আমরা আনন্দ খুঁজে নিই না, বরং আনন্দই আমাদের খুঁজে নেয়।
কীরকম?
আনন্দ পাবার জন্য আগে নিজেকে তৈরি করতে হয়। খুব সফল, খুব সুখী, খুব নিখুঁত... এমন একটা জীবন পেয়েও আনন্দের খোঁজে পাগলের মতো ছুটতে আমি অনেককেই দেখেছি।
আনন্দকে অভ্যর্থনা জানাতে লাল গালিচা বিছিয়ে রাখতে হয় না, নিজের হৃদয়টাকে প্রস্তুত রাখলেই চলে।
এক কাপ চায়ে, কফির ধোঁয়ায়, গাছের ফাঁকে ফাঁকে রৌদ্রের গন্ধে, একচিলতে বারান্দায়, সূর্যোদয়ে কি সূর্যাস্তে আনন্দ লেপটে থাকে; ওকে ধরতে জানতে হয়।
আনন্দ এল, ধরতে পারিনি বলে চলেও গেল, এমন তো হরহামেশাই হয়। আনন্দ এমনই এক অতিথি, যাকে বসতে দেবার জন্য মনের ঘরটা গুছিয়ে রাখতে হয়।
গোছানোর মানে বাইরেরটা পরিপাটি করে রাখা নয়, ভেতরেরটা তৈরি করে রাখা। দেখতে কুৎসিত বা পকেটে শূন্য যারা, ওদের ঘরেও আনন্দ ঢোকে, যদি তা গ্রহণ করার মন ও দেখার চোখ থাকে।
একদমই নড়বড়ে জীবনেও আনন্দ আসে, ঝড়ে ভেঙে যাওয়া মনেও আনন্দের ঢেউ ওঠে, যদি আনন্দকে বসার জায়গা দেওয়া যায়।
আনন্দ ছোটো কিছুতেও হয়, যখন আনন্দ গ্রহণ করার দরোজাটা বড়ো হয়।
আনন্দ আসে বিনা নিমন্ত্রণে, বিনা উৎসবে। আনন্দ আসে তারই কাছে, যে ভাবে কম, অনুভব করে বেশি। বেশি ভাবলে বেশি কাঁদতে হয়। বেশি ভেবে বেশি লাভের দেখা তেমন একটা মেলে না।
আনন্দের অতিথিশালা
লেখাটি শেয়ার করুন