ফেরিওয়ালার বিকেল
এখন দুপুর। উঠোনের কোণে, বারান্দার ধারে, ঘরের অন্ধকারে ছড়িয়ে আছে ছেঁড়া জামাকাপড়, ভাঙাচোরা বাসনকোসন, বহুদিনের অনাদরে জমে-ওঠা অপ্রয়োজনীয় জিনিসের স্তূপ। এমন সময় গলির ভেতর দিয়ে এক ফেরিওয়ালা হাঁক দিতে দিতে চলে যায়…ফুল চাই, মাটির পুতুল…। তার সেই দীর্ঘ টানা ডাক বাতাসে ভেসে এসে আমার ভেতরের আরেক স্তূপকে নাড়া দেয়। মনে হয়, এই ঘরেই শুধু নয়, আমার জীবনেও কত কিছু জমে আছে, ব্যবহারের অযোগ্য, তবু ফেলে দিতে না পারা; কত সম্পর্কের ভাঙা টুকরো, কত বিনিময়ের হিসাব, কত সঞ্চয়ের মিথ্যে অহংকার, যার শেষ পরিণতি অর্থহীনতার মধ্যেই।
জীবনের যে-ভিত্তির ওপর একদিন নিশ্চিন্তে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম, আজ তা-ই ভেঙেচুরে এক অনিশ্চিত পাদপীঠের মতো মনে হয়। সেখানে উর্বরতার বদলে পড়ে আছে শস্যশূন্য মাঠের নির্জনতা; সবুজের বদলে অনুপস্থিতির হাহাকার। যে-শ্যামলতা একদিন দৃষ্টিকে জুড়িয়েছিল, তা যেন অদৃশ্য কোনো তস্কর নিঃশব্দে তুলে নিয়ে গেছে। চারপাশে নেমে আসে এক ঘন, জমাট, স্তব্ধ কুয়াশা, যেন দিন নিজেই তার দীপ্তি হারিয়ে ফেলেছে, আর সময় কেবল এক ম্লান বিষণ্নতার ভেতর দিয়ে টেনে নিয়ে চলেছে আমাকে।
তবু এইসব অসমাপ্ত, অব্যবস্থিত, তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দেওয়া টুকিটাকির প্রতিই আমার অদ্ভুত মমতা জাগে। কারণ তাদের গায়ে লেগে থাকে সময়ের দাগ, স্পর্শের উষ্ণতা, হারিয়ে-যাওয়া দিনের আবছা আলো। তারা নিছক জঞ্জাল নয়; তারা স্মৃতির রক্ষক, বিস্মৃত জীবনের নীরব সাক্ষী। কখনো তারা একরাশ রাঙা আগুনের মতো হঠাৎ দীপ্ত হয়ে ওঠে, কখনো আবার পুরোনো সিন্দুক-খুলে-দেওয়া গোপন মঞ্জুষার মতো অতীতকে সামনে এনে দাঁড় করায়। সেজন্যই মনে হয়, থাক না এই পুরোনো জঞ্জাল, থাক তাদের অগোছালো উপস্থিতি।
আজ ফেরিওয়ালা ফিরে যাক। তার ডাক গলির বাঁক পেরিয়ে দূরে মিলিয়ে যাক; আর আমি বসে থাকি আমার এই অমূল্য অপ্রয়োজনীয়তার পাশে, যেখানে জঞ্জালের ভেতরেও স্মৃতি জেগে থাকে, আর অর্থহীনতার ভেতর থেকেও জীবনের এক গোপন মানে ধীরে ধীরে উঁকি দেয়।
খেলার ভূগোল
আমার ঘরের ভেতরেই আমার ছোট্ট মেয়েটি প্রতিদিন আর-একটি ঘর গড়ে তোলে; খেলার ঘর, কল্পনার ঘর, আপন সংসারের এক ক্ষুদ্র অথচ পূর্ণ জগৎ। সেখানে বর-বউ আছে, গৃহস্থালির ব্যস্ততা আছে, কাদা মেখে বানানো পায়েস আছে, আছে ক্ষণিকায় গড়ে ওঠা কত-শত রঙিন আয়োজন। সেই খেলারই আর-এক নাম জীবন; নিরন্তর প্রসারমান, অন্তহীন, প্রখর দুপুরের অন্তর্গত এক বিস্তৃত অনন্ততা।
আমরাও যেন এই পৃথিবীতে রংমাখা পুতুলমাত্র। বিছানায় ছেঁড়া কাঁথা থাকলেও আমরা তার ওপরই মোহরের মুখ এঁকে যাই, কখনো একসঙ্গে, কখনো একা, কখনো পরস্পরের ভরসায়। জীবনের নির্মল প্রভাতে কতবার শ্যামছায়া অরণ্যের নত শিয়রে ঝড় নেমে আসে, কতবার পৌষের অন্তিম প্রান্তরে আহত কঙ্কালের মতো শূন্যতা ছড়িয়ে পড়ে। তবু সেই বিরান ক্ষয় শেষ হলে আবারও দুলে ওঠে সবুজ পল্লব, আবারও ফিরে আসে নবীন সঞ্চার। এই ঘন সবুজে ভরা বনাঙ্গন, এই ভাঙা-গড়ার অন্তহীন লীলা, এরই নাম খেলা।
যা ভাঙে, তা-ই শাশ্বত
ভুবন হয়তো জয় করা যায়, কিন্তু হৃদয়কে কি জয় করা যায়? হৃদয় তো এমন কোনো খেলনা নয়, যাকে ইচ্ছেমতো হাতে নেড়ে, ভেঙে, আবার গড়ে নেওয়া যায়। তাকে আঘাত করলে সে ভাঙে, আর সেই ভাঙন বার বারই নিজের গভীর প্রতিধ্বনি তোলে।
পর্দায় নীল রং মাখানো সহজ, কিন্তু আকাশের নীল কি এভাবে ধরা যায়? সূর্য তো প্রতিটি প্রভাতে অবধারিত দীপ্তিতে জেগে ওঠে, অথচ মানুষের উঠোনে প্রতিদিন দীপ জ্বলে না, বুকের অন্তরালেও প্রতিদিন মাধবীলতা ফোটে না।
যা একদিন ফোটে, তার নিয়তি ঝরে পড়া। যা ঝরে যায়, তা-ই শেষে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আর যা মাটিতে মিশে যায়, তার দেহ থাকে না, তার নামও ক্রমে লুপ্ত হয়, তবু এক অদৃশ্য সুরভি থেকে যায়, নিঃশব্দে, গভীরে, পরের বসন্তের জন্য।
অঙ্কুরের অভিমান
মাটির গভীরে যখন অঙ্কুরের গোপন জাগরণ শুরু হয়, তখন তার সংবাদ কেউ পায় না; কোনো চোখ তা দেখে না, কোনো কানে পৌঁছয় না তার নিঃশব্দ উন্মেষ। অথচ স্নেহমগ্ন আত্মার অন্তস্তলে তখনই সঞ্চিত হতে থাকে এক দীপ্ত, উচ্ছল, স্পন্দিত আনন্দের ভাণ্ডার।
অঙ্কুর বারণ মানতে জানে না। তার স্বভাবই ঊর্ধ্বমুখী, তার প্রাণেই প্রোথিত বিস্তার। সে একসময় উৎসুক আকাশের দিকে মেলে ধরে পল্লবের সবুজ ডানা, আর নিজের সমস্ত উচ্ছ্বাস, সমস্ত ভার, সমস্ত ঋণ তুলে ধরে রৌদ্রের সামনে, শিশিরের সামনে। সেই সময় মাটি নিঃশব্দে কাঁদে, এক গভীর, বেদনামথিত বিষাদের মতো।
তবু অঙ্কুর একদিন মাটি ভেদ করে উঠে আসে। আর একবার যখন সে আলোর মুখ দেখে, তখন তাকে আর রুদ্ধ করে রাখা যায় না।
সময়ের হিজিবিজি
সময়ের খেয়ালি খাতায় কত যে এলোমেলো অঙ্ক লেখা থাকে—ভাঙা হালের স্মৃতি, কোমল সবুজের আরম্ভ, কোনো অচেনা গ্রামের বিষণ্ন-সুন্দর বিকেল। কখনো কুয়াশার কিনারা ভেঙে ভেঙে ভোরের মুখ ফুটে ওঠে; সেখানে থাকে কালি, ঘাম, রক্ত, প্রতারণা, আর তাদের ভেতরেই লুকোনো কোনো ছায়ানট সুখের ক্ষণস্থায়ী অনুরণন।
তবু মানুষের বুকের অন্ধকার গহ্বরে, সুযোগ এলেই, এমন এক মধু জমে ওঠে, যা সব প্রতিযোগিতা, সব লড়াই, সব অর্জনের বিস্ময়কে ছাপিয়ে যায়। জীবন তুচ্ছ, তবু সে চিহ্ন রেখে যায়; ক্ষুদ্র, তবু সে অনিবার্যভাবে স্বাক্ষরিত।
ভালোবাসা অনেকসময় অর্থহীন এক নাম বলেই মনে হয়; অথচ সময়ের এই অনিয়মিত হিসেবের ভেতর পরিশ্রমী জীবনের প্রকৃত মূল্য বোধ হয় সেখানেই লুকিয়ে থাকে। কাগজে-কষা হিসেব কখনোই পুরো মেলে না, তবু মানুষ লিখে যায়, আবারও লিখে যায়।
যে-মুখ আকাশগঙ্গা হয়ে নামবে
তোমার পূর্ণ মুখটি ধরতে চেয়েছি কতবার, রং বদলে, মাটি বদলে, ইজেল বদলে, বার বার। অর্ধেক-আঁকা প্রতিচ্ছবি মুছে ফেলেছি, শুকনো রং খসিয়ে আবার এঁকেছি নতুন রেখা, নতুন প্রোফাইল। তবু না, কোথাও যেন ঠিক তোমাকে ধরা গেল না।
আমার সেই অলৌকিক কৈশোরের কিনারায়, দুপুরের রোদের জরিতে-মোড়া যে-মুখ একদিন হঠাৎ দীপ্ত হয়ে উঠেছিল, তার সঙ্গে কাকে যে মেলাই! কত শহরে, কত জনপদে, কত অচেনা সীমানায়, নিমগ্ন দিগন্তের কত দূর প্রান্তে আমি তাকে খুঁজে ফিরেছি। তবু কোথাও তার পূর্ণ মিল পাইনি।
অথচ সেই অধরা মুখটি আজও আমার সমস্ত উজ্জ্বল মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে; আমার কান্না, আমার অন্তর্গত বিষণ্ণ অন্ধকার, সব কিছুকে সে এক উদার আলিঙ্গনের মতো ঢেকে রেখেছে। তাই এই অপেক্ষা ফুরোয় না। জীবনজুড়েই যেন তার প্রতীক্ষা। মনে হয়, একদিন-না-একদিন তোমার মুখের সেই সোনালি আভা আমার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইচ্ছেদের স্মৃতিভূমিতে গলিত আকাশগঙ্গার মতো নেমে আসবে।
শিশিরের শরীরে কবিতা
তুমি আর সেই ভাস্কর্যসম ঝকঝকে, অলংকারময় মুখাবয়ব নও। তোমার লাবণ্যময় শরীরের গঠনতন্ত্র ভেঙে দিয়ে তুমি রমণীয় শব্দগুলিকে নামিয়ে এনেছ ছন্দের উঁচু মিনার থেকে জীবনের কর্কশ, অসমতল প্রান্তরে। তাই তোমার পক্ষে এখন অলংকারখচিত মেখলা ঝরিয়ে ফেলা ছাড়া আর উপায় নেই।
এখন খোলা মাটির ওপর নেমে আসে কংক্রিটের নিরন্তর আঘাত; শ্বাসের সঙ্গে মিশে যায় বার্ধক্যের গন্ধ। বাহ্যিক সবুজ পল্লবে আর আগের মতো আলিঙ্গনের আশ্বাস নেই, সব কিছুই যেন বিষণ্ণ, ধূসর, বহুখণ্ডিত। তুমিও তেমনি বহুস্তর, বহুরূপ, বিচ্ছিন্ন অথচ একাকার।
তবু দিনশেষে, তারা-জ্বলা আকাশের নিচে, ধোঁয়ার নিরীহ শরীরটিকে যখন দেখি, তখনও মেঘের ভাঁজে ভাঁজে অন্য কোনো রং খুঁজি, অন্য কোনো চঞ্চল সুরভির আভাস পাই। আর আজকাল মনে হয়, তোমার সেই নির্মম প্রতিমা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে আমি বুঝি জীবনের অন্তিম বাঁকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
জনতার নদী
এখনও ঘামের ভেতর আকাশ দুলে ওঠে; মাটির গন্ধমাখা রৌদ্র যেন ডানাওয়ালা এক অদৃশ্য মিছিল হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় গভীর, গুপ্ত আকুলতা। সেই স্পন্দন কেবল দৃশ্য নয়, কেবল প্রকৃতি নয়, তা যেন অন্তর্লীন কোনো ডাক, কোনো অস্থির, অব্যক্ত টান।
এ শুধু নদী নয়, শুধু একটি নামও নয়; এ যেন একবুক ঢেউ-তোলা জনসমুদ্র, এক জমাট উচ্ছ্বাস, এক অনির্বচনীয় সঞ্চার। ধানসিঁড়ি তাই কেবল স্থান নয়, সে একরাশ অমোচিত কথা, জমে-থাকা স্মৃতি, অপ্রকাশিত উচ্চারণ।
কখনো শিশিরের শব্দ নিঃশব্দে এসে ছুঁয়ে যায় অন্তরের নিভৃত আলোড়নকে; তখন আর কিছুই থাকে না, শুধু নতমুখে স্থির-হয়ে-থাকা সামান্য কিছু সময়। কোনো এক বিভোর সকালে হঠাৎ দেখি, শূন্যহাত শিমুলের ডালে আগুনের মতো জ্বলে উঠেছে লাল দীপ্তি।
দুই তীর স্থির থাকে, জল বয়ে যায় নিরবধি, আর শিমুল? সে দাঁড়িয়ে থাকে একা।
