কারও জন্য আমাদের হাতে সময় থাকে না, আর কারও জন্য আমাদের মনে সময় থাকে না। পৃথিবীতে সস্তা প্রায় সব জিনিসই মূল্যহীন, জানো?
যে মানুষটা প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষের অবহেলা অসম্মান অপমান অপ্রাপ্তি সহ্য করে হলেও শুধু কয়েকজন মানুষকে নিয়ে বাঁচতে চায়, তার আশেপাশে কিছুমাত্র মানুষ চায় কিংবা কিছুই না পাবার বিনিময়ে হলেও একটু মমতা চায়, তাকেই কিনা মানুষ একঘরে করে দেয়! মানুষ কখনও স্বেচ্ছায় খারাপ হয়ে যায় না, দূরে সরে যায় না, বদলেও যায় না, কিন্তু কখনো কখনো পুরো পৃথিবী তাকে এমন করে একপাশে করে দেয় যে একটা সময় হয়তো সে বাধ্যতায় হলেও একা থাকাটা শিখে নেয়।
কারও কাছে কোনও কিছুই আর আশা না করাটা জীবনই সেইসব মানুষকে শিখিয়ে দেয়। একটা সময় সে আর তার কোনও কিছুর জন্যই কারুর উপর নির্ভরশীল থাকে না, এমনকী একচিলতে হাসিমাখা মুখও সে আর আশা করে না কারও কাছে।
ততদিনে সে পুরোপুরি জেনে যায়, এই সবকিছুই অভিনয় মাত্র। যে মুখগুলো সময় আমাদের না চাওয়া সত্ত্বেও চিনিয়ে যায়, সেই কঠিন রাতগুলো পার হয়ে গেলেও কী করে আমরা সেই নির্দয় মুখগুলো ভুলে যাব? এমন সময় যাদের জীবনে আসে, জীবন যাদের প্রতি এতটা কঠিন হয়, জীবন যাদের কাঁধে বিনা অপরাধে এতটা আঘাতের বোঝা চাপিয়ে দেয়, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই একা থাকা ও একা বাঁচা শিখে নেওয়া উচিত। কেউ আর যা-ই করুক, অন্তত কারও কাছেই নিজেকে ছোটো করে একটুখানি করুণার আশায় এর-ওর দ্বারে ভালোবাসা ভিক্ষা করা উচিত নয়। হয়তো এটাই তার স্রষ্টাপ্রদত্ত জীবনের ধরন, সৃষ্টিকর্তা হয়তো এতটুকুই তার জন্য বরাদ্দ করেছেন। এটাকে মেনে নিয়ে কেবল নিজেকেই নিজের একমাত্র অবলম্বন করে বাঁচতে শেখা উচিত।
ভাগ্য বলে একটা কিছু তো আছেই, যা কিনা অনেক চেষ্টায়ও বদলানো যায় না। কিছু একান্ত ভালোবাসার মানুষ, কিংবা কিছু মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, একটা নিজের ঘর, কিছু ভালো মুহূর্ত, আর্থিক স্বচ্ছলতা, সুস্থতা, এই সবকিছুই আসলে সৃষ্টিকর্তার দেওয়া রিজিক। কেউ শতচেষ্টার পরও যদি তার জন্য এগুলো কোথাও না থেকে থাকে, তাহলে এই সবকিছুর প্রত্যাশা ঝেড়ে ফেলে স্বপ্নের জগত থেকে বের হয়ে নিজেকেই নিজের একমাত্র সম্বল মনে করে বেঁচে থাকার শিক্ষাটা জলদিই শিখে নিলে ভালো।
এই পৃথিবীতে হাতেগোনা অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ ছাড়া বাকি সবাই-ই এই টিকে থাকার লড়াইটুকুই করে যাচ্ছে। শতচেষ্টার পর মানুষ যেটা পায়, সেটাই হয়তো তার রিজিকের ফয়সালা!
রিজিকের ফয়সালা
লেখাটি শেয়ার করুন