গল্প ও গদ্য

সুখী সুখী ভান

খেয়াল করলে দেখবেন, আসলে দুনিয়ার কেউই সুখী নয়।

আপনি যে জীবন পেয়ে অ-সুখে ভুগছেন, ঠিক এই জীবনটাই পেতে হয়তো পৃথিবীর অন্য প্রান্তে বসে কেউ যুদ্ধ করছে।

আপনি যে চাকরি পেয়ে হতাশায় ডুবে আছেন, ঠিক এই চাকরিটাই পেতে হয়তো অন্য দশজন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

আবার, আপনি যা পেয়ে খুশিতে ঘুমাতে পারেন না, ঠিক একই জিনিস পেয়ে হয়তো অন্যকেউ দুঃখে ঘুমাতে পারে না।

একেক জনের কাছে সুখের অর্থ একেক রকম। একেক জনের কাছে জীবনের মানে একেক রকম। একেকটা মানুষ, একেকটা মন।

আপনি যে কাজ করে আনন্দ পান, অন্যকেউ ঠিক একই কাজ করে বিরক্ত হয়। আপনি যাকে প্রচণ্ড রকমের ভালোবাসেন, ঠিক একই ব্যক্তিকে হয়তো অন্যকেউ জঘন্য রকমের ঘৃণা করে।

মানুষের জীবনটা আদতে মাকালফলের মতন। উপরে রংচটা, ভীষণ সুন্দর, ভেতরে অসুন্দর, বিচ্ছিরি। সবাই রোবটের মতন উপরটা একেবারে চকচকে করে রাখে, যাতে ভেতরের কোনও ত্রুটি উপর থেকে দেখে বুঝে ফেলা না যায়। অদ্ভুত এক মুখোশে মুখ ঢেকে চলছে সবাই। কেউই সুখী নয়, তবুও একধরনের সুখী সুখী ভান ধরে চলছে সবাই।

ফিটফাট, চকচকে, ব্রান্ডেড জামাকাপড় আর জুতা গায়ে চাপিয়ে এর অন্তরালে আমরা আনফিট, রংহীন, মূল্যহীন একটা অসুখী জীবন বয়ে চলেছি।

কার‌ও টাকা নেই তো কারও সুখ নেই, কার‌ওবা টাকা কিংবা সুখ কোনোটাই নেই।

কেউ বেঁচে থাকতে যুদ্ধ করছে তো কেউ মরে যেতে মরিয়া হয়ে আছে।

তলা-ফুটো নৌকার মতন আমাদের সুখের নৌকায় অ-সুখ ঢুকে তরী ডুবিয়ে দেয়। আমরাও ডুবে যাই তার সাথে। কীসে ডুবে যাই? অ-সুখে, অশান্তিতে এবং অপ্রাপ্তিতে।

একমাত্র একটা জায়গাতেই পৃথিবীর সব মানুষ এক ও অভিন্ন; সেটা হলো, আমরা সবাই একই রঙের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির দুঃখ বুকের খুব গভীরে পুষে রেখে রাতে ঘুমাতে যাই।

আর যারা সুখীও নয়, দুঃখীও নয়, তারা ভীষণ ক্লান্ত। আমাদের দিনগুলি সুখেও ভাসে না, দুঃখেও ডোবে না, শুধুই ক্লান্তিতে কাটে।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *