ভালোবাসার মানুষের বেলায় আর দশজনের মতো অতটা আধুনিক আমি হতে পারিনি। আমি পৃথিবীর সবাইকে চাইনি, সবার আদর-ভালোবাসা চাইনি। আমি সবসময় শুধু আমার একান্ত একজন মানুষ চেয়ে এসেছি। আমি মানুষটাকে কারও সঙ্গে শেয়ার করতে চাইনি। আমি আসলে এই একটা বিষয়ে ভীষণ সংকীর্ণমনা। এজন্যই হয়তো সেই একান্ত একটা নিজের মানুষ আজও আমার হলো না!
আমি চেয়েছিলাম আমার মানুষটাকে ভীষণ যত্নে রাখতে, তাকে সবকিছু থেকে আগলে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোনও পুরুষই আসলে শেকলে আটকে থাকতে পারে না, আটকে থাকতে ওরা চায়ই না। তারা স্বাধীন, তাই তাদের জীবনে অন্যকেউ তাদের মর্জির মালিক হবে, এটা তারা মানে না।
এদিকে আমার হয়েছে ভীষণ জেদ! আমার কোনও পছন্দের জিনিস নিয়ে যখনই অন্যকেউ নাড়াচাড়া করে কিংবা তার খানিকটা ভাগ চায়, আমি আর সেটাকে গ্রহণ করতে পারি না। কেমন জানি মন থেকে আসে না। তাকে দেখলেই তারপর থেকে কেমন জানি ঘেন্না ঘেন্না লাগে, কেমন জানি জেদ হয়... কেন আমার এই জিনিসটা অন্যকেউ ধরবে? হোক না কিছু সময়ের জন্য ... কিন্তু কেন?!
আমি আর তাকে নিজের করে মানতে পারি না। আমার ভীষণ কষ্ট হয় তখন মানুষটার জন্য, কিন্তু তবুও আর পিছু ফিরতে পারি না, তার প্রতি আর ভরসা পাই না। আমার কাছে সম্পর্ক, ভালোবাসা খুব পবিত্র একটা জিনিস। আমি মনে করি, ভালোবাসার, সম্পর্কের জায়গাটায় যদি অসততা ঢুকে যায়, তাহলে সম্পর্কটি এক অর্থে নোংরা হয়ে যায়; মানুষটার প্রতি, তার ভালোবাসার প্রতি প্রতারণা করা হয় তখন। আসলে যে কাজ অন্যের সামনে বা কাউকে জানিয়ে করা যায় না, সেই কাজটাই প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য।
আমি হয়তো তোমাকেও এতটা ভালোবাসতে পারতাম না যদি আমার চোখের সামনে তোমাকে অন্য কারও প্রতি বিন্দুমাত্র আবেগ বা মনোযোগ দেখাতে দেখতাম। ভাগ্যিস, আজও দেখিনি, যদি কোনোদিন দেখতে হয়, সেদিন হয়তো ভেতর থেকে পুরোপুরি ভেঙেচুরে যাব।
একান্ত মানুষ
লেখাটি শেয়ার করুন