মানুষ একবিন্দু ভালো না বেসেও বিয়ে করে যুগের পর যুগ একসাথে সংসার করে যেতে পারে, প্রচণ্ড ভালোবাসা বুকে চেপে রেখেও বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বার দেখা না করেও মানুষ তাকে গোপনে ভালোবেসে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারে।
পৃথিবীতে এমনও অহরহ প্রেম আছে, যে প্রেমে ছিটেফোঁটাও ভালোবাসা নেই; এমনও তীব্র ভালোবাসা আছে, যে ভালোবাসা কখনোই প্রেম পর্যন্ত পৌঁছোয়নি।
পৃথিবীতে একমাত্র ভালোবাসা জিনিসটারই কোনও সঠিক ব্যাখ্যা ও সমীকরণ নেই। কে যে কখন কাকে ঠিক কোন কারণে ভালোবেসে ফেলে, তা মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না।
যে প্রিন্সেস ডায়ানা কারও কাছে স্বপ্নের দূতি, সেই প্রিন্সেস ডায়ানা আবার তার স্বামীর কাছে কেবলই একটা প্রাত্যাহিক শূন্য মাত্র।
যে বস্তু কারও ঘরে শৌখিন বস্তু, সেই বস্তু কারও কাছে ডাস্টবিনের ময়লা।
যে মানুষটি আপনার কাছে স্রেফ জিরো, সেই মানুষটি হয়তো অন্য কারও কাছে সুপারহিরো।
ভালোবাসা জিনিসটাই এরকম গোলমেলে। আপনি যাকে ভালোবাসেন, তার কাজলআঁখিও কারও কারও কাছে অসুন্দর, কিন্তু আপনার কাছে তার কালি-পড়া কোটরে-ঢোকা চোখটা কবিতার বনলতার চোখের মতন।
আসলে গোটা জীবনটাই একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন। আর ভালোবাসা সেই প্রশ্নবোধক চিহ্নের উপর আরও একটি বড়ো প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
এখানে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে না, অনেক সমস্যার সমাধান থাকেই না, অনেক অঙ্কেরই কোনও সূত্র থাকে না।
কেউ ভালোবাসে বলেই কিছু বলতে পারে না, কেউবা ভালোবাসে না বলেই অনেক কিছু বলে ফেলতে পারে। আবার অনেকেই বেঁচে থাকে বুদ্ধদেব বসুর কবিতার পঙ্ক্তিবিধৃত এই সান্ত্বনায়... "তুমি ছিলে, তবু তুমি ছিলে।" জীবনে কেউ একজন আসে। তারপর জীবনে আর কেউই আসতে পারে না, এলেও মনে জায়গা পায় না।
ভালোবাসার প্রশ্নচিহ্ন
লেখাটি শেয়ার করুন