তুমি আমাকে ভালোবাসলে আমার ভীষণ কষ্ট হবে; একবার তোমার ভালোবাসা পেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরে যদি ভালোবাসা একদিন ফুরিয়ে যায়, তখন পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাবে। পায়ে পড়ি, ভালোবেসো না আমাকে, আমি এভাবেই শান্তিতে আছি।
শোনো, যাকে তুমি ভালোবাসতে পারো না, সে নিজেকে যদি তোমার জন্যে উজাড় করে দেয়, সেটাও তোমার কাছে তুচ্ছ মনে হবে; আর যাকে তুমি সত্যিই ভালোবাসবে, সে যদি তোমাকে অবহেলাও করে, তবু তোমার মনে হবে, এই অবহেলার মাঝেও ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। মানুষ নিজের মনের মধ্যেই ভালোবাসা বা ভালোবাসাহীনতা তৈরি করে নেয়। এটাই ভালোবাসার আসল থিওরি। যাকে মানুষ ভালোবাসতে পারে না, তার প্রতিটি আবেগকে মনে হয় সস্তা, ঠিক না?
যে আমাকে ভালোবাসে, তার ভালোবাসাকে ছোটো করা কি ঠিক? আমি জানি, কাউকে দিনের পর দিন মিস করলে কেমন লাগে। আমার জন্যে ঠিক এমনি করে কষ্ট কেউ পাক, আমি তা চাই না। আমার নির্লিপ্ততায় কারও কষ্ট বাড়ে, এটা আমার চোখে পড়ে না, তবে চোখে না পড়লেও ওর কষ্ট পাওয়া থামে না।
আমি একজনের সাথে কিছু দিন একদমই যোগাযোগ করিনি, কিন্তু সে আমার সাথে সবসময় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। সে চায়, আমি তাকে বিয়ে করি। একটা মানুষ আমার জন্যে চোখের পানি ফেললে তখন মনে পড়ে যায়, আমিও তোমার জন্যে চোখের পানি ফেলি। আমি তাকে বিয়ে করে ফেলতে পারি যে-কোনও সময়ই, কারণ সে আমাকে ছেড়ে যাবে না। আমারও তো ভালোবাসা দরকার, সে আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে, আমি তোমাকে ভালোবাসি তো কী হয়েছে... আমি তাকেই বিয়ে করে তাকে নিয়ে ঘর-সংসার করব, সে অনেক কেয়ারিং।
যখন তোমাকে খুব মনে পড়ে, আমি রাস্তায় নেমে পড়ি, অনেক হাঁটি। হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, নিরুদ্দেশ হয়ে যাই। তুমি অদৃশ্য কোনও এক বাঁধনে আমাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলেছ, এই বাঁধন ছিঁড়ে পালানোর ক্ষমতা আমার নেই, অথচ তুমি তো খুব কম কথা বলো আমার সাথে, তাহলে কীভাবে পারলে আমাকে তোমার দিকে এতটা টেনে নিতে?
আমার নিজের কাছ থেকেই পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। তোমাকে এত ভালো না বাসলেও পারতাম, আর তো কোনোদিনই কাউকে ভালোবাসতে পারব না। এখন আমার কী হবে, বলতে পারো?
তোমার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছি পুরোপুরি, তোমাকে ভালো না বাসলে আর বেঁচে থাকাই সম্ভব হবে না আমার পক্ষে।
আমাকে থামাও, আমি তোমাকে এত ভালোবাসতে চাই না। এমন কিছু করো যাতে আমি তোমাকে ভুলে যাই।
আমাকে কেউ মেসেজ দিলে মেসেজ সিন করতেও ইচ্ছে করে না, আর এই আমিই কিনা তোমাকে দুনিয়ার সব কথা লিখে ফেলি! আমার বিয়ে হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে, তাই না? হাজব্যান্ড সামনে থাকলে আর মেসেজ দেওয়ার সুযোগই থাকবে না। আমার মতো ফাজিলের বিয়েই হয়ে যাওয়া উচিত তাড়াতাড়ি, ওয়ান-সাইডেড লাভ শেষ করে দিচ্ছে আমাকে। ভালোবাসি একজনকে, আর বিয়ে করব আর একজনকে, এর চেয়ে বড়ো শাস্তি আর কিছু নেই। কিন্তু আমি তোমার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের অস্তিত্বই ভুলে যাচ্ছি, আমার ইমোশন কন্ট্রোল করতে পারছি না, তাই আমার একটা বর লাগবে তাড়াতাড়ি।
আমি কারও বউ হয়ে গেলে তোমার একটুও খারাপ লাগবে না? একটুও মিস করবে না আমাকে?
তুমি অবাক হও না আমার কথায়? হঠাৎ এসব কেন বলছি, জানো? কাল আমার এক্জাম, আমি কিছুই পড়তে পারছি না, শুধু তোমাকে নিয়ে ভাবছি। মেজাজ খারাপ, তাই উলটাপালটা বকে যাচ্ছি।
তুমি আমার প্রথম প্রেম না, তুমি আমাকে স্পর্শ-করা প্রথম পুরুষ না, তুমি আমার হাজব্যান্ড না... তাহলে কীসের এত টান তোমার প্রতি আমার! এই টান শতচেষ্টা করেও অন্য কারও জন্যে আমি ফিল করতে পারি না কেন?
তুমি আমাকে তাড়িয়েও দাও না, আবার ধরেও রাখার চেষ্টা করো না। আমি তাহলে করবটা কী!
আচ্ছা, হঠাৎ যদি দেখো, আমি আর মেসেজ দিচ্ছি না, তোমার খারাপ লাগবে না? আমি জানি, তোমার খারাপ লাগবে, তবুও তুমি আমাকে খুঁজবে না, তুমি আমাকে ছাড়া থাকতে পারো, কিন্তু আমি তো তোমাকে ছাড়া পারি না থাকতে। আসলে বেশি রোমান্টিক মানুষের কপালে এক দুঃখ ছাড়া আর কিছুই থাকে না।
তুমি আমার প্রথম নও, তবে শেষ ভালোবাসা। একটা রিপ্লাই তোমার কাছ থেকে পেলে আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাই।
আমার হাজব্যান্ড দশ বছর আমার সাথে থেকেও আমাকে ভালোবাসেনি, আর তুমি এই কয়দিনের পরিচয়ে কেনই-বা আমাকে ভালোবাসবে?
আমি কোনোদিনই ড্রাগ নিইনি; আমার মনে হয়, ড্রাগ-অ্যাডিক্টেডরা ড্রাগের জন্যে যেমন ক্রেইজি, আমিও তোমার জন্যে ঠিক তেমন ক্রেইজি।
মাঝে মাঝে ভাবি, একটা পুরুষহীন জীবন হলে কেমন হয়?... মন্দ হয় না কিন্তু। একেবারেই একা থাকলাম নাহয়, বাবা-মা, সন্তান, পড়াশোনা নিয়েও তো ভালো সময় কাটানো যায়।
কাউকে নিয়ে ভাবতেই হবে, এমন তো কোনও কথা নেই, তাই না? একা থাকা তেমন কষ্টের কিছুই না আসলে, আমি মনে হয় নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারব যে-কোনও পরিস্থিতিতে। কাল থেকে সিরিয়াসলি পড়া শুরু করতে হবে, মানুষের দিকে ফোকাস করার চেয়ে বরং ক্যারিয়ারের দিকে ফোকাস করলে জীবনে কোথাও আটকাতে হবে না। সব জীবনের গল্পে প্রেম-ভালোবাসা, ঘর-সংসার থাকে না। কোনও সমস্যা নেই জীবন একটু অন্যরকম হলে।
ম্যাচিউরড মানুষ হতে পারলে স্থায়ীভাবে কাউকেই পাশে প্রয়োজন পড়ে না... ইমোশনাল সাপোর্টের জন্যেও না, ফিজিক্যাল নিড ফুলফিলের জন্যেও না। বিষয়টা বুঝতে পারলে আর কিছুতেই মন খারাপ হবে না।
আমি কারও হতে চাই না, আমি কমপ্লিটলি একা থাকতে চাই, তোমাকে ওয়ান-সাইডেড ভালোবাসায় বাঁধতে চাই না। আমি শুধু আমাকেই ভালোবাসতে চাই, আমার পাশে কাউকেই দরকার নেই।
আত্মপ্রত্যাবর্তনের বেদনা
লেখাটি শেয়ার করুন