গল্প ও গদ্য

প্রেমের সর্দিতত্ত্ব

ত্রিদিব দস্তিদারের কবিতায় আছে: তবে আমি তোমাকে ভালো বাসতে বাসতে... ফতুর করে দেবো।

পরিচিত লাইন, অনেকেই ব্যবহার করেন। পোস্টে ব্যবহার করলে কোনও অসুবিধা নাই। কিন্তু যদি কেউ আপনাকে এটা লিখে পাঠান, তবে... সাধু, সাবধান!

এ ভালোবাসা নয়, এ রীতিমতো সত্যভাষ!

এটা লিখে পাঠানোর মানে, আমি ফতুর, আমার লাইনে এসে তুমিও ফতুর হ‌ও... প্লিজ, সোনা আমার! একা একা থাকতে আর ভালো লাগে না। তুমি এলে তারপর দুই ফকিন্নির বাচ্চা মিলে একসাথে ধেইধেই করে নাচব। আমাদের দু-জনের হাতে থালা, গলায় আন্তর্জাতিক ভিক্ষা-সংগীত... আল্লাহর ওয়াস্তে দুইডা ভিক্ষা দ্যান গো মা... কী মজা... কী মজা!

ধনীরা কখনও দল ভারী করতে চায় না, কেবল গরিবেরাই সবাইকে ধরে টানাটানি করে দল ভারী করতে। তাই কেউ আমাকে তার দলে নেবার জন্য টানাটানি করলেই আমার নিষ্পাপ মন আপনাআপনিই বলে ওঠে... হাই ফ‌ইন্নি বেইবেহ!

আবেগে কেঁদে ফেলার সময় সবসময়ই মনে করে নাকের সর্দি আটকে রাখবেন; মুখে যে যা-ই বলুক, ওটা মোছার সময় দেখবেন, পাশে কাউকেই পাচ্ছেন না, নিজেরটা নিজেকেই মুছতে হচ্ছে কিংবা সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে জিভ বের করে চাটতে হচ্ছে।

এ জীবনে... চোখের জল নয়, নাকের সর্দি মুছে দেবার জন্য একজন মানুষ লাগে। অশ্রু মোছার মানুষ পেলে তার হাত ধরে হাঁটুন; সর্দি মোছার মানুষ পেলে তার বুকে মাথা রেখে মনের সুখে ওখানে সর্দি ঝরান! তার পরে... দু-জন মিলে মনের সুখে চাটাচাটি... আই মিন... সর্দি...

প্রিয় মানুষটি যদি বলে, "ওগো, তুমি ভেবো না... আমি তোমার সমস্ত চোখের জল মুছে দেবো!"... তবে সাথে সাথেই তাকে জিজ্ঞেস করুন, "... তা নাকেরটা তোর কোন বাপে এসে মুছবে?" অনুগ্রহ করে আমাকে ভুল বুঝবেন না। এখন‌ই জিজ্ঞেস করে নাম-ঠিকানা জেনে না নিলে পরে দেখবেন, সেই বাপের খোঁজে আপনাকে হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে! তাই আগে থেকেই কনফার্ম হয়ে থাকলে ভালো।

বাই দ্য ওয়ে, সঞ্জীব-বাপ্পা'র 'আন্তর্জাতিক ভিক্ষা-সংগীত' শুনেছেন তো?
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *