অফিসের মিটিংয়ে তূর্য খুব চমৎকার কিছু আইডিয়া উপস্থাপন করেছিল, কিন্তু রোহান প্রতিটিরই চরম বিরোধিতা করে করে ক্রমাগত খুঁত বের করে যাচ্ছিল। এমডি সাহেবের আত্মীয় বিধায় রোহানকে কেউ খুব একটা ঘাঁটায় না।
তূর্যের সাথে রোহানের সম্পর্ক ভালোই। রোহানের এমন অযৌক্তিক আচরণের কারণ খুঁজতে গিয়ে তূর্য জানতে পারল, রোহানের ছোট্ট মেয়েটি গত ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। অফিসশেষে প্রতিদিনই সে হাসপাতালে ছোটে। একমাত্র সন্তানের শরীরের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তাই তার মাথা ঠিক নেই; যদিও ব্যক্তিগত কষ্টের জন্য অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া বিচক্ষণ লোকের কাজ নয়।
সেদিনও যথারীতি বিকেলে অফিসের পর পরই রোহান তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালে ছুটল। রোহানকে কিছু জানতে না দিয়ে কিছু ফল, চকলেট আর খেলনা নিয়ে তূর্য হাসপাতালের গেইটে আগেই গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। রোহান তো তূর্যকে দেখে রীতিমতো অবাক। অসুস্থ মেয়েটিকে দেখে ফিরে আসার সময় তূর্য বলেছিল, ভাই, কিছু লাগলে আমাকে নিঃসঙ্কোচে জানাবেন। আমি তো আপনার ভাই, শাঁওলি তো আমারও মেয়ে। আমি ওর জন্য প্রার্থনা করব।
এরপর কেটে গেল দুই যুগ। রোহানের সেই ছোট্ট মেয়েটির কোলে আজ দেড় বছরের সন্তান। রোহান আজও মনে মনে লজ্জায় আর অপরাধবোধে কুঁকড়ে থাকে। স্বভাবে আত্মসংবৃত রোহান আজ পর্যন্ত একটি বারের জন্যও তূর্যকে সরি বলতে পারেনি। অনেক বারই চেষ্টা করেছে বলার, কিন্তু কী এক অজানা শক্তি তাকে বলতে দেয়নি। আছে এমন কিছু মানুষ, যারা খুব চেষ্টা করেও সরি বলতে পারে না, তাই আমৃত্যু অনুশোচনায় মরে।
শাঁওলি তো আমারও মেয়ে
লেখাটি শেয়ার করুন