গল্প ও গদ্য

সর্ষের ঝাঁঝ

১। যখনই জিরোতে চাইবে দুই পা, থামাবে নিজেই নিজেকে একটু জিরিয়ে নেবে বলে, তখনই মনে কোরো আমায়। সমস্ত উদ্দীপনা ছেড়ে একদম ঠাণ্ডা রবে যখন হৃদয়টা, ঠিক তখন আমায় পাশে পাবে। দেখবে, আমার বুকে মাথা রেখে যে শান্তি, পৃথিবীর আর কোত্থাও তা নেই। কতদিন প্রেম করি না। চলো না, প্রেম করি আবার, আবার প্রেমে পড়ি! তুমি আমাকে একটা নতুন আমি’তে পরিণত করেছ। ভালোবাসা তোমার জন্যে। তোমায় ভালো না বেসে থাকা খুব কঠিন।

তোমায় নিয়ে অনেকেই কথা বলে। আমি ওদের ভেতরটা দেখতে পাই। এই তো কিছুদিন আগে একজনের সাথে কথা হচ্ছিল… হঠাৎ তোমার প্রসঙ্গ টেনে বলল, তোমায় নাকি আদরে-সোহাগে বই গিলিয়ে মানুষ করা হয়েছে! এই তুমি’টা মানুষের জন্যে যখন কিছু করা শুরু করলে, তখন থেকেই তোমায় ইগনোর করা মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে যেই হোক, প্রথমবার যখন কেউ তোমার কথা শোনে বা তোমার লেখা পড়ে, আমি শিওর, সে তোমার প্রেমে পড়ে। তোমার মতন হবার তীব্র বাসনায় ভোগে, একধরনের দহনে পোড়ে। তারপর একটা সময় গিয়ে ভাবে, তুমি দেবতা, নয়তো সমালোচনা করে।

ভালো না বাসতে চাইলে একটা কারণ দাঁড় করাতে হয়। তোমার নামে নেগেটিভ কিছু বললে মনের ভেতরে শান্তি পায় মানুষ। আমায় অন্তত দশ জন মানুষ বলেছে, তুমি মেয়েদের সাথে বাজে কথা বলো। প্রতি-উত্তরে আমি বলেছি, মেয়েটাকে বলার সাহস মেয়েটা নিজেই দিয়েছে। দোষ যাচাই না করে কমেন্ট করতে এসো না। আর এটা দোষ‌ই-বা হতে যাবে কেন? কেউ কি কাউকে কিছু করতে জোর করেছে অস্ত্রের মুখে?

তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা কমে না কখনও, শুধুই বাড়ে। অথবা হঠাৎ নেই হয়ে গিয়ে ঘৃণায় মোড় নেয় না। এই যে এত ভালোবাসি, কই, কমছে না তো! এখনও তোমায় ভাবলে মনে হয়, আমার সামনে বসে কথা বলছ। আমার প্রতিটা কথা এত মনোযোগ দিয়ে শুনতে তখন…বুঝিনি, এখন বুঝি, কী খুঁজে পেয়েছিলে আমার চোখে। আমি এখনও তোমার ঘ্রাণ পাই। সত্যিই পাই। এটা মিরাকল কি না জানি না। ভালোবাসা নিয়ো।

এই যে আমি তোমার সবটুকু প্রশান্তি, মাঝে মাঝে ভাবি, এই শান্তির জায়গাটুকু এত দূরে ফেলে কী করে থাকো তুমি! তারপর অজান্তেই আবার মনে হয়, এই যে আমি আছি… দূরেই হোক, আছি তো, এটাও তো প্রশান্তিই! মানুষ ছেড়ে যেতে খুব পারে, জানো? আমার মতন কেউ থেকে যেতে পারে না কেন যে...! তুমি তো একদম ভেতরে আছ, ওখান থেকে কেউ বেরই করতে পারবে না তোমায়!

জানি না, সামনে কী আছে! তুমি শুধু রয়ে যেয়ো। রয়ে যেয়ো এতটা জুড়ে, যেন কোনোদিনই আমার মনে না হয়, আমি একা। আমিও তোমার রয়ে যাব চিরটাকাল, যেখানে যেমনই থাকি।

পৃথিবীর সব্বাইকে হারিয়ে জিতে গেলেও নিজের সাথে জিততে চাইলে আগে হারতে হয় নিজেরই কাছে নির্মমভাবে, তারপর উঠে দাঁড়াতে হয়। পরেরটা কঠিনই নয় শুধু, বেশিই কঠিন। জানি না, আর দেখা হবে কি না! আমি বোধ হয় ধরে রাখতেই জানি না। কেমন করে তুমি চলে গেলে! খুব ভালোবাসাও ধরে রাখতে পারে না কাউকে। তুমি অতুলনীয়। এমন কাউকে আমৃত্যু আর পাবো না।

