গল্প ও গদ্য

আবারটুকুই জীবন: তেইশ



তাই সেই মানুষটি তোমার একান্ত পৃষ্ঠপোষক সন্তের মতো। স্থিরদের সন্ত, অপেক্ষাকারীদের সন্ত, যারা নড়ে না, তবু শেষপর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুপস্থিতও নয়। যারা যেখানে আছে, সেখানেই বসে থাকে; পাহাড়ের ছায়ায়, জানালার ধারে, চেয়ারে, ঘরে, ধূসরের ভেতর। আর এই বসে থাকা, এই না চাওয়া, এই না জানার মধ্যেই তারা যেন এক বিশেষ তৃপ্তি পায়, যে-তৃপ্তির সঙ্গে জয় বা প্রাপ্তির কোনো সম্পর্ক নেই।

কিন্তু এই পাহাড়, এই ছায়া, এই পাথর, এই অপেক্ষার আগেও একধরনের স্বপ্ন ছিল। করিডোরের স্বপ্ন নয়, হাতের স্বপ্ন নয়, অন্যরকম স্বপ্ন। মেয়েদের স্বপ্ন। মেয়েরা ছিল সবসময়। থামার আগেও, থামার পরেও, রূপ বদলে বদলে। একবার, চলার দিনের মধ্যে, তুমি দেখেছিলে, যখন মেয়েরা তখনও জিনিসের ভেতর ছিল, জগতের ভেতর ছিল, যখন সুতো তখনও ছিঁড়ে যায়নি, যখন নাম এখনও তলায় ডুবে যায়নি।

স্বপ্নে তুমি এক যুবককে দেখেছিলে। সে তুমি, কিন্তু তরুণ। তবু তার ভেতরে আগেভাগেই ক্লান্তি ছিল। সে আগেই ছায়ার দিকে কাত হচ্ছিল, পাথরের দিকে টান অনুভব করছিল। তার চারপাশে মেয়েরা আসছে যাচ্ছে। জোয়ার-ভাটার মতো, কাছে এসে আবার সরে যাচ্ছে, উষ্ণ হয়ে আবার ঠান্ডা হয়ে উঠছে। আর যুবকটি তাদের মধ্যে বসে আছে, ঠিক যেমন তুমি এখন ঘরের জিনিসগুলোর মধ্যে বসে থাকো। সে জানে না, কী করবে তাদের নিয়ে। জানে না, তারা তার কাছে কী চায়। এমনকি, নিজে তাদের কাছে কী চায়, তা-ও জানে না। আদৌ কিছু চায় কি না, সেটাও অস্পষ্ট।

সেই মেয়েদের স্বপ্ন ছিল থামার প্রারম্ভিক সংকেত। প্রথম ইঙ্গিত যে, চলা শেষপর্যন্ত টিকবে না। যুবকটি তখনও বুঝতে পারেনি, কিন্তু তার ভেতরে ইতিমধ্যেই বসে ছিল এই ঘরের বুড়ো মানুষটি। চেয়ারে, ধূসরে, স্থির। যুবক জানত না; বুড়ো জানে। তাই এখন বুঝতে পারো: যে-স্বপ্নটি তখন দেখেছিলে, তা আসলে থেমে যাবারই স্বপ্ন ছিল। মেয়েরা সেখানে কেবল মেয়ে ছিল না; তারা ছিল জগতেরই একাধিক রূপ। আবির্ভাব, উষ্ণতা, স্পর্শ, সম্ভাবনা, ক্ষণস্থায়ী দৃশ্যমানতা।

আর যুবকটি তখনই সেগুলো হারাতে শুরু করেছিল। পৃথিবীকে ধরতে চেয়েছিল, পারছিল না। যেমন তুমি কোনোদিনই পারোনি। মেয়েরা ছিল সেই পৃথিবী, যা আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে যায়। নামের মতো, সুতোর মতো, স্মৃতির মতো, সব কিছুর মতো। আঙুলের ফাঁক দিয়ে নেমে যায়, যেন আঙুল আদৌ ধরার জন্য তৈরি ছিল না। শুধু স্পর্শ করার জন্য, টের পাবার জন্য, আর হারিয়ে যাওয়া অনুভব করার জন্য।

কিন্তু হারিয়ে যাবার আগেও, একমুহূর্তের জন্য, সংযোগ ঘটে। যেমন কোনো কোনো শব্দ হঠাৎ এসে তোমার সঙ্গে জুড়ে যায়। একটি সরু, অদৃশ্য সুতো। মেয়ের সঙ্গে যেমন ছিল, তেমনি শব্দের সঙ্গেও। তুমি আর শব্দ। একমুহূর্তের জন্য যুক্ত হয়ে যাও। তারপর সেই সংযোগ নিঃশব্দে সরে যায়। সুতোর মতোই। যেমন সব কিছু যায়। শব্দ আবার শুধু শব্দ হয়ে থাকে। তুমি পরের লাইনে চলে যাও। তারপর আরও পরের লাইনে। কিছু আর আটকায় না।

এভাবেই পাতা পেরোয়, ঘণ্টা পেরোয়, দিন পেরোয়, যতক্ষণ না আবার কোনো একটি শব্দ এসে হঠাৎ পেরেকের মতো দাঁড়ায়, আর তার সঙ্গে একঝলক তোমার সংযোগ হয়। তারপর আবার শূন্য। আবার অপেক্ষা। আবার পড়া। আবার ধূসরতা। আর তারই মধ্যে, চুপচাপ, অব্যাখ্যাতভাবে, জীবন তার ক্ষুদ্রতম উজ্জ্বল মুহূর্তগুলো টিকিয়ে রাখে।

এখন তোমার পড়া বলতে এইটুকুই। অপেক্ষা। কোনো এক শব্দের জন্য, যে হঠাৎ এসে থামিয়ে দেবে, একমুহূর্তের জন্য ধরে রাখবে, তারপর আবার ছেড়ে দেবে। আর ছেড়ে দেওয়াটাও পড়ারই অংশ; যেমন বেঁচে থাকাও একঅর্থে এই ধরা আর ছেড়ে দেবার অন্তহীন অনুশীলন। কিছুই স্থায়ীভাবে ধরা থাকে না, তবু ধরা হয়। কিছুই স্থায়ীভাবে চলে যায় না, তবু ছেড়ে দেওয়া হয়। এই পুনরাবৃত্তিই এখন তোমার পাঠের প্রকৃত গতি।

বই আছে কয়েকটি। দেয়ালে পেরেক গেড়ে তক্তা বসিয়ে বানানো এক ছোটো তাক। ছয়টি, কিংবা সাতটি, তুমি গোনোনি। গোনার দরকারও পড়েনি। সব বই পড়া হয়েছে বহুবার। কোনোটি অনেকবার, কোনোটি আরও অনেকবার। বই বদলায় না, একটুও না। শব্দ একই, লাইন একই, পাতা একই। তবু প্রতিবার পড়লে তাদের অন্যরকম লাগে। কারণ বই একই থাকে, তুমি বদলাও। আর তুমি বদলালে বইও বদলে যায়। নিজের ভেতর নয়, তোমার ভেতরে। প্রতিটি নতুন পাঠ যেন একটি নতুন জগৎ, যেখানে একই শব্দগুলো সামান্য সরে গিয়ে আরেক রকম অর্থ ধারণ করে। আটকানোর জায়গা বদলে যায় বলে। যে-পেরেকে সুতো আটকে থাকত, সে পেরেক আর আগের জায়গায় নেই।

গতকাল যে-শব্দ থামিয়েছিল, আজ তা স্রোতে ভেসে যায়। আর যে-শব্দটি গতকাল একেবারেই ধরা পড়েনি, আজ এসে দাঁড়ায় দরজায়। তখন কখনো কখনো মনে হয়, বই যেন তোমার অগোচরে রাতের বেলা নিজেকে পুনর্বিন্যস্ত করে নিচ্ছে। তুমি না দেখার মধ্যে শব্দগুলো নিজেদের স্থান বদলায়, নিঃশব্দে সরতে থাকে, যেমন ঘরের জিনিসপত্রও কখনো কখনো চেতনাহীন চোখের আড়ালে অন্য অর্থ নিতে শুরু করে। তুমি ফিরে এসে বই খুললে দেখো, সব একই আছে, তবু কোথাও যেন নতুনভাবে বসেছে। ঠিক যেমন হাত বাটির পাথরগুলোকে টেবিলে সরিয়ে সরিয়ে এমন একটি বিন্যাসের খোঁজ করে, যা কোনোদিন পাওয়া যাবে না। তেমনি বইও যেন খুঁজছে এক অসম্ভব বিন্যাস। তুমিও খুঁজছ। আর এই একসঙ্গে খোঁজাটাই শেষপর্যন্ত তোমাদের সম্পর্ক।

বিশেষ একটি বই আছে, যাকে তুমি বর্ণনা করতে পারো না। কারণ বর্ণনা করলেই তাকে বেঁধে ফেলা হবে, আর সে বই বাঁধা পড়তে রাজি নয়। অন্য বইগুলো তুমি পড়ো, নামিয়ে রাখো, কিছুদিন পরে আবার তোলো। কিন্তু এই বইটিকে নামিয়ে রাখতে পারো না। কিংবা বলা ভালো, এই বই তোমাকে নামাতে দেয় না। তোমরা যেন একসঙ্গে ডুবছ, আর তবু ছাড়তে পারছ না একে অন্যকে। বাকি সব বই যখন ব্যর্থ হয়, যখন অন্য সব শব্দ গলে গিয়ে কোনোখানে আটকায় না, এই বই তখনও কিছু-না-কিছু আটকে রাখে। প্রতিবার আলাদা শব্দে, আলাদা জায়গায়, কিন্তু প্রতিবারই।

তুমি একে কখনো কখনো জোরে পড়ো। জোরে। যদিও সে জোর মুখের বাইরে খুব বেশি বেরোয় না; খুলির ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে। তবু জোরে পড়ার একটি ভঙ্গি আছে, একটি কায়া আছে। যেন ঘরে দু-জন বসে আছে। একজন পড়ছে, আরেকজন শুনছে। পাঠক আর শ্রোতা। দু-জনই তুমি। একই চেয়ারে, একই জানালার ধারে, একই আলোয়। একজন চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে শব্দের ওপর, অন্যজন মন দিয়ে শুনছে।

আর এই শ্রোতা কখনো কখনো টোকা দেয়। খুব সূক্ষ্মভাবে। ঠক, ঠক। মোর্স-কোডের মতো, যেন শব্দের ভেতরে কোনো বার্তা আছে, কিন্তু তা পড়তে গেলে আবার শুনতে হবে। তখন পাঠক থেমে যায়, পেছনে ফিরে যায়, আবার পড়ে একই অংশ। শ্রোতার একবারে হয়নি, দু-বার লেগেছে, কখনো তিনবার। কখনো মনে হয়, সবসময়ই আরও একবার লাগে। এই টোকা প্রার্থনার মতো, আর ফিরে গিয়ে আবার পড়া, এ একটি ছোটো ধর্মানুষ্ঠান। একই শব্দ বার বার উচ্চারিত হয়, যতক্ষণ না শব্দের পরিচিত চামড়া খুলে যায়। যতক্ষণ না শব্দ আর শব্দ থাকে না, আওয়াজ হয়ে যায়। আর সেই আওয়াজ ধীরে ধীরে গলে পৌঁছয় সেই আদি নীরবতায়, যা ভাষার অনেক আগের, বাক্যের অনেক আগের, অর্থেরও আগের।

তখন পাঠক আর শ্রোতা, দু-জনেই তুমি, চুপ করে বসে থাকো। বই খোলা থাকে কোলে। ঘরে কিছু নড়ে না। কিছু নড়বার দরকারও হয় না। শব্দের পরে যে-নীরবতা আসে, সেটাই তখন পড়ার প্রকৃত সমাপ্তি, বা সমাপ্তির বদলে সেই বিরাম, যাকে শেষ বলে ভুল করা যায়।

কখনো কখনো, এর পরে, বই বন্ধ করে তাকেই আবার তক্তায় ফিরিয়ে রাখার সময়, তোমার ভেতরে কিছু হালকা নড়ে ওঠে। ভাবনা নয়। অনুভূতিও নয়। মাঝামাঝি কিছু। একে তাগিদ বললে বেশি জোরালো হয়ে যাবে; ঝোঁক বলাই ভালো। এক খুব হালকা ঝোঁক, প্রকাশের দিকে। যেন পড়াশেষে কিছু তলানি পড়ে থাকে। অর্থের তলানি নয়, জ্ঞানেরও নয়, বরং বলার প্রয়োজনের এক ক্ষীণ অবশেষ। তুমি জানো, বলার মতো সত্যিকার কিছু নেই। কোনোদিন ছিলও না। বইটি যা বলার ছিল, বলে ফেলেছে। আর তবু তা যথেষ্ট হয়নি। তোমার যোগ করারও কিছু নেই। একটি শব্দ নয়, একটি নিঃশ্বাসও নয়। তবু সেই ঝোঁক আসে। বলা যায় না এমন কিছুর দিকে। কিছু না বলেও বলার দিকে।

এখানেই ড্রয়ারে-রাখা পেনসিলটির কথা মনে পড়ে। ছোটো, ঠুঁটো, অনেকখানি খরচ হয়ে গেছে। একদিকে কাঠ উঠে এসেছে, তার মধ্যে সিসের ধূসর দাগ দেখা যাচ্ছে, শিরার মতো। যেন পেনসিলেরও রক্ত আছে। সিসের রক্ত, ধূসর; কাঠ তার হাড়, রং তার চামড়া। বেঁচে থাকার শেষ চিহ্নটুকু এখনও দেখা যায়। তাকে বহুবার ধার দেওয়া হয়েছে। শার্পনারে নয়, ছুরি দিয়ে, অনভ্যস্ত হাতে। প্রতিবারই একটু বেশি কেটে গেছে। ফলে পেনসিলটি ছোটো হয়েছে মূলত লেখায় নয়, ধার দেবার প্রক্রিয়ায়। ব্যবহার যতটা না ক্ষয় করেছে, প্রস্তুতি তার চেয়ে বেশি করেছে। লেখার আগের আয়োজনই লেখার যন্ত্রকে শেষ করে দিয়েছে, লেখা শুরু হবার আগেই।

এ কথা তুমি জানো। শুধু পেনসিলের দিকে তাকিয়ে নয়, অভিজ্ঞতা থেকেও। বহু কিছুই তো এমন হয়েছে তোমার জীবনে। প্রস্তুতি খরচ হয়ে গেছে কাজে নামার আগেই। বলার আগেই বাক্য ফুরিয়েছে। পৌঁছবার আগেই পথ ক্ষয়ে গেছে। তবু পেনসিলটি এখনও আছে। ছোটো, ক্ষয়িত, তবু ফেলা হয়নি। কারণ হয়তো সেই সামান্য সিসই এখনও যথেষ্ট। একটি দাগের জন্য, একটি চিহ্নের জন্য, একটি প্রায়-অদৃশ্য বাক্যের জন্য, যা লেখা না হলেও, লেখার সম্ভাবনা হয়ে টিকে থাকে। আর কখনো কখনো সম্ভাবনাই শেষ আশ্রয়।

যে-প্রস্তুতি জিনিসকে ব্যবহারযোগ্য করার বদলে তাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে ফেলে, যেমন ধার দিতে দিতে পেনসিল ছোটো হয়ে আসে, তেমনি ভাবতেও ভাবতে ভাবনা কখনো কখনো নিঃশেষ হয়ে যায়, চিন্তা চিন্তা হয়ে ওঠার আগেই উবে যায়।

এখন পেনসিলটি ঠুঁটো। দুই ইঞ্চি হবে, হয়তো তারও কম। আঙুলে তা ঠিকমতো বসে না। শক্ত করে, অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে ধরতে হয়। হাতে ব্যথা করে। ধরার কায়দা বদলালেই অক্ষরের আকার বদলে যায়। কখনো অতি বড়ো, কখনো অকারণে ক্ষুদ্র। এই পেনসিল দিয়েও লেখা যেত, চাইলে। কোনো খামের পিঠে, কোনো পুরোনো রসিদের উলটোদিকে, বইয়ের মার্জিনে। দু-চারটি শব্দ ফেলে দেওয়া যেত। কিন্তু কী লেখা হবে? লেখার মতো কিছুই তো নেই। তবু পেনসিলটি ড্রয়ারে রয়ে গেছে। ঠুঁটো, ক্ষয়িত, অপেক্ষায়। এমন কোনো ব্যবহারের জন্য অপেক্ষা, যা আসে না; হয়তো আর আসবেও না।

এবং অদ্ভুত এ-ই যে, ব্যবহার করা না হলেও পেনসিল ক্ষয়ে যায়। ড্রয়ারের ভেতরেই, নিস্ক্রিয় অবস্থাতেও। যেন পেনসিল হয়ে থাকার নিজস্ব এক ভার আছে। লিখবার জন্য তৈরি হওয়া অথচ লিখতে না পারা, এ-ও একধরনের ক্ষয়। তুমি বুঝতে পারো, কারণ তোমার নিজের অবস্থাও তার থেকে খুব আলাদা নয়। তুমিও তো ক্ষয়ে যাচ্ছ বসে থাকতে থাকতে। পেনসিল যেমন ছোটো হচ্ছে, তুমিও তেমনি। দু-জনেই একটু একটু করে আয়তনে কমে যাচ্ছ। একজন কাঠে, আরেকজন কালের মধ্যে।

একসময় যন্ত্র ছিল, এখন সে যন্ত্র নিজের কাজের চেয়ে ছোটো হয়ে এসেছে। এমন ঠুঁটো, যাকে ধরা যায় না; এমন শরীর, যাকে আর সহজে বহন করা যায় না। ধার দিতে দিতে পেনসিলের সিসই ফুরিয়ে আসে, শেষে কেবল কাঠ বাকি থাকে। খালি কাঠ, শিরাহীন, চিহ্নহীন। তখন আর তাকে পুরোপুরি পেনসিলও বলা যায় না। কাঠি বলা যায়, কিন্তু কাঠিও ঠিক নয়। কাঠিরও একরকম পূর্ণতা আছে, সেটুকুও নেই। যেন কেবল একটুকরো অবশিষ্ট, যা একসময় পেনসিল ছিল। এমনটাই হয়। সাধারণ নিয়মে। অনেককিছুই ব্যবহারে যতটা না শেষ হয়, তার চেয়ে বেশি শেষ হয় প্রস্তুতিতে। শুরু হবার আগেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *