আমি একদিন তোমাকে লিখেছিলাম, তোমাকে আমার মিরর-ইমেজ মনে হয়। আয়নার সামনে যখন দাঁড়াই, মনে হয় যেন তোমাকেই দেখতে পাচ্ছি। এভাবেও কাউকে অনুভব করা যায়, আমি আগে জানতাম না। তুমিই প্রথম মানুষ, যাকে আমার মিরর ইমেজ মনে হয়েছে, এমন মনে হওয়ার কারণটা আমার অজানা।
যে অসুখে সমস্ত শরীরে পচন ধরে যায় অথবা এমন কোনও ছোঁয়াচে রোগ, যে রোগ কারও হলে তার মাধ্যমে সংক্রমিত হবার ভয়ে কেউ ধারেকাছেই যেতে চায় না, এমন একটা ভয়াবহ রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে কাউকেই পাশে পাওয়া যায় না। কিন্তু তখনও কেউ একজন শক্ত করে তার দুর্বল শরীরটাকে বুকে আগলে রাখার জন্যে পাশে থাকে... সেই মানুষই হচ্ছে ভালোবাসার মানুষ।
আমি এভাবেই ভালোবাসি। একসাথে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটালেই কাউকে তীব্রভাবে ভালোবাসা যায় না; জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত না আসা পর্যন্ত আসলে বোঝারই উপায় নেই, কে কাকে তীব্রভাবে ভালোবাসে। অসহায় সময়েও যে মায়ায় বাঁধে, ভালোবেসে পাশে থাকে, কেবল সে-ই প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসার মানুষ। সময় হলেই আসল মানুষ চেনা হয়ে যায়। বাকিরা সবাই মুখোশধারী।
একটা অদ্ভুত কথা বললে অবাক হতে পারো, বিশ্বাসও করবে কি না জানি না। শারীরিক সুখ দেবার ক্ষমতা কোনও কারণে যদি তোমার নষ্ট হয়ে যায়, তুমি নিশ্চিত থাকো, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা একবিন্দুও কমবে না। এমন পরিস্থিতিতে তুমি পড়বে না আশা করি, কিন্তু যদি এমন কিছু হয়ও, আমি হারিয়ে যাব না।
তুমি সত্যিকারের বন্ধু চেনো না, সময় এলে কথাটা মিলিয়ে নিয়ো। ধাক্কা না খেলে মিষ্টিকথার সবাইকেই আপন আপন লাগে। তোমার আশেপাশে যাদের দেখো, ওদের প্রায় সবাই-ই অবিবেচক; সেই দলে হায়েনার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। নিজেকে নিরাপদ রাখতে চাইলে মানুষকে উপেক্ষা ও অবিশ্বাস করতে শেখো। অবিশ্বাসই সবচাইতে শক্তিশালী রক্ষাকবচ। মানুষের মতো মানুষ হয়ে বাঁচতে যদি চাও, তবে সবার আগে মানুষের কাছ থেকেই পালাও।
মিরর-ইমেজ
লেখাটি শেয়ার করুন