বন্ধুরা মিলে আমাদের বান্ধবী তান্নিকে দেখতে গিয়েছিলাম। সে কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ। তার খুব ঠান্ডা লেগেছে; জ্বর, সর্দি, কাশি।
আমরা সঙ্গে করে কিছু ফল নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের ধারণা ছিল, তান্নির ঘরটা থাকবে এলোমেলো, অপরিচ্ছন্ন। আমরা ওর ঘরদোর গুছিয়ে দিয়ে আসব। তান্নি একাই থাকে।
গিয়ে দেখি, এই শরীর নিয়েও তান্নি সারাঘর একেবারে ঝকঝকে তকতকে করে রেখেছে। আমরা খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের জন্য কিছুই ফেলে রাখিসনি দেখছি! সে হেসে উত্তর দিল, দ্যাখ, কাজটা আমার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু যেহেতু আমি ঘর গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করি, তাই চোখের সামনে ঘর অপরিষ্কার দেখলে আমি দিনদিন আরও অসুস্থ হয়ে পড়ব। আর তার চাইতে বড়ো কথা, একদিন যদি আমি নিজেকে বলি, আজ ঘর পরিষ্কার করতে ইচ্ছে করছে না, তাহলে নিশ্চয়ই পরদিন নিজেকে বোঝাব, এই শরীর নিয়ে ঘর পরিষ্কার করার কোনও মানেই নেই।
তখন কী হবে? আমি নিজেকে সেই কমফোর্ট জোনে নিয়ে যাব, একবার যেখানে গেলে ফিরে আসাটা কঠিন। কী দরকার, বল? আমার ঘর পরিষ্কার করতে তোদের কি আর সবসময় পাবো? হা হা হা . . . আগে ঘর গোছাতে যা সময় লাগত, এখন তার চেয়ে বেশি লাগে, কিন্তু শরীরটাকে একটু নাড়াচাড়া করলে তো নিজেরই ভালো লাগে রে।
আহা, কী চমৎকার মানসিকতা! মানুষ আসলে তার মানসিকতার সমান বড়ো। জরুরি অভ্যেসকে কখনও হাতে ধরে খুন করতে নেই। ওতে কেবল বাড়তি বোঝাই বাড়ে।
অভ্যেসই আশ্রয়
লেখাটি শেয়ার করুন