চা নাই। চায়ের দোকান। দোকানের সামনে লোকজন লাইন ধরে চা কিনছে। প্রিপেইড শপ। চায়ের দামও দিতে হচ্ছে লাইন ধরে। লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন দেখিয়ে চা নিলাম। দোকানের সামনের রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই। এই রাতেও এই চায়ের দোকানের সামনে এত ভিড়! দোকানটা গুলশানে। দেখে মনে হলো, এই ভিড়ে অভিজাত শ্রেণীর লোকজনই বেশি।
মাসালা চা নিলাম ৪ কাপ। প্রতি কাপ ৭০ করে। চা-টা (চাটা নয়; চা-টা খেয়েছি, চাটা খাইনি।) কেমন? রিভিউ দিই।
খাওয়ার পর মনে হলো, ৭০ টাকা দেওয়াটা ঠিক হয়নি, কম হয়ে গেছে। আরও বেশি দেওয়া উচিত ছিল। এই অখাদ্য মার্কা চায়ের দাম ৭ টাকা হলেও অনেক বেশি হয়ে যায়! টাকা আরও বেশি দিলে মনকে বোঝাতে অন্তত পারতাম, চায়ের দাম দিইনি, এই রাতে সুন্দরী-পরিবেষ্টিত এই ভিড়ের দিকে চোখ রেখে ৪ বন্ধু মিলে শীত তাড়াচ্ছি, জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছি, এই আনন্দের দাম নিশ্চয়ই মাত্র ২৮০ টাকা নয়। এই গরম শরবত ৭০ টাকায় খাওয়ার কোনও মানে হয় না। দামটা আরও বেশি দিলে মনের মধ্যে এই ঠকে যাবার কারণে খচখচ-করা বিরক্তি কাজ করত না। চায়ের দাম নয়, মুহূর্তের দাম মেটালে ভালো লাগত।
বাংলাদেশে যে-কোনও কিছুই বিক্রি করে দেওয়া যায়। শুধু জানতে হয় কোন জায়গায়, কাদের কাছে, কোন কায়দায়, কী জিনিস বিক্রি করতে হবে। কোয়ালিটি এখানে কোনও বিবেচ্য বিষয়ই নয়। ঠিকভাবে খাওয়াতে জানলে এদেশে বিষও হটকেকের মতো বিক্রি হয়!
(দোকানের নামটা সংগত কারণেই একটু পালটে দিয়েছি।)
অখাদ্যের অভিজাত বাজার
লেখাটি শেয়ার করুন