বাংলা কবিতা

তৃষ্ণাচক্র


অভাব! অভাববোধই জগতের সার।
অভাবেই চলে এই জগৎসংসার।

ক্ষুধা-তৃষ্ণা, শীত-গ্রীষ্ম, ব্যাধি, রিপুগণ
অভাব সৃজন জীবে করে সর্বক্ষণ।

অভাবের অনুভবে বাসনার উদ্ভব,
বাসনার বশে চলে নরদেহ সব।

বাসনাই জীবে কর্মে নিরত করায়,
কর্মচাঞ্চল্যে সে জীবন কাটায়।

সত্যের তরে নাহি ভাসে ক্ষণকাল মন,
ইন্দ্রিয়ের জালে বন্দি রহে সর্বক্ষণ।

হিংসা, দ্বেষ, বিকিকিনি, হত্যা, উৎপীড়ন—
অভাবই জেনো শুধু সবার কারণ।

অভাব নেই তো নেই ইচ্ছে, চেষ্টা, ক্রিয়া;
নিস্পৃহ, নিষ্ক্রিয় হলে শান্তি লভে হিয়া।

অভাব, বাসনা, কর্ম অশান্তি-আকর—
তিনে জীবে বেঁধে লীলা করেন ঈশ্বর।

মুক্তিই হলো তা হতে মোক্ষলাভোপায়,
অন্যথা সংসারবদ্ধ লোকে দুঃখ পায়।

ভক্তি, জ্ঞান, যোগাদির উদ্দেশ্য তা-ই,
যে না তা জানে বোঝে, তার সিদ্ধি নাই।

অভাবের অনুভবই অশান্তির বীজ,
হ্রাস তারে করে করো আশুহিত নিজ।

প্রতিদিন বুঝে করো অভাবেরে হ্রাস,
পরিশেষে লভ শান্তি তারে করি নাশ।
লেখাটি শেয়ার করুন