আপনার পছন্দের দুই জন। ওঁদের মধ্যে একজন অপর জনের কোনও একটি আচরণে কষ্ট পেয়েছেন বা বিরক্ত হয়েছেন। এই ব্যাপারটি তিনি আপনার সাথে শেয়ার করলেন।
এখন আপনার কাজ হবে, এই কথাটি অপর জনের সাথে শেয়ার না করা। শেয়ার করা বা বলে ফেলা দরকার হলে কাজটি তিনি নিজেই করতে পারতেন, কিংবা পরবর্তীতে তাঁর আচরণে অপর জন ব্যাপারটি কোনোভাবে টের পেয়ে যাবেন। মানে অপর জনের কাছে বা কানে এই কষ্ট বা বিরক্তির বিষয়টি জানানোর দায়িত্ব আপনি নেবেন না, তাঁর প্রয়োজনে তাঁকেই নিতে দিন।
আজ আপনি পরিষ্কার মন ও মানসিকতা নিয়ে কথাটি শেয়ার করলেন। আপনার নিয়তও ভালো, কেননা আপনি চাইছেন যেন তিনি এ বিষয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকেন এবং ওই দুই জনের মধ্যকার সম্পর্ক সুন্দর থাকে। হয়তো তিনিও ভালোভাবেই চুপ করে আপনার পরামর্শ শুনলেন।
একদিন আপনার এই ভালোমানুষি আপনাকেই ব্যাকফায়ার করতে পারে। সময়ের সাথে বিভিন্ন কারণে মানুষের আবেগ ও ভাবনা বদলে যায়। তখন তিনি আপনাকেও কথা শুনিয়ে দিতে পারেন এটা ভেবে যে, আপনি ওই ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে ইচ্ছে করে তাঁকে একসময় অপমান করেছেন। আবার এমনও হতে পারে, আপনাকেও ভুল বুঝে আপনার প্রতি ভালোলাগা নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা কমে যেতে পারে; ওই ব্যক্তি এবং আপনি... দুই জনের প্রতিই তাঁর তীব্র বিতৃষ্ণা জন্মাতে পারে।
বরং চুপ থাকলেই ভালো। কার মনে কী আছে, আপনি তা কখনোই বুঝতে পারবেন না। আপনার সবচাইতে কাছের মানুষের মনও আপনার ভাবনার মতন না-ও হতে পারে। কী লাভ বন্ধু হারানোর বা বন্ধুত্ব হালকা করার ঝুঁকি নিয়ে? কারও ভালো করতে গিয়ে তার কাছ থেকেই খারাপ অভিজ্ঞতা নেবার কী দরকার!
মানুষের কান্না পায় এমন সব কারণে, যেসব কারণের কথা ভুলেও তার মাথায়ই আসে না! কোনও মানে হয়?!
মধ্যস্থতার মাশুল
লেখাটি শেয়ার করুন