কিশোরগঞ্জে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত যা যা খেয়েছি, সেগুলির মধ্যে সেরা খাবার হচ্ছে গুরুদয়াল কলেজের সামনে মুক্তমঞ্চের ভেলপুরি। এর চাইতে ভালো মানের ভেলপুরি আমি কখনও খাইনি। ফুড কোয়ালিটির কথা বললে, এই ভেলপুরি দশে কমপক্ষে দশ! প্রায়ই আমি ডিনার স্কিপ করে ২-৩ প্লেট এই অমৃত আস্বাদন করি।
উনি সন্ধ্যার পর ভেলপুরি নিয়ে দাঁড়ান। তাঁর কথাবার্তায়, আচরণে, পেশাদারিত্বতে একধরনের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। তাঁকে দেখলেই কেমন জানি সুখী সুখী লাগে, কাছের মানুষের মতো গল্প করতে ইচ্ছে করে।
তাঁর আত্মসম্মানবোধও বেশ প্রখর। মাঝে মাঝে তিনি আমার কাছ থেকে অনেকটা আবদার করেই পাঁচ টাকা কম রাখেন। কারণ হিসেবে বলেন, আপনি তো আমার রেগুলার কাস্টমার। আমার তো আপনাকে মাঝে মাঝে চা খাওয়ানো উচিত। এটা দিয়ে আপনি চা খাবেন।
অমন মূল্যবান ভালোবাসার উপহার, তাই হাসিমুখে হাত পেতে গ্রহণ করি। সবচাইতে বড়ো কথা, তিনি আমাকে সুশান্ত পাল হিসেবে চেনেনই না, তাই তাঁর কাছাকাছি থাকতে আমার বেশ আরাম লাগে। মানুষের ভক্তসুলভ বাড়াবাড়ি আমাকে সবসময়ই ভীষণ বিরক্ত করে। একেবারেই সহজ হয়ে মিশতে যে জানে, আমি তারই পায়ে পায়ে ঘুরি।
আহা, নরসুন্দার পাড়ে গোলচত্বর সংলগ্ন স্থানে মাঠের ছাউনির সোজাসুজি ঠায় দাঁড়িয়ে অমন জীর্ণ পোশাকে বুকের মধ্যে অত দৌলত লুকিয়ে রেখে কেউ এত ফার্স্টক্লাস ভেলপুরি বিক্রি করেন, কে এ-কথা বিশ্বাস করবে! তাঁর জয় হোক!
মুক্তমঞ্চের ভেলপুরি
লেখাটি শেয়ার করুন