গল্প ও গদ্য

শান্তির বাঁধন

আচ্ছা, ধরো, তোমার খুব কবিতা পেল, কিন্তু শেষটা ঠিক মনের মতো করে মেলাতে পারছ না কিছুতেই। যখনই সেই ভাঙাচোরা অর্ধনির্মিত কবিতাটি আমাকে পাঠাতে যাবে, তখনই খেয়াল হবে, আরে, ওর সাথে তো আমি কথাই বলি না!

তখন কি কবিতাটা অর্ধেকেই রেখে দেবে? না কি অনেকটা সময় নিয়ে মাথার চুল টানতে টানতে অবসাদে ভুগে-টুগে কবিতাটা ফেলেই দেবে শেষমেশ?

তুমি কি জানো, যা তৈরি করতে তোমার মাথার চুল ছেঁড়ার অবস্থা হয়, কখনো কখনো তা তৈরি করতে আমার একমিনিটও লাগে না? আবার যা বানাতে আমার ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়, তা বানাতে হয়তো তোমার একমিনিটও লাগে না!

আমার অর্ধেকটা তোমার কাছে, আর তোমার অর্ধেকটা আমার কাছে থেকে যাবে। এ কথা আমি আর তুমি ছাড়া আর কেউ জানবে না, বুঝবে না। মজার না ব্যাপারটা?

আচ্ছা, তুমি কি জানো, আমাদের দু-জনের যোগাযোগহীনতা কতশত কথা, গল্প, আর কবিতার জন্মকে চিরতরে রুদ্ধ করে দেবে?

কত গান যে তৈরি হতে গিয়েও ভেঙে যাবে, কত কবিতা যে গড়ে উঠেও টুক করে বাঁধন খুলে পড়ে যাবে, কত অসাধারণ গল্প যে বাড়তে গিয়েও আর বাড়বে না... তুমি কখনো কি বুঝতে পারো?

জন্ম-না-হওয়া ওদের জন্য আমার খুব মায়া হয়... জানো? আমি আর তুমি এক থেকে দুই হয়ে গেলে অনেক যাত্রাই অর্ধেক পথে থেমে যাবে, অনেক কিছুই আর কখনও জোড়া লাগবে না, অনেক সৃষ্টিই দুই আত্মার সংযোগের শূন্যতায় পূর্ণতা পাবে না। তুমি বা আমি কেউই এককভাবে সম্পূর্ণ ন‌ই।

তোমাকে আমি ভালোবাসি কেন, জানো? একটাই কারণ: তুমি আমায় প্রেমে বেঁধেছ যতটা, শান্তিতে বেঁধেছ ততোধিক। এই শান্তির খোঁজ পেয়ে আমি জেনেছি, সুখের সমুদ্রে অশান্তিতে থাকার চাইতে বরং দুঃখের মহাসমুদ্রে শান্তিতে থাকা অধিক আনন্দের।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *