আমাকে ভালোবেসে একটা গোলাপফুল দেবার মতনও কেউ নেই।
এখন চল্লিশ ছুঁই ছুঁই করছি, মানলাম নাহয়, কিন্তু যৌবনেও কেউ আমাকে কখনও একটা গোলাপ কিনে দেয়নি।
হ্যাঁ, নিজে কিনতেই পারি, আমার পকেটের ক্ষমতা বেশ ভালো। আমি চাইলে একটা গোলাপের বাগানই কিনে ফেলতে পারি, সেটা ঠিক আছে। তবু আমাকে মনে করে একটা ফুল কেনার কথা কখনোই কারুর মাথায় আসেনি, এই ছোট্ট ব্যাপারটাই আমাকে আজ খুব ভাবাচ্ছে। নিজের বড়ো ব্যর্থ লাগছে। আজ কেন জানি না, খুব করে একটা গোলাপ পেতে ইচ্ছে করছে।
আসলে আমার জন্য ভাত বেড়ে বসে অপেক্ষা করে থাকারও কেউ নেই। আমার স্ত্রীর সাথে শেষ কবে একসাথে বসে ডালভাত খেয়েছি, মনে করতে আমার সময় লাগবে অনেক। আমরা দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে কোথাও যখন ঘুরতে যাই, তখন অনেক হোটেলেই বিদেশি খাবার খেয়েছি, কিন্তু ডালভাত কখনও খাওয়া হয়নি।
আজ আমার প্রচণ্ড ইচ্ছে করছে মেঝেতে মাদুর পেতে বসে কাউকে নিয়ে ধোঁয়া-ওঠা গরমভাত ডাল দিয়ে মেখে খেতে।
হায়, আমার সাথে বসে ডালভাত খাবে, এমন একটাও মানুষ আমার নেই!
আমার আজ খুব ভাই-বোনদের সাথে বসে আড্ডাবাজি করতে মন চাইছে। সেই ছেলেবেলায় গ্রামের মজিদ চাচার লিচুগাছ থেকে লিচু চুরি করার জন্য ভোরবেলায় ভাই-বোনেরা মিলে যেসব বুদ্ধি বের করতাম, আবারও তাদের সাথে বসে হা-হা-হি-হি করে সেইসব যুক্তিবুদ্ধি করতে ইচ্ছে করছে।
ইদানীং ভাই-বোনেরা শুধুই রেজিস্ট্রি অফিসে এক হবার সুযোগ পাই, জমিজমা সংক্রান্ত ব্যাপারে। তা ছাড়া কেউ কারুর বাসায় যাই না, যাবার সময়ই হয় না কারও...
আমার একসাথে-মিলে-লিচু-চুরি-করা ভাই-বোনেরা কেউ নেই আজ, ওরা সবাই বড়ো হয়ে গেছে।
বড়ো বড়ো সব অর্জনের ভিড়ে আমার ছোটো ছোটো আহ্লাদগুলি এভাবে হারিয়ে গেল। এর আগে কখনও নিজেকে এতটা অপরাধী মনে হয়নি।
মেঝে, মাদুর, মানুষ
লেখাটি শেয়ার করুন