তুমি এমন চলে যাচ্ছ, আর আমার চোখ থেকে বৃষ্টি ঝরছে। ভালোবাসারা চিরকালই ভালোবাসা থাকে। তোমার সবচেয়ে ভালো গুণটা কী, জানো? তোমার কাউকে নিয়ে বিন্দুমাত্রও মাথাব্যথা নেই। তুমি নিজেতেই ডুবে থাকো স্বচ্ছতায়। কারও খারাপ কিছু বলতে কখনোই শুনিনি তোমার মুখে আমি। তুমি সব্বার চেয়ে আলাদা। আমায় তুমি কেন ভালোবাসো? রাগ হয় না কখনও? আমি তোমায় এতটাই ভালোবাসি, যার কোনও কারণ লাগে না। তোমাকে ছেড়ে বাড়ি আসতেও আমার ইচ্ছে করত না। বার বারই মনে হতো, ওটাই আমার বাড়ি।

তুমি আমার প্রিয় মানুষ, তাই তুমি আমার দিনগুলিকে কেমন যেন সুন্দর করে দাও, কেমন যেন নিস্তব্ধ করে দাও! তোমার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, তুমি এতটাই জুড়ে থাকো যে, তোমার ভেতরে চলে যাই, আর তখন চোখজুড়ে পানি আসতে বাধ্য! তুমি আমায় এত এত আদর করেছ যে, এতটাই পূর্ণতা দিয়েছ যে, পৃথিবীর সমস্ত আদর একফোঁটা জলের মতন লাগে ও লাগবে চিরকাল!

যদি তোমায় ভুলে যেতে পারতাম! তাহলে কি আর পুড়তাম বলো! ভুলে যাওয়াটা আশীর্বাদ, সবাইকে আল্লাহ ওটা দেয় না, বুঝলে! মশা সবসময়ই একই জায়গারই রক্ত বার বার চুষে নেয় কেন!

আর কেউ না জানুক, তুমি তো জানো, তোমার বুকের ভেতর আমার লুকোনো একটা সংসার আছে। ওখানে আমার কাঁচা হাতে রাঁধা মাছের ঝোল লেপটে আছে, আলুর ডালে ডিমের ম ম করা গন্ধ আছে, বেগুনভাজা আর আলুভর্তায় সর্ষের ঝাঁঝ আছে। আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। তোমার বুকে লুকোনো আমার একটা সংসার আছে! আমি তো জানি, শুধু ভালোবাসায়‌ও কাউকে বাঁধা যায়। আর কোনোকিছুই নেই পৃথিবীতে, যা দিয়ে কাউকে বেঁধে রাখা যায়। তোমায় ওটাই আমি দিয়েছি পুরোটা জুড়ে। আর কিচ্ছুটি ভাবিনি কখনও। তাই যখন বলো, আমায় খেয়েছ, শুনতে কেমন জানি লাগে! না না, নেগেটিভ কিছু নয়। আমি তো শুধু তোমার ভালোবাসা নিয়েছি অবলীলায়। ভালোবাসি তোমায়। একদম নিরেট এ ভালোবাসা। তোমায় হাসিখুশি প্রাণবন্ত দেখতে আমার কতটা ভালো লাগে, শুধু তুমিই জানো।

২। কলেজে পড়ুয়া বা অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েরা যখন প্রেমে পড়ে, তখন ব্যবসায়ী কিংবা চাকুরেদের পাত্তা দেয় না। তখন বয়ফ্রেন্ড ঢাবি’তে, বুয়েটে, মেডিক্যালে পড়ে, এসব ভেবে ও বলে ওরা ক্রেডিট নেয়, তা ওরা সেইম এইজের হোক, জুনিয়র হোক বা সিনিয়রই হোক। সেই মেয়েরই যখন বিয়ের কথা ওঠে, তখন সেই মেয়েই বলে, কী করব বয়ফ্রেন্ডের ঢাবি’র সার্টিফিকেট দিয়ে! ওটা ধুয়ে পানি খেলে তো আর জীবন চলবে না! তারপর বিয়ে করে ব্যবসায়ী কিংবা চাকুরেদের! সবকিছুতেই মেয়েদের ক্রেডিট চাই আজকাল! এইসব ক্রেডিট দিয়ে কী হয়, কে জানে!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *