গল্প ও গদ্য

সহনশীলতার ঘরবাড়ি

সহনশীলতা কী?

মানুষকে তার নিজের মত প্রকাশ করতে দেওয়া এবং তার নিজের পথে থাকতে দেওয়াই সহনশীলতা। যে যেমন, তাকে ঠিক তেমনি করেই মেনে নেবার নাম‌ই সহনশীলতা।

একটা বিল্ডিংয়ে অনেক ফ্লাট থাকে। একেকটা একেক রকমের। সবাই কি আর এক‌ই ঘরে থাকতে পারবে? সম্ভব থাকা? আরও যদি বলি, সবার ইচ্ছেই-বা কেন হবে এক‌ই রকমের ঘরে থাকার? সুযোগ ও সামর্থ্যের‌ও একটা ব্যাপার আছে এখানে।

আমার ঘর আমার জন্য ভালো, আপনার ঘর আপনার জন্য ভালো। আমার জীবন আপনার জীবনের মতন নয়, আপনার জীবন আমার জীবনের মতন নয়। আমি আমার জীবনে থাকি, আপনি আপনার জীবনে থাকুন।

আমার সন্তান মাটির পুতুল দিয়ে খেলে, আপনার সন্তান কী দিয়ে খেলে আমি জানি না। তবে এইটুকু জানি ও মানি, চোখের সামনে নিজের সন্তানকে খেলতে দেখা এ পৃথিবীর সুন্দরতম দৃশ্যগুলির একটি। নিজের মা, নিজের সন্তান সবার কাছেই বড়ো সুন্দর, বড়ো আদরের। অন্যের মায়ের হাতের মাটন-বিরিয়ানির চাইতে নিজের মায়ের হাতের পোড়া-রুটি যে অধিক সুস্বাদু লাগে খেতে, তার কারণ খাবারের মান নয়, ভালোবাসার টান। ন্যূনতম কাণ্ডজ্ঞান থাকলে কেউ অন্যকে মা কিংবা সন্তান বদলাতে বলে না।

আমার বিশ্বাস আমাকে শেখায়, নিজে নিজের মতো করে বাঁচা ও বাড়া এবং অন্যকে তার মতো করে বাঁচতে ও বাড়তে দেখে সেটার সৌন্দর্য উপভোগ করার নাম‌ই জীবনের যাপন।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *