যার বন্দিত্ব তার নিজেরই মনের কাছে, তার মুক্তির পথ কোথায়?
আজ আমি বন্দি। নৈরাশ্য, হতাশা, অপ্রাপ্তি, যন্ত্রণা। এবং আরও কিছু দ্বিধা ও বাধা। এই সবকিছু মিলে আজ আমাকে ক্রমাগত এলোমেলো করে দিচ্ছে। আমি নিজে এলোমেলো, আমার কাজগুলিও এলোমেলো। আমি যেখানে আছি, সেখানেই থেকে যাচ্ছি এটা বুঝেও যে, এখান থেকে আমাকে বের হতে হবে। পালাবার পথ খুঁজছি, যদিও জানি, পথ খুঁজে পেলেও সে পথে নামতেই পারব না হয়তো।
আমার সমস্ত চমৎকারিত্ব আজ একটা একটা করে হারিয়ে যাচ্ছে। আমি যা-কিছু জানি, তার সবই আজ ভুলতে বসেছি। আমার পুরোটা ভাবনা জুড়ে আজ কেবলই একটা দুশ্চিন্তা: এই বন্দিত্বের শেষ কোথায়?
মাঝে মাঝে জানালা খুলে দিই। ভাবি, কিছু হাওয়া ঢুকুক, একটু নিঃশ্বাস নিই। হাওয়া ঢোকে, ভালো লাগে, বাঁচতে ইচ্ছে করে। পরক্ষণেই সবকিছু আবার আগের মতো। কখনও কখনও, জানালা খুলতে আমার মনে থাকে না। দিন কীভাবে কাটে, ঠিক বুঝতে পারি না। ঘুম ভাঙে, নিজেকে অথর্ব লাগে। ইচ্ছে করে, আমার চারপাশের বৃত্ত ভেঙে কিছু মানুষকে কাছে আসতে দিই। তবু পারি না, আমার কেবলই ভয় হয়। আমার বার বার মনে হয়, মানুষ কাছে আসে শুধুই কষ্ট দিতে। আমি থেকে যাই আগের মতোই। ঘুমের ওষুধ আমার দিকে ঠায় তাকিয়ে থাকে।
একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি স্বপ্ন দেখি। একদিন এই বন্দিত্ব আর থাকবে না। সেদিন আমি মুক্ত শরীরে ঘুরে বেড়াব। আমার মন ও মস্তিষ্ক মিলে আমাকে সেখানে নিয়ে যাবে, যেখানে গেলে মানুষ আমাকে মানুষ বলবে। আমি মানুষের চোখে মানুষ হবার স্বপ্ন দেখি।
এখন একটাই পথ খোলা: আমাকে পালাতে হবে।
অথর্ব সকালের দিনলিপি
লেখাটি শেয়ার করুন