গল্প ও গদ্য

যন্ত্রণার চৌকাঠ





১. প্রয়োজনে আমার মৃত্যু হোক;
তবুও, আমাদের আর দেখা না হোক।




২. আমার মতন মানুষকেও তুমি লিখতে বাধ্য করেছ, অথচ তুমি নাকি আঘাত করতেই জানো না!




৩. সূর্য অস্ত যাবার সময়ই বেশি সুন্দর...
যেমন ভালোবাসা বেশি সুন্দর, শেষ হয়ে যাবার ঠিক আগমুহূর্তে!




৪. অনেক চিঠি লিখেছি, হয়তো ভুল ঠিকানায়...কিংবা যদি পেয়েই থাকো, চিঠিগুলো পুড়িয়ে আমার চিতায় আগুন দিয়ো। আমার লেখা ভালোবাসার অক্ষরে আমাকে পুড়ে যেতে দিয়ো।




৫. আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে...চোখের জলে দেখতে পাচ্ছি না কিছুই...
আমি তবুও লিখব...
আজই আমার শেষ সুযোগ!




৬. আমি বেঁচে থাকতে তোমায় ভালোবেসেছিলাম, তাই আমি মরে গেলে আমায় অভিশাপ দিয়ো। কী...সময় করতে পারবে না!?




৭. আমাকে কথা বলতে দিয়ো না, বুকে আমার চাপাআর্তনাদ...আমি চিৎকার করলে তুমি বধির হয়ে যাবে!




৮. আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে...যেটা থামাতে তোমাকে আরও একটা আঘাত দিতে হবে...




৯. কোন‌ও একদিন সকাল উঠে জানতে পারবে, আমি আর নেই...প্রিয়তমা, সেদিন চোখের জল ফেলো না...তোমার অভিনয় আমি ছাড়া সবাই ধরে ফেলতে পারে!




১০. আমার হাতে একদমই সময় নেই...
মনে করে দেখো, একদিন তোমার হাতেও কিন্তু ছিল না!




১১. ভালো করে চেয়ে দেখো আমাকে!
যাকে তুমি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলে, আমি অবিকল তারই মতন দেখতে!




১২.থামো...পায়ে পড়ি, আর অবহেলা কোরো না!
আজ আমি নিজেই নিজেকে মৃত ঘোষণা করছি...!
তোমার কাজ শেষ।




১৩. আমি তোমাকে অপমানিত হতে দেখেছি, শুনেছি তোমাকে নিয়ে অসংখ্য বাজে কথা।
ওসব হজম করেও আমাকে বাঁচতেই হচ্ছে!
দেখো দেখো...অসহায়ত্বের এই বেঁচে-থাকা!




১৪. যে মানুষটার সঙ্গে কল্পনায় এত কিছু আমার...এত অভিযোগ, অভিমান, অনুরাগ...
তুমি কি জানো, তার সঙ্গে আমার আর কখনও দেখাই হবে না...!?




১৫. এখন আমার কাছে সেই সবকিছুই আছে, যেগুলো আমি আজীবন চেয়ে এসেছি। কিন্তু এত খুশিতেও আমি কাঁদতে পারছি না...
হে ঈশ্বর, তুমি আমার সব কেড়ে নিয়ে কান্না ফিরিয়ে দাও...
সেই খুশি দিয়ে আমি কী করব, যেখানে চোখের জল আড়াল করতে হবে!?




১৬. তুমি চাইলেই আমরা আমাদের সব ভুল বোঝাবোঝি ঠিক করে ফেলতে পারতাম!
কিন্তু তোমার হাতে নাকি নিঃশ্বাস নেবার মতন‌ও সময় নেই!
অথচ অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হবার সময় চলে এল...




১৭. বিদায় বলে কখনও তোমায় বিদায় দিতে পারিনি, সেই তো ফিরেই এসেছি...
আচ্ছা, আজ তবে আসি, কেমন?




১৮. আমার চিঠি পড়ে অত হাসছ যে?
'আমার কষ্ট হচ্ছে'...এই তিনটে শব্দ ছাড়া আমি তো কখনও আর কিছুই লিখি না...
ওগুলো পড়ে বুঝি হাসি পায় খুব?




১৯. আমার দীর্ঘশ্বাস এতটাই দীর্ঘ যে রোজ তোমাকে ছুঁয়ে আসে...!




২০. মাঝরাতে রোজই আমার বুক ফেটে চিৎকার আসে...
হে খোদা, আমি এই অন্ধকারে কোথায় পালাব?
লেখাটি শেয়ার করুন

One response to “যন্ত্রণার চৌকাঠ”

Leave a Reply to Suporna Talukder Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *