গল্প ও গদ্য

অনভ্যস্ততার দূরত্ব

পাশের ঘরে না যেতে না যেতে একসময় পাশের ঘরকেও অনেক দূরের লাগে। ভেতর থেকে বাধা এলেই পথ দীর্ঘ হয়ে যায়। দূরত্ব তৈরি হয় মনে, পথে নয়। যে লোক অনায়াসেই বিলেতে চলে যায়, সে-ই খুব চেষ্টা করেও পাথর-ছোড়ার-দূরত্বে-বাস-করা একসময়ের বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারে না অনভ্যস্ততার কারণে।

বন্ধু এবং বন্ধুত্ব দুই-ই খুব সুন্দর অনুভূতি দেয় যদি ধরে রাখা যায়। যোগাযোগহীনতা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের পথে কাঁটা ছড়িয়ে দেয়; কখনোবা সেই পথে বড়ো বড়ো ঘাস জন্মে যায়, ঝোপঝাড় তৈরি হয়ে যায়। বন্ধুত্ব আপনাআপনি টিকে থাকে না, বন্ধুত্বকে সচেতনভাবে টিকিয়ে রাখতে হয়। না রাখলে পুরোনো মুখের জায়গাটি দখল করে নেয় নতুন মুখোশ।

ফোন না করতে না করতে একসময় সেই মানুষটাকেও আর ফোন করা যায় না, যার সাথে একসময় প্রতিদিন কথা হতো। দূরত্ব এক আশ্চর্য ব্যাপার... কখন যে কার সাথে কীভাবে দূরত্ব বাড়ে কিংবা কমে, তা আগে থেকে টেরই পাওয়া যায় না!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *