গল্প ও গদ্য

নির্লিপ্ত আয়ু

যদি কখনও অনুভব করো, তোমার ভালোবাসার অজুহাতে কেউ তোমাকে ব্যবহার করছে, যন্ত্রণায় রাখছে, তবে পৃথিবীর সমস্ত যুক্তিকে একপাশে সরিয়ে রেখে তখনই তার হাতটা ছেড়ে দাও।

...এমন অনেক সুন্দর সুন্দর কথা নানান জায়গায় পড়ি, খুব ভালো লাগে পড়তে, কিন্তু ওই পড়া পর্যন্ত‌ই, নিজের জীবনে কাজে লাগাতে আর পারি না। নিজের জীবনের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়, এমন পরামর্শ পেয়েও আমি আগের মতোই কষ্টে থাকি। আমার মতন এতটা অপদার্থ মানুষের বেঁচে থাকার সত্যিই কি কোনও অধিকার আছে?

তুমি আমাকে খুবই অপছন্দ করো, তাই না? এমনকী কখনও কখনও ভীষণ বিরক্ত হও আমার প্রতি এবং অস্বস্তিবোধ করতে থাকো। হয়তো কখনও এটাও ভেবে বসো, কী জন্য একটা সময়ে আমার সাথে তুমি যোগাযোগ রাখতে! তোমার জন্মদিন গেল, আমি তোমাকে উইশ করিনি, তার কারণ, জানি, আমার উইশ করা না করায় তোমার কিছুই এসে যায় না; বরং তুমি এমন একজন মানুষের বিরক্তিকর আচরণ থেকে মুক্তিই চাইবে সেই বিশেষ দিনে। তা ছাড়া শুধু টেক্সট করে কী হয়! আমি তো কিছুই করতে পারি না তোমার জন্য! সুতরাং এইসব ফালতু কথা নিতান্তই মূল্যহীন।

তোমাকে কী করে মুক্তি দিই, বলো? আমি নিজেই তো নিজের চিন্তাভাবনা থেকে তোমাকে আলাদা করতে পারি না। হয়তো এই না পারা আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে, হয়তো কখনও কাজের চাপে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকতে পারব শুধু! এটুকুই আমার অনেক বড়ো প্রাপ্তি। সবাই সব কিছু পায় না জানি, কিন্তু আমার মতন কিছু কিছু মানুষ অনেক চেষ্টা করেও জীবনের কাছে কিছুই পায় না... এটা কেউ বিশ্বাস করবে?

কাউকে দূরত্বে রেখে দিয়ে ভালোবাসি বলতে যে কেউ চাইলেই পারে। নিজে সবসময় সাইলেন্ট থেকে অন্যের দোষ ধরা সহজ।

আমি তোমার মনের মতো করে চলতে গিয়ে না পাবার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই বাঁচতে শিখে গিয়েছি, শুধু এই বেঁচে থাকাটাকে অনুভব করতে পারি না...এই যা! আয়ুর প্রতি এমন নির্লিপ্ততা আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে।

ভালো থেকো। আমার জ্বালাতন সহ্য করে যাবার জন্য কৃতজ্ঞতা।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *