গল্প ও গদ্য

নিঃশব্দ সমর্পণ



কতই-না নিজেকে বোঝালাম...আমাদের একসাথে থাকাটা হবে না। তবু বুঝেও বুঝছি না কিছুতেই। এরকম করলে কী করে হবে?

আমার ভীষণ কষ্ট হয় তোমাকে ছেড়ে থাকতে। তুমি তো কখনও আমায় তাড়িয়ে দাওনি! তবুও, আমি এ-ও জানি, তুমি আমায় বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারবে না।

আমি পুরোপুরি ভেঙে যাব তুমি আমার কাছ থেকে দূরত্ব চাইলে। আর কিছুতেই পারব না নিজেকে সামলাতে। ভালোবাসা ভীষণ জটিল একটা বিষয়; মনের ভাঙা, গড়া—এসব খেলায় নিজেকে দীর্ঘসময় টিকিয়ে রাখতে সাহস লাগে, স্বার্থপর হতে হয়।

আমি এতটাই অক্ষম যে, ভালো রাখতে পারব না তোমায়, সুখী করতেও পারব না। এভাবে কোনো সম্পর্ক কখনও টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না।

হ্যাঁ, তুমি বলেছিলে...নির্দিষ্ট কোনো কারণে তুমি আমার সাথে নেই, তবুও পরক্ষণে ভীরু কণ্ঠে বলেছিলে…এই পৃথিবীর সব সম্পর্কেই একটা দৃশ্যমান সুতো থাকে, যা আমাদের মধ্যে নেই। অদৃশ্য কোনো শক্তি দ্বারা মানুষকে বোঝানো যায় না…তার প্রতি তুমি কতখানি ভয়ংকর রকমের নির্ভরতায় মাথানত করেছ।

তুমি কখনো খেয়াল করেছ…আমরা কাছাকাছি থাকলে আমি তোমার পায়ে আমার শেষ চুম্বনটি সমর্পণ করি? কেননা, অপেক্ষার শেষ মুহূর্তটা তখনই প্রকট হয়, যখন আমি তোমার পায়ের কাছে আমার নিঃশ্বাস রাখি।

নিঃশব্দে কতজন মানুষ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে জানে? মানুষ কেবলই বাহ্যিকতার ভিড়ে অকাট্য প্রমাণ খোঁজে। আমার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না—আমার পৃথিবীর কতখানি জায়গা 'তুমি' নামক অনুভূতিতে জর্জরিত।

আমি তোমায় সব লিখি না, সব বলি না। তুমি শুধু আমার উপস্থিতিটাই দেখলে, আমার অসমাপ্ত সত্যিটা জানতে চাইলে না। তুমি যদি একটা বার বুঝতে…আমাদের মধ্যে কখনও কোনো সম্পর্কই ছিল না, যা ছিল তা শুধুই একটি সম্মোহিত অবস্থা! আমি বুঝি, ভালোভাবেই, যে-জন্য আমার সমস্ত অভিপ্রায় এক অবশ শরীরের অসহায়ত্বে বাঁধা।

শোনো…তুমি আমার জন্য সময় করে, কখনো একটি চিঠি লিখতে পারবে? জানি, এটা লেখা কতখানি অস্বস্তিকর তোমার জন্য, তবুও বলছি। কারণ এটিই আমার একমাত্র চাওয়া। তোমার কাছেই রেখো চিঠিটা, যতদিন অবধি আমি না ফিরব।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *