মানুষে মানুষে ঐক্য নষ্ট হয় মূলত স্বার্থের সংঘাত এলে। ভালোর সাথে খারাপের অনৈক্য যতটা দরকার, তার চাইতে অনেক বেশি দরকার খারাপের সাথে খারাপের অনৈক্য।
ভালো কখনও খারাপের সাথে বন্ধুত্ব করতে চায় না, মিলেমিশে চলতে চায় না। খারাপের সাথে খারাপের বন্ধুত্ব ও মিল হওয়া সহজ, কিন্তু ওরকম ঐক্য খুব কমই দেখা যায়। প্রকৃতি তার নিজের প্রয়োজনেই এখানে কিছু অনৈক্য রেখে দেয়।
কীরকম? ভেবে দেখুন, যদি খারাপের সাথে খারাপ সব মতে ও পথে পুরোপুরি মিলে যেত, তবে ওদের এই ঐক্য থেকে পৃথিবীর অনেক ক্ষতি হতে পারত। দুই অপশক্তি মিলে বড়ো অপশক্তির সৃষ্টি হতো। তবে খুশির কথা, এক খারাপ কখনোই আরেক খারাপকে বিশ্বাস করে না। ওদের মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। এসব থেকে খুনোখুনি হওয়া খুব নৈমিত্তিক একটা ব্যাপার।
এভাবেই জগতের সব জায়গায় একধরনের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স চলে আসে। খারাপে খারাপে মিল হয় না বলেই, লড়াই-সংঘাত হয় বলেই পৃথিবীর মানুষ খারাপ শক্তির প্রকাণ্ডতা থেকে বেঁচে যায়।
খেয়াল করলে দেখবেন, সবার সামনে খারাপের মুখোশ খুলে দেয় যে, সে নিজেও খুব একটা সুবিধের লোক নয়। এক চরিত্রহীন বন্ধুই আরেক চরিত্রহীন বন্ধুর নাড়ির খবর জানে। স্বার্থে আঘাত লাগলে কিংবা নিজেকে বড়ো করে দেখাতে সে সচেতনভাবেই একদিন সবকিছু বলে দেয়।
বিপরীত বৈশিষ্ট্যের মানুষের মধ্যে অনৈক্য হলে সেখানে ঐক্য নিয়ে আসা যত সহজ, সম বৈশিষ্ট্যের মানুষের মধ্যে অনৈক্য হলে সেখানে ঐক্য নিয়ে আসা ততোধিক কঠিন।
দ্বন্দ্বের ভারসাম্য
লেখাটি শেয়ার করুন