গল্প ও গদ্য

রুমালবাঁধা আগুনপথ

ঈশ্বর দেখলেন, জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আমি জুয়া খেলছি। তিনি আরও দেখলেন, জীবন যার সাথে অবিরত ঠাট্টা করে চলেছে, ঠিক তেমনই একটা মানুষ আমি।

তিনি দেখতেই থাকলেন। আমার সবচাইতে বাজে দিনগুলিতেও... তিনি চুপচাপ দেখতে থাকলেন।

এদিকে আমি অবিরাম চিৎকার করে চলেছি... আমি কেন? আর কেউই কি ছিল না পৃথিবীতে? তবে আমিই কেন?

একসময় তিনি স্মিত হেসে বললেন, কেন তুমি ন‌ও? আমি রুমাল দিয়ে তোমার দু-চোখ বেঁধে দিয়ে তোমাকে বলেছি আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে। তোমার ধৈর্য, তোমার স্থৈর্য কতটুকু, আমি জানতে চেয়েছিলাম। তোমার দুই পা পুড়ে যাবে, হয়তো তোমার মন ব্যথায় বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তবু তুমি বুঝতে পারবে, এর‌ই নাম জীবন। তোমার হৃদয় কুসুমকোমল, এবং এ কারণেই, পথ চলতে গিয়ে তুমি বার বার আহত হ‌ও। কিন্তু কেবল এটুকুই তুমি ন‌ও। তুমি অসীম, বাধা পেয়ে থেমে যাবার জন্য তুমি পৃথিবীতে আসোনি। আমি চাই, যখন তুমি থাকবে না, তখনও যেন তোমার চেতনা বেঁচে থাকে সবার মধ্যে। সবাই তোমার কথা স্মরণ করে বলবে, অন্ধকার এলেও থেমে যেতে নেই। যে খুঁজতে জানে, তার জন্য আলো আসেই আসে!

ভাবলাম, না, ঈশ্বর আমার প্রতি অতটাও নির্দয় নন। জীবন তো এমনই! বেঁচে থাকতে চাইলে এসব মেনে নিয়েই বাঁচতে হবে। অহেতুক দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় না দিয়ে তাই নিজেকে নিশ্চয়ই মনে করিয়ে দিতে হবে, একদিন আলো আসবে, একদিন সুখের সময় আসবে। পৃথিবীতে যা-কিছু ঘটে, তার কিছুই অনর্থক নয়। জীবনের রহস্যসমুদ্রে চরম দুর্ভোগের সময়‌ও হাসতে হাসতে ডুব দিয়ে দেখতে হয়... সামনে কী অপেক্ষা করে আছে!

জীবন তেমন নয়, যেমন হবার কথা ছিল। জীবন তেমনই, শেষমেশ যেমন হলো।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *