গল্প ও গদ্য

হিয়ারিং ডগস

যারা জন্মগতভাবে বধির এবং যারা কোনও কারণে শ্রবণশক্তি হারিয়েছে, এই দুই ধরনের মানুষকে সাহায্য করতে ল্যাব্রাডর, গোল্ডেন রিট্রিভার, ককাপু, পুডল ইত্যাদি জাতের কুকুরকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।

কী ধরনের প্রশিক্ষণ? কেউ ডোরবেল বাজাল, কুকুরটি তা জানিয়ে দেবে। স্মোক অ্যালার্ম বেজে উঠল, আর অমনিই কুকুরটি অ্যালার্মের কাছাকাছি মালিককে নিয়ে যাবে। মোবাইল ফোন, টেলিফোন বা অ্যালার্ম ক্লক বাজলেও বধির লোকটি তা জেনে যাবেন হিয়ারিং ডগের মাধ্যমে। আদরের সন্তানের ঘুম ভেঙে গেল কিংবা সে যে-কোন‌ও কাঁদছে, তা-ও মালিক জেনে যাবেন হিয়ারিং ডগের সাহায্যে। এ ছাড়াও নানান বিপদ-আপদের আভাস পেলে তা নিয়েও মালিক যথাসময়ে অবগত হতে পারেন কানে না শুনলেও।

এ ধরনের কুকুরদের বলা হয়: হিয়ারিং ডগস ফর দ্য ডিফ। ওরা খুব সহজেই বুঝতে পারে, কোন শব্দে মালিককে সতর্ক করা দরকার আর কোন শব্দে মালিকের কান না দিলেও চলবে। খুব কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ওদের এতটা চৌকস করে গড়ে তোলা হয়। এমনকী মালিকের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনও কাজের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় বিক্রয়োত্তর সেবার অংশ হিসেবে।

পৃথিবীতে কুকুর‌ই একমাত্র প্রাণী, যে তার নিজের জীবনের চাইতেও মালিকের জীবনকে বেশি ভালোবাসে। যারা শুনতে পায় না, বেঁচে থাকতে গেলে তাদের এমন কাউকেই লাগবে, যে তাদের সময়মতো সতর্ক করে দেবে এবং বাঁচতে সাহায্য করবে। এই সেবাটি মানুষের কাছ থেকে পাবার সৌভাগ্য যাদের হয় না, তাদের জন্য‌ই এ ধরনের প্রশিক্ষিত কুকুরের প্রচলন করা হয়েছে। মানুষের ভালোবাসার চাইতে বরং কুকুরের আনুগত্য‌ই এক্ষেত্রে বেশি কাজের।

কিছু মানুষ কুকুরের‌ও অধম, আর কিছু কুকুর মানুষের‌ও উত্তম। পয়সা খরচ করেও মানুষের মতো মানুষ না মিললেও পয়সা খরচ করলেই মানুষের মতো কুকুর মিলে যায় খুব সহজেই।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *