গল্প ও গদ্য

ভালোবাসা, প্রেমও

এক। ভালোবাসাই এ পৃথিবীতে একমাত্র সত্তা, যা দিয়ে দিয়ে একজন মানুষ ধনী হয়, আর না দিতে পারলে ভিখিরি হয়। যে মানুষ কাউকেই ভালোবাসতে পারে না, তার চাইতে দুঃখী আর কেউ নেই। একা সে নয়, যাকে কেউ ভালোবাসে না; একা সে-ই, যে কাউকে ভালোবাসতে পারে না।


দুই। প্রেমে ভালোবাসা না-ও থাকতে পারে, তবে ভালোবাসায় প্রেম তো থাকেই, সাথে আরও অনেক কিছুই থাকে। সেখানে স্বর্গের মতন নরক আর নরকের মতন স্বর্গ, দুটোরই দেখা মিলতে পারে। আরও এমন অনেক কিছুই মিলে যায় ভালোবাসায়, যা খুব নিখুঁতভাবে আজ অবধি কেউই আবিষ্কার করতে পারেনি, পারবে বলেও মনে হয় না! অন্য কিছুর কথা তেমন জানি না, তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে ভালোবাসায় প্রত্যাশা থাকলে কষ্ট থাকবেই। ভালোবাসায় সুখী হবার একটাই উপায়---প্রত্যাশাহীনভাবে কাউকে ভালোবাসা।


তিন। সে দুজনই সবচাইতে দুঃখী মানুষ, যারা সারাক্ষণ নিজেই নিজের মনের কথা বলে, অন্য জনকে বলার সুযোগই দেয় না। অথচ ভালো শ্রোতা হতে জানলে ভালো প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা হবার রাস্তাটা ভীষণ সহজ হয়ে যায়। মানুষ যতটা কারও কথা শুনতে পছন্দ করে, তার চাইতে অনেক বেশি পছন্দ করে তাকে, যে তার কথাগুলি শোনে।


চার। আপনি কাউকে ভালোবাসেন কি না, সেটা সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায় আপনার ভালোবাসার মানুষের প্রতি অন্য কারুর আচরণকে আপনি কোন চোখে দেখেন, তার উপর। আপনার নিজের মানুষটিকে আপনি যে বিষয় নিয়ে ইচ্ছামতো বকাঝকা করে ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন, সেই একই বিষয়ে অন্য কেউ যদি খুব সুন্দর করে বলেও ভুলটা ধরিয়ে দেয়, আপনার মেনে নিতে কষ্ট হবে।


পাঁচ। ভালোবাসা হচ্ছে দুটো আত্মার বন্ধন। শরীর আলাদা করা যায়, আত্মা আলাদা করা সম্ভব না। তাই ভালোবাসার মানুষটাকে জীবনে না পেলেও তার প্রতি যে টান, তা কখনও নষ্ট হয়ে যায় না।


ছয়। প্রেমের শুরুটা হয়তো আপনার হাতে থাকে, কিন্তু একবার ভালোবাসাটা হয়ে গেলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার উপায় আর আপনার হাতে থাকে না। প্রেমকে ইচ্ছেমতো নিজের খেয়ালে চালানো যায়, কিন্তু ভালোবাসার উপর ওরকম কিছুই খাটে না।
লেখাটি শেয়ার করুন

4 responses to “ভালোবাসা, প্রেমও”

  1. ভাইয়া আমি খুব ডিপ্রেশান এ আছি , আমি যাকে ভালবাসি সে অনেক রাগি , আমাদের কথার মাঝে প্রায় জগড়া করে ফেলি .আমাকে বেশ কয়েকবার ফেসবুক থেকে ব্লক করেছে আবার খুলে দিয়েছে কিন্তু সে আজ ২ মাস হলো আর কথা হয় না

    • যখন তোমাকে বকবে,তুমি চুপ থাকবে।তাহলে সমস্যা সামাধান হবে।

Leave a Reply to md akter hossen Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *