গল্প ও গদ্য

না জানলে চুপ থাকুন

ভালো করে না জেনে স্রেফ অনুমানের উপর নির্ভর করে কোনও কথা বলা যাবে না, একটিও মন্তব্য করা যাবে না। তার চেয়ে বরং নীরব থাকাই মঙ্গলজনক। অনুমান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসে, তা মানুষের শরীরের বা আত্মার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

সুনানু আবি দাউদে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু'র ভাষ্যে একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে। তিনি বলেন, "শীতকালে আমরা একটি সফরে ছিলাম। পাথরের আঘাতে আমাদের এক সফরসঙ্গীর মাথা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ঘটনাক্রমে ওই রাতে তাঁর স্বপ্নদোষ হয়ে যায়। কিন্তু পবিত্রতা হাসিল করতে গোসল করাকে তিনি আঘাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেন। সফরসঙ্গীদের নিকট পরামর্শ চাইলেন--- এই অবস্থায় গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম (অজু বা গোসলের বিকল্পস্বরূপ বালি, মাটি বা ধুলা দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা) করা যাবে কি না। সঙ্গীরা তাৎক্ষণিক জানাশোনা থেকে বললেন, "যেহেতু পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে, আর তুমিও পানি ব্যবহারে সক্ষম, তাই আমরা তোমার জন্য তায়াম্মুম করার কোনও অবকাশ দেখছি না।" এ কথা শুনে তিনি গোসল করে নিলেন। ফলে ক্ষতস্থান দিয়ে মাথার ভেতরে পানি ঢুকে যায় এবং তিনি মারা যান।"

এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর নবীজির কাছে পৌঁছালে নবীজি ইরশাদ করেন, "তার সঙ্গীরা তাকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা যেহেতু জানত না, তাহলে কেন তারা জিজ্ঞেস করল না! অজ্ঞতা নামক ব্যাধির চিকিৎসা হলো প্রশ্ন করা। এই ব্যক্তির জন্য তো তায়াম্মুম‌ই যথেষ্ট ছিল। অথবা মাথায় একটি ব্যান্ডেজ বেঁধে গোসল করলেও পারত, এমন অবস্থায় ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ (হাত বুলিয়ে নেওয়া) করে নিলেই হতো।"

যেখানে স্বয়ং নবীজি অনুমানের ভিত্তিতে কিংবা অজ্ঞতাপ্রসূত চিন্তাভাবনা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও দেওয়ার বিষয়ে সাবধান করেছেন, সেখানে কোনও বিষয় বা কারও সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে না জেনে শোনাকথা বা অনুমানের উপর ভর করে কথা বলা ও ছড়ানো, মন্তব্য করা, সিদ্ধান্ত দেওয়া... এসবের চাইতে ঘৃণ্য পাপ আর কী আছে?!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *