Inspirational (Translated)

ভালোবাসা ও সম্পর্ক

ভালোবাসা ও সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি ব্যাপার। সম্পর্ক একটা সময়ে শেষ হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা কখনও শেষ হয় না। ভালোবাসার কোনও মৃত্যু নেই, সম্পর্কের মৃত্যু আছে!




তুমি যাকে ভালোবাসো বা যার সঙ্গে তুমি সম্পর্ক রাখতে চাইছ, সে তোমাকে এখন আর সময় দিচ্ছে না। এখন তোমার উচিত হবে এই বাস্তবতাটা মেনে নেওয়া। কারণ যদি সে তোমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইত বা ভালোবাসার একটা বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে চাইত, তাহলে সে তোমাকে এড়িয়ে যেত না বা এড়িয়ে চলত না।




আমি সম্প্রতি এক ভদ্রলোকের সঙ্গে মিশেছি, পরিচিত হয়েছি, তার বাসায়ও গিয়েছি। তো তাঁর স্ত্রী তাঁর চাইতে বয়সে চৌদ্দ বছরের বড়ো। আরও মজার বিষয় হচ্ছে, তাঁর স্ত্রী তাঁর শিক্ষিকা ছিলেন একটা সময়ে! হ্যাঁ, তাঁর স্কুলশিক্ষিকা ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সেখান থেকে প্রেম, সেখান থেকে ভালোলাগা এবং সেখান থেকেই অবশেষে বিয়ে। এবং, তাঁদের মধ্যে যে মিলটা আমি দেখেছি, যে ভালোবাসা আমি দেখেছি, যে টানটা আমি দেখেছি, যে বোঝাপড়া আমি দেখেছি, সেটা খুবই চমৎকার! তাঁদের ছেলে-মেয়ে বড়ো হয়ে গেছে। বড়ো ছেলেটা অনার্স পাশ করে এখন মাস্টার্স-এ পড়ছে, আর মেয়েটা দেশের বাইরে পড়াশোনা করছে।




এই ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে, আমি মনে করি, বয়স কোনও বাধা তৈরি করে না। কারণ দুটো মানুষ যখন পরস্পরের সঙ্গে থাকবার সিদ্ধান্ত নেয় বা পরস্পরের সঙ্গে থাকতে চায়, তখন তাদের মধ্যে যে কানেকশনটা তৈরি হয়, সে কানেকশনটা হচ্ছে একটা মনের সঙ্গে আরেকটা মনের। সেখানে কোনও ধরনের বয়সের বাধা, অবস্থানের বাধা, পারিপার্শ্বিকতার বাধা, আর্থিক-পারিবারিক-সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কোনও অবস্থানের বাধা তৈরি হবার কথা নয়। এখানে একটা মনের সঙ্গে আরেকটা মনের সম্পর্ক তৈরি হয়, যোগাযোগ তৈরি হয়।




যদি এমন হতো, তুমি যার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলে, সে যদি তোমার সঙ্গে সম্পর্কটা রাখতে চাইত বা আত্মিক বন্ধনটা অনুভব করত, তাহলে তো সে কখনোই তোমার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করত না, যোগাযোগ বন্ধ করত না। তোমার উচিত হবে বাস্তবতাটাকে মেনে নিয়ে তাকে তার মতো করে থাকতে দেওয়া। যদি কাউকে সত্যি সত্যি ভালোবাসো, যদি কারও প্রতি আত্মিক বন্ধন অনুভব করো, তাহলে তোমার প্রধান দায়িত্ব হলো তাকে একদম তার মতো করে থাকতে দেওয়া। সেই মানুষটাকে তার জায়গায়, একদমই তার কমফোর্ট জোনে থাকতে দেওয়াটাই তোমার প্রধান দায়িত্ব।




এখন সেই থাকতে দিতে গিয়ে যদি এমন হয়, সে তোমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকতে চাইছে এবং সেই দূরে সরে থাকার বিষয়টা তোমার মেনে নিতে হচ্ছে, তবে তুমি তা-ই করো। এটাই তোমার মহানুভবতা, এটাই তোমার ভালোবাসার পরিচয়! তুমি জোর করে কাউকে ধরে রাখতে পারবে না, জোর করে কাউকে ধরে রাখা যায় না। ভালোবাসা ব্যাপারটা কোন‌ও বাধ্যতা নয়। ভালোবাসা মনের একটা ব্যাপার। বাহ্যিক কোনও শর্ত কিংবা সীমাবদ্ধতা দিয়ে ভালোবাসা মাপা যায় না।




তুমি এটাও মনে রেখো, তুমি যাকে ভালোবাসো, সে তোমাকে ভালো না-ও বাসতে পারে। তুমি যাকে ভালোবেসেছিলে, সে হয়তো তোমাকে ভালোবাসেইনি, অভিনয় করেছে, একধরনের অভ্যস্ততা তৈরি করেছে! এমনও হতে পারে। তাই কাউকে ভালোবাসলে, সে তোমাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসবে, যতটা তুমি বাসো--- এ ধরনের উদ্ভট চিন্তা তোমাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে, যদি ভালো থাকতে চাও, যদি নিজের মতো করে থাকতে চাও। আমি এটাই মনে করি।
লেখাটি শেয়ার করুন

6 responses to “ভালোবাসা ও সম্পর্ক”

  1. স্যার,সে আমার না,এই নির্মম সত্যি কথাটা বুঝতে পারলেও,মেনে নিতে পারছি না😢😭😢

  2. নমস্কার দাদা। আপনার কথা মতো নতুন করে বাঁচতে শিখেছি । জীবনের মানে খুঁজে পেয়েছি। ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আকুতি মিনতি বাদ দিয়েছি।

  3. অসাধারণ দাদা,
    এই সময়ের যুবক দের জন্য,আপনি একটা উদাহরণ।আপনার এরকম কত পোস্ট দেখে।অনেকের জীবন পরিবতন হয়েছে।হয়তো আপনি জানেন না।আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক।

Leave a Reply to Rahaman patowary Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *