চোখভর্তি ঘুম নিয়েও কিছু কথা বলে যাই। যে চোখ স্বপ্ন দিয়ে ভর্তি, সে চোখ ঘুম কাটিয়ে ঠিকই চেয়ে থাকতে পারে। আমিও চেয়ে আছি। আমাকে তুমি, তোমরা ছেড়ে দাও! প্লিজ, আর ধরে রেখো না। আমি আদরে, স্নেহে, মায়ায়, আরামে অভ্যস্ত হতে হতে এখন একটা বলয়ে ঢুকে পড়েছি। কিন্তু আমাকে সেই বলয় থেকে খুব দ্রুতই বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিদিনই এভাবে মরে যেতে আমি আর চাই না!
বলয়ের ভেতরে থেকে আসলে খুব বেশি কিছু করা যায় না। আমাকে প্লিজ, একা ছেড়ে দাও, একা থাকতে দাও। এবার আমার কিছুটা একাকিত্বের প্রয়োজন, নিজের মুখোমুখি হয়ে একটা সারাদিনের জন্য বসা প্রয়োজন। নিজের মুখোমুখি হতে খুব খুব ভয় লাগে, আমি জানি। এর আগেও চেষ্টা করেছি বহুবার, পারিনি। এবার আমাকে পারতেই হবে। লোকের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় শুনেছি, আমারটা যে একেবারে গেঁথে গেছে!
আমার অনেক সময় ফুরিয়ে গেছে হেলায়-ফেলায়, অবহেলায়। সবাই আমাকে অবহেলা করলেও নিজে নিজেকে অবহেলা করে আমি মস্ত বড়ো অন্যায় করেছি। এক আমি নিজে বাদে সঙ্গে নিয়ে বাঁচার জন্য আর কেউই যে নেই আমার!
আজ নিজের কাছেই ক্ষমা চাইতে হবে। একটা দিন সকাল সকাল গোসল সেরে এক ফ্লাস্ক চা বানিয়ে, সারাদিনের খাবার-দাবার রেঁধে টেবিলে আয়নার সামনে বসতে হবে---অবশ্যই সুনীল, শীর্ষেন্দুকে টেবিল থেকে সরিয়ে; এরা আবার আমার বয়স্ক প্রেমিক, আমাকে মূল চিন্তা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে... হা হা হা!
তো যা বলছিলাম। আমাকে আজ আমার সামনে বসতে হবে, চোখের দিকে সোজাসুজি তাকাতে হবে। এভাবে আর চলতে পারে না। অনেক তো বাঁচলাম, এবার একটু হাসি!
আদরের বন্দিশালা
লেখাটি শেয়ার করুন