গল্প ও গদ্য

বউতন্ত্র জিন্দাবাদ

নেতাকে এলাকায় স্বাগত জানাতে চারিদিকে সাজসাজ রব পড়ে গেল। কীভাবে যে নেতার কাছের মানুষ হ‌ওয়া যায়, তা নিয়ে কর্মীদের টেনশনে ঘুম হয় না।

আমার নেতা, তোমার নেতা, নেতা আমাদের সবার নেতা!
নেতাকে আমরা বুকে রাখি, বুকে রেখেই বেঁচে থাকি!
স্বপনে কি জাগরণে, নেতাই আমাদের প্রাণে প্রাণে!
নেতা নেতা, তোমাকে চাই, নেতাকে বুকে জড়িয়ে বাঁচতে চাই!
ভাত না খেয়েও থাকতে পারি, নেতা যদি রাখে বুকে!
নেতা, তোমাকে রাখতে সুখে, হাসিমুখে জীবন দেবো!

এমন ধরনের লেখাসমৃদ্ধ পোস্টারে-ব্যানারে ছেয়ে গেল সারাশহর, সভাস্থল।

সবাই হঠাৎ দেখল, নেতা এসেছেন সস্ত্রীক। নেতার স্ত্রী আসবেন, তা কেউ আগে থেকে জানত না। তিনি ইচ্ছে করেই তাঁর প্রাণপ্রিয় কর্মীদের ওভাবে সারপ্রাইজ দিলেন।

কর্মীরাও কম যায় না। করিতকর্মা কর্মীরা ঝটপট বানিয়ে ফেলল কিছু ব্যানার। ওসবে বড়ো বড়ো করে লেখা:

আমার ব‌উ, তোমার ব‌উ, নেতার ব‌উ আমাদের সবার ব‌উ!
নেতার ব‌উকে আমরা বুকে রাখি, বুকে রেখেই বেঁচে থাকি!
স্বপনে কি জাগরণে, নেতার ব‌উই আমাদের প্রাণে প্রাণে!
ব‌উ ব‌উ, তোমাকে চাই, নেতার ব‌উকে বুকে জড়িয়ে বাঁচতে চাই!
ভাত না খেয়েও থাকতে পারি, নেতার ব‌উ যদি রাখে বুকে!
নেতার ব‌উ, তোমাকে রাখতে সুখে, হাসিমুখে জীবন দেবো!

ব্যানারগুলো শক্ত করে হাতে ধরে একেবারে স্টেজের সামনে এসে কর্মীরা ভিড় জমাল। কে কার আগে গিয়ে নেতার চোখে পড়ার দূরত্বে দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। যে করেই হোক, নেতার চোখে পড়তেই হবে।

কর্মীদের সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নেতা নিজেই স্ত্রীর সামনে দ্বিগুণ সারপ্রাইজড হয়ে গেলেন।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *