তোমায় ছুঁয়ে যা যা পেয়েছি, তার কাছে বাকি সবকিছুই মিথ্যে। পৃথিবীতে কেউই কোনোদিন জানবে না, আমি আর তুমি কাছাকাছি এলে কতটা কোয়ালিটি টাইম কাটাই! তা কেবল আমরা দু-জনই জানি। পৃথিবীর সেরা প্রশান্তির জুটি আমরা। কেউ কাউকে কোনোভাবেই আটকাই না, তবু দু-জন দু-জনাতেই ঠায় আটকে থাকি।
একবার নিভৃতে আমায় ভাবলে টের পেতে, কতটা জুড়ে তোমায় রেখেছি। উঁহু, ভাবতে যেয়ো না, একেবারেই ঘেঁটে যাবে। আমি তোমায় নিয়ে হাজারো গল্প করতে চাই বলেই তোমার সবচাইতে প্রিয় বন্ধুকেই বেছে নিয়েছি, তোমায় হারাতে চাই না বলেই ওর ঘরনি হবার কথা ভেবেছি। আমি তোমারই আছি, রয়ে যাব। তোমার ঘেঁটে থাকা সইতে পারি না আমি।
প্রতিবারই যখন তোমার কাছ থেকে চলে আসি, ভয় কাজ করে, আবার দেখা হবে তো! আজও রুমটা থেকে বের হবার সময় শূন্যতা জেঁকে ধরেছিল। আমি শুধু বাঁচতে চাই তোমাতে, ওইটুকুন দিয়ো শুধু। আর পুরো পৃথিবীর প্রশান্তি তুমি আমায় ভাবলেই পেয়ে যাবে। ভালোবাসা একরাশ।
আমার মরচে-পড়া জীবনটাকে একঝটকায় রাঙিয়ে দিয়েছিলে তুমি। নেতিয়ে-পড়া আমিটা কেমন সতেজ প্রাণবন্ত হয়ে উঠছিলাম তোমার ছোঁয়ায় প্রতিটি মুহূর্তে। লিকলিকে শরীরটায় যৌবন উছলে পড়তে শুরু করেছিল। তোমার কথায়, তোমার কবিতায়, গানে ও লেখায় আমি ভেতরে ভেতরে বদলে গিয়ে নতুন এক আমি'তে পরিণত হচ্ছিলাম তোমার সংস্পর্শে।
তুমি একদিন বলেছিলে, তোমায় এতটা ভালোবাসি কী করে? বোকা বাবুই, আমি তো তোমারই হৃদয়ের একটুকরো সফেদ খণ্ড থেকে তৈরি। আর কে-ইবা পারবে বলো তোমায় অমন করে ভালোবাসতে! আমার পুরোটা অস্তিত্বেই যে তুমি! দুই বছরেরও বেশি সময় পরে দেখা হলো যখন, তখনও দু-জনে ঠিক একইরকম রয়ে গেছি দু-জনাতে। মনে হচ্ছিল, মাত্র এক সপ্তাহ পরেই দেখা হলো। অমন মনের মিল কখনও কারও হয় বলো, যদি হৃদয় একটাই না হয়, তবে!
শুনেছি, প্রিয় মানুষ ভীষণ মিস করলে এ-প্রান্তে দম বন্ধ হয়ে আসে। আমি যে পাগলের মতন তোমাকে ভাবি ও ভালোবাসি, ও-প্রান্তে তুমি কি টের পাও?
তুমি যেন আমার ভাঙা-টিনের দালানবাড়ি!
ভাঙা-টিনের দালানবাড়ি
লেখাটি শেয়ার করুন