আমি চাই, সবাই আমাকে মুখের উপর 'না' করে দিক, কেউ আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা না করুক কিংবা ভালো না বাসুক। আমি চাই, সবাই আমাকে দূর দূর করুক, আমাকে তাদের আত্মীয়, বন্ধু কিংবা প্রতিবেশী পরিচয় দিতেও লজ্জিত হোক।
আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অপমানিত হতে চাই। আমি চাই, তারা আমাকে নিয়ে যত এলোমেলো ধারণা করে, তা-ই আরও বেশি করে করুক। আমি চাই, খুব বেশি না, কেবল একজন মানুষ আমার পাশে থাকুক কিংবা তা-ও নয়।
এতশত 'না'-এর মাঝেও আমি জানি, আমি ভালো থাকব। আমি জানি, আমি বেঁচে থাকব। আমি জানি, আমি নিজেকে নিয়ে টিকে থাকতে ঠিকই পারব। আমি জানি, এই আঁধার কেটে যাবে, আর আমি উঠে যাব। আমি জানি, স্রষ্টা আমার সাথে আছেন, তিনি আমাকে যে করেই হোক রক্ষা করবেন।
আমার এখন আর কোনও কিছুতেই কষ্ট হয় না। কেউ আমাকে ছেড়ে যাবার ভয় দেখালে কিংবা ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার ভয় দেখালে অথবা ক্ষুধা-তৃষ্ণার ভয় দেখালেও আমার ভেতরে কোনও অনুভূতি জন্মায় না। আমি ভয়, ঘৃণা, কষ্ট কিংবা একাকিত্বকে আর ভয় পাই না। এ এক অন্যরকম আমি মনে হয়। মনে হয়, যেন কেউ ভেতর থেকে বলছে, কোনও ভয় নেই, তুমি ভালো থাকবে, এমনকী কঠিন মুহূর্তেও ... তুমি আরও অনেক বেশি ভালো থাকবে।
খুব বেশি কষ্ট পেলেই কিছু মানুষ এমন অনুভূতিশূন্য হয়ে যায়? আমি অনেক ক্ষমতাবান কিংবা বিত্তশালী নই, শুধু এটুকু বুঝি, মানুষের ভেতরটা শক্ত হয়ে গেলে বাইরের কোনও কিছুই তাকে আর ভাঙতে পারে না কিংবা ভয় দেখাতে পারে না। আসলেই জীবনে চলার পথে অনেক অনেক হোঁচট খাওয়ার দরকার আছে, অনেক বার ভেঙেচুরে যাবার দরকার আছে, অনেক তথাকথিত কাছের মানুষের চেহারা চিনে ফেলার দরকার আছে। এগুলো বেঁচে থাকার হিসেবটুকু সহজ করে দেয়। এখন আমি জানি, কারও মুখাপেক্ষী না হয়েই নিজেকে কী করে সুখী রাখতে হয়।
নির্ভরতার মৃত্যু
লেখাটি শেয়ার করুন