অনুপ্রেরণামূলক

কান নয়, হাত বাড়াও

কার‌ও জীবনে যখন কঠিন সময় আসে, তখন বন্ধু হিসেবে আমরা কী করি? সহানুভূতি দেখাই, তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কাঁদি।

কেন করি এমন? বন্ধুকে ভালোবাসি বলে?

একদমই না! আমরা ওসব করি, কেননা ওসব করা সহজ। মানুষ জন্মের পর থেকেই কাঁদে, তাই বিপন্ন বন্ধুর পাশে বসে কান্না করাটা তার জন্য কঠিন বা অভিনব কিছু নয়।

ধরুন, কেউ গভীর খাদের মধ্যে পড়ে গেল। কিছুতেই সেখান থেকে সে উঠতে পারছে না। তাকে দেখে আপনার ভীষণ মায়া হলো। আপনি তখন সেই খাদে নেমে তার পাশে বসে সুর মিলিয়ে কান্না জুড়ে দিলেন। আপনার আন্তরিক সহানুভূতিতে সে অভিভূত হয়ে একেবারে গলে গেল।

এতে কী লাভ হলো? আপনার এই সহানুভূতিতে তার কী এসে যায়? সত্যিই কি কিছু এসে যায়? সে তো খাদেই পড়ে রইল। কান্নায় দুঃখ কমলেও বিপদ কমে না। কার‌ও বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর মানে তাকে খুশি করে নিজেকে বন্ধু হিসেবে দেখানো নয়, বরং তাকে অখুশি করে হলেও তার বিপদ কমানোর চেষ্টা করার মাধ্যমে নিজেকে বন্ধু হিসেবে প্রমাণ করা।

খাদে নেমেই-বা আপনি তার কী এমন উপকার করে ফেললেন? তার চাইতে তো ভালো হতো যদি উপর থেকেই দড়ি বা ম‌ই ফেলে তাকে ওখান থেকে ওঠানোর চেষ্টা করলে, তাই না? কাজটা চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু সেই মুহূর্তের জন্য জরুরি। তার কাছে আপনার অশ্রুর কোনও দাম নেই, সাহায্যের দাম আছে। সময়ের গায়ে কি আর কান্নার দাগ পড়ে?

বেশিরভাগ মানুষই নিষ্ক্রিয় সহানুভূতি দেখায় সক্রিয় সহানুভূতি না দেখিয়ে। প্রথমটি বিপন্ন বন্ধুর দুঃখ সাময়িকভাবে কমালেও বিপদ কমায় না। বিপদ না কমলে শেষমেশ দুঃখ‌ও কমে না। দ্বিতীয়টি করা কঠিন বলেই মানুষ তা এড়িয়ে চলে।

কার‌ও দুঃখের গল্প শোনার চেয়ে তাকে সাহায্য করা অনেক ভালো। সহানুভূতির কোন‌ও মূল্যই নেই, যদি তা সক্রিয়ভাবে সাহায্য করতে উদ্‌বুদ্ধ না করে। পাশে বসে কাঁদার, বিপদের কাহিনি শোনার, সহানুভূতি দেখানোর মানুষ বিপদের সময়ে অনেক পাওয়া যায়; এর একটাই কারণ: ওসব অকাজের, তাই করাও সহজ। প্রকৃত বন্ধু সে-ই, যে বিপদের দিনে কেবল কান‌ই নয়, তার সাথে হাতটাও বাড়িয়ে দেয়। বাকিরা সবাই মূলত সদয় বা নির্দয় দর্শক।

আপনার বিপদের দিনে যাদের ভূমিকা ছিল সহানুভূতিশীল নিষ্ক্রিয় দর্শকের, তারা বড়োজোর আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু কিছুতেই নয়।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *