অন্ধকারের গভীরে আমার বসবাস। এখানে বিষাদ আছে, বিপদ আছে। আমি চাই না, কেউ আমার কাছে এসে থাকুক। এ কারণেই ঘরের দরজাটা আমি কখনও খুলি না।
আমাকে দেখে অনেকে ভাবে, মানুষটা এমন কেন! নিজেকে অমন দূরে দূরে রাখে কেন? কীসের অত অহংকার?
ওরা বোঝে না, আমার কাছে আসা বারণ। এখানে এলে দুঃখ পেতে হবে। আমি চাই না, আমার দুঃখ কেউ নিক। আমি জানি, এই দুঃখ ভাগ করার মতো নয়।
যদি ভুল করেও ভেবে ফেলি, এই বুঝি কেউ আমার দুঃখের কিছুটা নিল বুক পেতে!... তবে দুঃখযাপনে হঠাৎ অনভ্যস্ত হয়ে যেতে পারি। যা থেকে মুক্তি নেই, তা থেকে ক্ষণিকের মুক্তি যে মৃত্যুরই নামান্তর!
তবু কখনো কখনো কেউ কেউ আসে। এসে ঘরের দরজার কাছে দাঁড়ায়, কড়া নাড়ে। দরজা খুলি না। দু-একজন তখন প্রবলভাবে দরজায় ধাক্কা দেয়। বাধ্য হয়ে খুলি।
ওরা আমায় আলিঙ্গন করে। দুঃখের ভাগ নিতে চায়। সত্যিই নেয়, সত্যিই আমায় অনুভব করে... এমন কারুর সাথেই যে দেখা আমার হয়নি, তা নয়; তবে একসাথে থাকা হয়নি আজও। দুঃখ বড়ো নিষ্ঠুর... দুঃখীকেও গ্রাস করে, দুঃখীর সাথিকেও গ্রাস করে।
দুঃখকে ভালোবেসে ঐশ্বর্য পাওয়া গেলেও দুঃখীকে ভালোবাসলে কেবলই কষ্ট পেতে হয়। অন্ধকারের সাথে বন্ধুত্ব রাখা যায়, কিন্তু অন্ধকারের বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব পাতানো যায় না।
বন্ধ দরজার বিষাদ
লেখাটি শেয়ার করুন