মেঘমেদুর বিকেলের আমন্ত্রণ
আমায় নিয়ে চলো সেই নতজানু গাছের ছায়ায়, পুঁইমাচার স্নিগ্ধ সবুজে, শাকক্ষেতের নিবিড়তায়, গোয়ালের ঘাসের গন্ধে, রৌদ্রে-দগ্ধ ক্ষেতের উন্মুক্ত পাঁজরের কাছে। ঋতুর নিজস্ব রঙে আমাকে ছড়িয়ে দাও মাঠের পর মাঠে, মুঠো মুঠো কোমল মসুরের বিস্তীর্ণ সবুজের ভেতর, যেন আমি মাটিরই এক নীরব বিস্তার হয়ে যাই।
তুমি এসো—উজ্জ্বল, উদ্ভাসিত হয়ে। গ্রাম ও গঞ্জের সহজ জীবন, কৃষকের অকৃত্রিম কবিতা, গভীর কণ্ঠের এক অন্তর্মুখী গায়কের মতো এসো। তোমার দু-চোখে কাজলের আয়োজন না থাক; থাক বরং এমন এক বিকেলের মগ্নতা, যা মেঘ আর রোদের মেলবন্ধনে অন্তরঙ্গ আকাশ হয়ে ওঠে।
একটি স্থির, নির্ভয়, অনাবিল ছবির মতো এই বিকেলের দিকে ফেরো।
প্রথম ভালোবাসার সংকেতলিপি
কখনো কখনো মনে হয়, সমস্ত আকাশ হঠাৎ আমার মুঠোর ভেতর এসে ধরা দিয়েছে। বুকের গভীরেও তখন নিঃশব্দে ভেসে ওঠে অচেনা কোনো সুখের উচ্চারণ। মন আমার উড়তে থাকে, উড়তেই থাকে; আর আমি বিস্ময়ে দেখি, প্রথম ভালোবাসার আবেশে ভেজা কোনো ছবির ডালে ডালে অগণিত কিশলয় জেগে উঠেছে।
বিকেলটিও তখন মৃদু, নরম, হালকা নীল, যেন কেউ আসবে, অথবা কারো আসার কথা ছিল। অথচ কত দিন সে আসে না। সেই প্রতীক্ষা বাতাসে লেগে থাকে, আলোয় লেগে থাকে, নীরবতার গায়েও তার আভাস থাকে।
বুকের গোপন অলিগলিতেও যেন কারো শরীরের অনামা স্পর্শ টের পাই; কোনো অদৃশ্য হাত আমাকে জলছবির মতো আঁকতে থাকে। ধীরে ধীরে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।
আর ঠিক সেই সময়, ঘুমের গভীরে, আকাশ আবার আমার মুঠোর মধ্যে নেমে আসে। আধো-ঘুমের সেই স্বপ্নে নিজেকে ক্রমাগত ছড়িয়ে দিতে দিতে আমার শুধু তোমার কথাই মনে পড়ে। আশ্চর্যের কথা, এর আগে তোমাকে কোথাও কোনোদিন দেখিনি বলেই মনে হয়; তবু তোমার দীর্ঘ সবুজ শাড়ি, কালো চুলের নিপুণ ঢেউ, এসব যেন আমার প্রথম ফোটা কবিতারই ভাষা, আমার অচেনা অথচ আপন উচ্চারণের প্রথম জন্ম।
যেখানে আলো গাঢ় হয় অন্ধকারে
নদীর দু-ধারে দুই পাড় অনড় হয়ে থাকে, তবু দুপুরের তৃষ্ণা জ্বলে-পুড়ে শেষ হয় না। যেমন আলো জ্বালালেই অন্ধকার একমুহূর্তে বিলীন হয়ে যায় না, সে ধীরে ধীরে সরে যায়, আবার ঘরের কোণে কোণে আশ্রয় নিয়ে লুকিয়েও থাকে।
হৃদয়ের পথও তেমনি চোরাবালির মতো বিপজ্জনক; সেখানে শুধু রং আর তুলি হাতে নিলেই ছবি সম্পূর্ণ হয় না। অনুভবের ভেতর দিয়ে, ডুবে যেতে যেতে, বার বার নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ফেলতেই তার রেখা ধরা পড়ে।
এই নদী পার হওয়া কঠিন, অথচ না পেরিয়েও উপায় নেই। জীবনের কিছু সীমানা আছে, যেগুলো অতিক্রম করতেই হয়…ভয় নিয়ে, দ্বিধা নিয়ে, তবু যেতে হয়।
আর মাঝনদীতে একটি নৌকা অপেক্ষা করে; নিঃশব্দ, শূন্য, দড়িতে বাঁধা। যেন কারো জন্য, কোনো এক অনিবার্য যাত্রার জন্য।
যতটুক রয়ে গেল: দুই
লেখাটি শেয়ার করুন