গল্প ও গদ্য

অতৃপ্ত নৈকট্যের আর্তনাদ


অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি। তুমি আকাশের দিকে তাকাও, কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি নামবে। আমি তোমার কাছে আসতে খুব চেষ্টা করেছিলাম, সুধীর। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আমাদের দেখা হবার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। ভেজামাটি শুকিয়ে গেলেই, প্রকৃতির নিয়মে তুমি আমার কাছ থেকে হারিয়ে যাবে।

তুমি কি আমার উপস্থিতি টের পাও, সুধীর? দেখো, এক অদ্ভুত ঘোরে হৃৎপিণ্ডের চারপাশটা দিয়ে ধীরে ধীরে রক্ত চুইয়ে পড়ছে। পৃথিবীর মানুষেরা জানে না, শান্তি কী। আমিও আগে জানতে পারিনি, তবে এখন খুব স্পষ্টভাবে জানি। এই অনুভূতিটা প্রবলভাবে বেড়ে যায়, তুমি এলেই।

সুধীর, তুমি কি আমায় ভয় পাচ্ছ? না, তোমার ভালোবাসার ধরনটাই তো ছিল এমন। তোমার দীর্ঘনিঃশ্বাসে শরীরটা ভীষণ ভারি হয়ে আসছে, সুধীর। তুমি জানো, আমি নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না কখনোই। আমাদের দূরত্ব এতখানি কমে যাবে, আঁচ করতে পারিনি।

যে-মুহূর্তে তোমাকে ভালোবাসার অন্ধ নেশাটাকে আমি খুন করি, সেই দৃশ্যটাই যেন অসংকোচে তোমার চোখেমুখে উচ্চস্বরে আর্তনাদ করতে থাকে। ভালোবাসার যে কোনো সমাপ্তি ঘটে না, তা প্রমাণ করতেই হয়তো তুমি প্রতিবার সেই দুর্গন্ধময় কোলাহল থেকে বেরিয়ে আমার অতৃপ্ত বাসনার নৈকট্যে তোমার নিঃশ্বাস রাখো। ঠিক তখনই সমস্ত উদ্বেগ যেন তোমার কণ্ঠে ভর করে, আরও তীব্রভাবে তুমি আমাকে স্পর্শ করো—প্রবলভাবে ঘৃণা-করা কোনো অনুভূতির চাইতে যা বহুগুণে দৃঢ়।

সুধীর, ভালোবাসার চেয়েও ঘৃণা অথবা ভয়ের অনুভূতি কেন এত বেশি জোরালো? ‘নিঃশব্দ তুমি’, ‘দুর্ভাগ্য প্রকাশে সামান্য বিচলিত তুমি’, ‘উন্মত্ত এক বাসনা-তৃপ্ত চোখে তুমি’, ‘টুকরো কাচে তোমার চোখ’। এসব অদ্ভুত ঘোর আমি খুঁজে পেয়েছিলাম একমাত্র তোমারই মাঝে। অনুগ্রহ করে তোমার নিঃশ্বাসের সুগভীরতা কারও সাথে ভাগাভাগি করতে যেয়ো না।

তোমাকে আজ এক বিক্ষিপ্ত সুখকর যন্ত্রণা দিতে চাই, তুমি প্রস্তুত?

পুনশ্চ। তুমি জানো, আমি গভীরভাবে ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। অথচ, ওর সঙ্গে আর কিছুক্ষণ থাকলে আমি হয়তো ধীরে ধীরে উন্মাদ হয়ে যেতাম। সে কারণেই যোগাযোগ বন্ধ রেখেছিলাম। ওর গন্ধটা তোমার মতো; হুবহু নয়, তবু খুব কাছাকাছি একধরনের বিভ্রম জাগায়। কখনো কখনো মনে হয়, ওটা কি তবে তুমিই ছিলে? যা-ই হোক, অনেক দিন পর আজ আমাদের আবার কথা হয়েছে। ভীষণ ভালো লাগছে... ঠিক যেমন ভালো লাগে, যখন মনে হয়, তুমি আমাকে মনে করেছ।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *