বড়ো সাধ হয়েছে, তোমাকে একটা চিঠি লিখব, পদ্ম! কোনো কচি ডাগর কলাপাতায় নয়, কিংবা শিউলি-বকুল-পলাশের ক্ষণস্থায়ী কোনো পত্র নয়। আমি খুঁজে নেব গ্রামের শেষপ্রান্তে ঝোপঝাড়ের আড়ালে দাঁড়িয়ে-থাকা প্রাচীন বটগাছটার ধূসর এক পাতা। যে-পাতা রোদে পুড়েছে, বৃষ্টিতে ভিজেছে; যে জানে শত বছরের না-বলা করুণ ইতিহাস।
জানো তো, বটপাতাটি খসখসে আর টেকসই—ঠিক আমার বুকের গহীনে জমে-থাকা একান্ত অভিমানটার মতো, অবিকল। যেন মহাকাল তার পিঠে আমার দুঃখের কথাগুলো অনন্তকাল বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। বোঝাটা নামিয়ে তোমাকে দিলাম।
নাও! মন দিয়ে শোনো, এই বটপাতার গায়ে খোদাই-করা আমার কতিপয় শব্দ তোমার অপেক্ষার জানালায় অনন্তকাল পড়ে থাকবে। তুমি তাকে তোমার প্রিয় ডায়েরির ভাঁজে রেখে দিয়ো, কেমন?
আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি। জানি, উত্তর হয়তো দেবে না; তবুও, বলো তো সত্যি করে, কী এমন দেখেছিলে, যা পৃথিবীর আর কেউ দেখতে পায়নি, এমন করে?
অভিমানের বটপাতা
লেখাটি শেয়ার করুন