সাত্যকি, দেখলে তো, জীবনের গর্ভে একেকটা আণবিক দিনের ভ্রুণ কেমন বেড়ে ওঠে!
না, আমি অক্ষরের খোলস ছাড়তে বলছি না; তুমি আজন্ম প্রশ্নহীন ছিলে, তা-ই থাকবে শেষ অবধি।
ভোর থেকে চেয়ে আছি... জানলার গ্রিলে, চশমার কাচে হিমকুয়াশার কেমন যেন ভিড় জমেছে!
ভোর! হ্যাঁ, আমি ওকে ভালোবাসি।
... তখন যে রোদটা সুবাসিত হয় তোমার নিঃশ্বাসে, সে আমি ঠিক মেখে নিতে পারি।
অদেখার গল্পগুলো চাঁদের বাড়ি রেখে এসেছি; জানি, তুমি হিসেবের খাতা নও।
বাসরলতাটা আদিম ঘুণেধরা, ওতে আর যা-ই হোক, পত্র লেখাটা কিছুতেই নয়!
পঞ্চম রাতে আলতা মাখাতে সাদাজমিনটা খুঁজে পাইনি, তুমি কি ডাকলে আমায়?
ডেকো না গো, শিশিরে সতেজ নারী আমি বহুদিন হইনি!
ভোরের শরীর কেটে দুঃখগুলো সব জমা রেখেছি, তবুও রাতটা কী ভীষণ আঠালো গল্প বলে, দেখো!
একটা অনিচ্ছে কতটা নান্দনিক হয়, আমার জানা নেই,
তুমি বললে, তা-ই বোধের গৃহে কিছু প্রজাপতি উড়িয়ে দিলাম!
সেই যে কাশবন-কিশোরী, অভিমানে টুপটাপ ঝরে যেত...
হ্যাঁ, সেই মেয়েটা হৃদয় খুলে একটু ওম চাইত!
আকাশটাকে কলমের ডগায় বেধে ঠোঁটের আরশিতে তুলে রেখো, অদেখা শব্দগুলো নয়তো চুপচাপ ঝরে যাবে!
কুড়োতে গিয়ে দেখবে, খুচরো কিছু আমি আর আধেকটা তুমি, বাকি গোটা দশেক কাশবন-কিশোরী!
বাতাসে কীসের এত মদিরতা, সাত্যকি?
কোথাও বুঝি চন্দ্রগ্রহণে মহুয়া ফুটেছে!
বলেছিলে, গান শোনাবে, জলেশ্বরী যদি একবার ভালোবাসি বলে;
অথচ আমার নামে একটাও গান চুমু খায়নি তোমার কণ্ঠে!
বেনামি গৃহে বেনামি প্রেম আর কত!
পতিত সম্পর্কগুলো নিলামে তুলে ওই দেখো, সূর্যপুরুষ কেমন নিঃশব্দে হেঁটে যায়!
মধ্যদুপুরে জন্ম নেয় বৈধ অসুখ, ধুতরাফুলে জমে যৌগিক মধু!
তুমি বলতে, আমি একবার চুনিলাল হতে চাই...
সারসী-বিকেলে চন্দ্রমুখী ঠিকই সুখ ভিজিয়ে পেয়ালায় তুলে রাখে!
প্রথম শপথ ভাঙার শব্দ কেমন শুনতে হয়, সে তুমি না বললেও আমি জানি।
গাঙচিলের ডানায় দুঃখগুলো উড়ে যায়, পরবাসী মনটা নাকি আমার!
চাঁদের সাথে জীবনের পথ ভাঙি, ফের দেখা হলে দুঃখগুলো খুঁটে দেখব, মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনটা কেমন!
প্রায়ই বলতে, পেছনে ফিরতে হয় না, নীল; শব্দ চিরে দেখো... নিঃশব্দ যাযাবর!
জলতরঙ্গে আলতা পায়ে কৈশোরটা কেমন বুড়িয়ে যায়, আধবেলার কৈশোর আমারও তো ছিল!
বলবে কি ডেকে? বলবে কি আমায়, সাত্যকি... কাব্যিক চায়ের কাপে এসো দুঃখগুলো ভেজাই!
এসো, দুঃখগুলো ভেজাই
লেখাটি শেয়ার করুন