দর্শন ও মনস্তত্ত্ব

ভালোবাসায় একাকিত্ব

তীব্রভাবে কাউকে ভালোবেসে ফেলার পর মানুষ সচরাচর দ্বিতীয় বার আর কাউকে ভালোবাসে না। খুব চেষ্টা করেও মানুষ এটা করতে পারে না।

সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপারটা কী, জানেন? সে যে আপনাকে ভালোবাসবে না, সেটা আপনি ঘুণাক্ষরেও কখনও টের পাবেন না।

সে ভালোবাসার এতটাই নিখুঁত অভিনয় করবে যে, আপনি বিশ্বাসই করে বসবেন, এক আপনাকে ছাড়া আর কাউকে সে কোনোদিনই ভালোবাসেনি।

নিয়তি হয়তো বিপরীত কিছুই বলে! হ্যাঁ, ঠিক এই জায়গাটাই ভয়ংকর। আপনি বিশ্বাস করে ফেলেন, সে আপনাকে ভালোবাসে, অথচ নিখুঁত অভিনয়ের আড়ালে সে অন্য কাউকে ভালোবাসে, সেই মানুষটাকে নিয়ে ভাবে।

আপনার চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে সে অন্যমুখ দেখবে, আপনার কণ্ঠে কণ্ঠ ডুবিয়ে সে অন্যস্বরের সুর খুঁজবে। আপনাকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সে অন্য কাউকে বুকের ভেতরে পুষে রাখবে।

এর চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু হয় না। এত ভয়ানক একটা ঘটনা ঘটে যাবে, অথচ আপনি এর কিছুই আঁচ করতে পারবেন না।

মানুষ তীব্রভাবে কাউকে ভালোবেসে ফেলার পর নিখুঁতভাবে অভিনয় করাটাও শিখে ফেলে।

আসলে এমনই হয়, কাউকে একবার তীব্রভাবে ভালোবাসার পর মানুষ মহাশূন্যের মতো নিঃস্ব ও একা হয়ে যায়।

কাউকে খুব করে জীবনে চাওয়ার পর মানুষ শুকতারার মতো একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে যায়।

আপনার আশেপাশে হাজার হাজার মানুষ থাকবে, অথচ তার ভিড়েও আপনি একাকিত্বে ডুকরে ডুকরে কেঁদে মরবেন, কেউ তা বুঝতেই পারবে না কখনও। আপনার সব কিছুই থাকবে, তবুও শূন্যতার ভারে সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যাবেন আপনি। আপনাকে সবাই-ই দেখবে, অথচ এক তাকে ছাড়া আর কাউকেই আপনি দেখতে পাবেন না।

তার স্মৃতি মুছতে তার কাছ থেকে যত হাজার মাইলই দূরে যান না কেন, আপনার মগজের ভেতরে এক তার‌ই জলজ্যান্ত বসবাস থেকে যাবে। সিগারেটের ধোঁয়ার মতন আপনার সুখ নিমিষেই উড়ে যাবে, আর আপনি নিজে একটু একটু করে পুড়ে ছাই হয়ে যাবেন, অথচ আপনার এই পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়াটা একদম কেউই দেখতে পাবে না, এমনকী সে-ও না। মানুষ বড্ড একাকী পোড়ে!

জীবন থেকে চাইলে কত কী-ই তো অনায়াসে মুছে দেওয়া যায়, কিন্তু তীব্র ভালোবাসার কারণে কেউ একবার মগজে ঢুকে গেলে মগজ কেটেও তাকে আর বের করে দেওয়া যায় না। মানুষ এখানে অসহায়, অপারগ।
লেখাটি শেয়ার করুন

2 responses to “ভালোবাসায় একাকিত্ব”

  1. কোনো অনুযোগ নেই, অভিযোগ নেই। শুধু একটা কথা ই বলবো – ভালো থেকো শ্রীলেখা।আমৃত্যু সুখের হাসি হেসো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *