কখনো কখনো আপনার এই ব্যস্ত জীবনটা থেকেই কায়দা করে নিজের জন্য কিছু সময় বের করুন। ভালো কিছু মুভি দেখুন; একলা হাতে নিজেই চা বানিয়ে নিজেকে খাওয়ান; এমন কোথাও ঘুরতে যান, যেখানে যেতে আপনার মনটা খুব চায়।
জীবন একটা রেলগাড়ির মতন। চলছেই তো চলছে। কোনও এক অপ্রস্তুত সকালে আবিষ্কার করবেন, আপনার জীবনট্রেনটি আর চলছে না। সামনের দিকে গলা উঁচিয়ে যখন আর কত পথ বাকি আছে খুঁজবেন, তখন দেখবেন, আরও... কত পথ যে যাবেন যাবেন করেও যাননি, কত কাজ যে করবেন করবেন করেও করেননি, কত ইচ্ছে যে পরের বার পূরণ করব করব করেও আর করা হয়ে ওঠেনি... তার কোনও ইয়ত্তা নেই... অতএব, আফসোসেরও কোনও শেষ নেই।
ট্রেন থামার পর বুঝবেন, আপনি যতটুক পথ চলে এসেছেন, তার শতগুণ পথ চলা বাকি থেকে গেছে তখনও। অথচ হায়, তখন আর করার কিছুই থাকবে না। দেরি হয়ে গেলে সব ফুরিয়ে যায়। থেকে যায় শুধু কিছু দীর্ঘশ্বাস।
কিছু সময় নিজের জন্য রাখুন, কিছু কাজ নিজের জন্য করুন, কিছু স্বপ্ন সবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে জোর করে হলেও পূরণ করে ফেলুন। বলা তো যায় না, কখন কোন সময়ে রাস্তার ঠিক কোন মোড়ে ট্রেনের ইঞ্জিনটা হুট করে থেমে যায়! ট্রেন নাহয় ফুয়েলসিস্টেম কিংবা ইঞ্জিন ঠিক করে আরেক বার চালু করা যাবে, কিন্তু জীবন...? জীবন একবার থেমে গেলে কি আর দ্বিতীয় বার চালু করতে পারবেন? খুব করে চাইলেও কি আর একটু হলেও বেঁচে নেওয়া যাবে তখন নিজের নিয়মে?
না, যাবে না। বেঁচে থাকতে থাকতেই কিছু সময় তো নিজের মতো করে বাঁচাই যায়, তাই না? জ্যান্ত থাকা আর বেঁচে থাকা যদি এক হতো, তাহলে অ্যামিবা হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সফল প্রাণী। আমরা কেবল মুখে মুখেই মানুষ, চালে-চলনে আদতে অ্যামিবা।
ট্রেন থামার আগে
লেখাটি শেয়ার করুন