে ভালোবাসি, তার সাথে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করা।
কী এক মায়ায় যে পড়ে গেলাম! তোমাকে লিখলে... ইচ্ছে করে, শুধু লিখতেই থাকি... ইচ্ছে করে, সারারাত ধরে লিখি... এই অনুভূতির সাথে আমার আগে পরিচয় ছিল না। মানুষের জীবন খুব রহস্যময়। যাকে আমার মন চায়, তার একডাকে দৌড়ে যেতে পারি শত ব্যস্ততাকে উপেক্ষা করে; আর যাকে মন চায় না, সে পায়ে ধরে বসে থাকলেও আমাকে ধরে রাখতে পারবে না কোনোমতেই। অথচ দেখো, যার ডাকের অপেক্ষায় থাকি অধীর হয়ে, সে আমায় ডাকে না ভুল করেও; আর যে আমার সাড়ার অপেক্ষায় থাকে অধীর হয়ে, তার শত ডাকেও সাড়া দিই না ভুল করেও।
প্রিয় নীরবতা
লেখাটি শেয়ার করুন