গল্প ও গদ্য

অগ্রিম মৃত্যুশোক

নতুন চাকরি। ওরা গাড়িতে করে নিয়ে যায়, আবার দিয়েও যায়। বাসা থেকে আসার সময় আর বাসায় ফিরে যাবার সময় গাড়িতে গান বাজে। আমি চোখ বন্ধ করে শুনি। কী যে মধুর লাগে সময়টা তখন! চাকরির বাসে বসে বসে গান শোনার সুখ‌ই আলাদা!

প্রথম দিন সবাইকে দেখে আমি হাঁ করে ভাবলাম, আহারে, কত সুখী ওরা!
পরে কথা বলতে বলতে বুঝলাম, দুনিয়ার কেউই সুখী নয়, কলিজার কোথাও-না-কোথাও সবারই ছোটো-বড়ো ছিদ্র আছে।
তবে সবাই সেটেলড লাইফের, এখানে একমাত্র আমিই ভাঙাচোরা।
ওরা সুখে থেকেও অসুখী, আমি অ-সুখে থেকেই অসুখী। দিনশেষে, ওদের সাথে আমার পার্থক্যটা কোথায় তাহলে?

আসলে জীবনে বেশি কিছু না থাকাই ভালো, যার অপশন যত বেশি, তার দ্বিধাও তত বেশি, জ্বালাও তত বেশি। যত অপশন, ততোধিক টেনশন।

একটা কথা কী জানো, আমি সবসময় কী যেন একটা খুঁজি। কী যেন একটা চাই। বুঝি না, সেটা কী! তবে খুঁজি... না খুঁজলে আমার অস্বস্তি হয়।

আচ্ছা, একটা ব্যাপার কখনো খেয়াল করেছ? আমরা অন্যের মৃত্যুতে কাঁদলেও নিজের মৃত্যুতে আমরা কাঁদতেই পারি না।‌ আজব না? নিজের মৃত্যুতেই কিনা মানুষ কখনও কাঁদে না; বড়ো কথা, কাঁদতেই পারে না। আমি এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমার নিজের জন্য কষ্ট প্রকাশ করার অধিকার কেন থাকবে না?

গতকাল রাতে নিজের মৃত্যু উপলক্ষ্যে ইচ্ছেমতো অগ্রিম কেঁদে নিয়েছি। কী জানি... কখন মরে-টরে যায় মানুষ... বলা তো যায় না। মৃত্যুশোক উদ্‌যাপন করতে আমাদের প্রচুর কাঁদা উচিত।

আমাকে সবাই বলছে, সরকারিতে ঢোকো। বেসরকারির নাকি সিকিউরিটি নাই। কী যে চিন্তাভাবনা মানুষের! বাংলাদেশে সরকারি চাকরি কয়টা আছে? ওখানে যারা নেই, ওরা কি সবাই জলে ভেসে যাচ্ছে? সরকারি চাকরির প্রতি এই জাতীয় মোহটি আসলে আমাদের জাতীয় অসুস্থতা। বড্ড গরিব এই অসুখটা!

একটা মজার কথা কী জানো, যেখানে মানুষের জীবনেরই কোনও সিকিউরিটি নেই, সেখানে মানুষ কিনা সিকিউরড জব চায়, হাস্যকর না? হি হি হি ... মানুষ তার ইনসিকিউরড জীবনে কিনা সিকিউরড জব চায়, মজার না ব্যাপারটা? মানুষের এমন অসহায়ত্ব দেখতে আমার ভালো লাগে না। মানুষ বেশি ভাবে, তাই কম পায়।

মানুষ জাতটাই আসলে বেকুব প্রকৃতির। এই যেমন ধরো, আমি।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *