শৈব কালী: ছিয়াত্তর



প্রেতকালী তান্ত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক দুই দৃষ্টিতেই এক গভীর প্রতীক—তিনি ভয়ঙ্কর হলেও মুক্তিদায়িনী, মৃত্যুর রূপেও জীবনদাত্রী। শাস্ত্রের ভাষায় তিনি কালীর সেই রূপ, যিনি মৃতচেতনা বা আত্মবিস্মৃত অবস্থা থেকে আত্মবোধ জাগিয়ে তোলেন।

এখানে “প্রেত” শব্দটির অর্থ কেবল মৃতদেহ নয়; এটি সেই চেতনার অবস্থা, যা জীবিত থেকেও নিজের আসল প্রাণসত্তাকে ভুলে গেছে। অর্থাৎ, যে মানুষ বা আত্মা জানেই না যে, সে চেতনা—যে কেবল অভ্যাস, আকর্ষণ, ভয়, বা অজ্ঞানতার নিদ্রায় যান্ত্রিকভাবে বেঁচে আছে—তাই আসলে প্রেত। এই অবস্থায় চেতনা জাগ্রত নয়, বরং মায়ার ঘোরে নিমগ্ন; জীবনের ভেতর জীবন নেই, আছে কেবল পুনরাবৃত্তি।

প্রেতকালী সেই জাগরণশক্তি, যিনি এই মৃতচেতনার নিদ্রা ভাঙেন। তাঁর ভয়ংকর রূপের অর্থ—তিনি অবিদ্যার প্রতি কোনো করুণা দেখান না; তিনি তাকে বিদীর্ণ করেন, দগ্ধ করেন, এবং সেই ভস্ম থেকেই নতুন চেতনার জন্ম দেন। তাঁর হাসি ও নৃত্য মৃত্যুর নয়, বরং পুনর্জন্মের সংকেত।

প্রেতকালী মানুষের ভিতরের অবচেতন নিষ্ক্রিয়তা ও নিদ্রাচেতনাকে ভাঙার প্রতীক। আমরা প্রায়ই “জীবিত প্রেত” হয়ে যাই—চেতনা অচল, ইচ্ছা নিস্তেজ, জীবনের প্রতি কোনো সংবেদন নেই। প্রেতকালী সেই অভ্যন্তরীণ ধাক্কা, যা মানুষকে নিজের ঘুম থেকে জাগিয়ে বলে—“তুমি মৃত নও, তুমি চৈতন্য।”

তাই, তিনি অন্ধকারের দেবী নন—বরং অন্ধকারে আলোকজাগরণের শক্তি। তাঁর নৃত্য ভয়ংকর, কারণ তিনি অবচেতনের গভীরে প্রবেশ করেন, কিন্তু মুক্তিদায়িনী, কারণ তিনি সেই অন্ধকারেই দীপ্তি জ্বালান। প্রেতকালী শেখান যে, মৃত্যু চেতনার অন্ত নয়; বরং তা নতুন চেতনার উন্মেষ।

প্রেতকালী হলো চেতনার পুনর্জাগরণের প্রতীক—যিনি মৃতসত্ত্বাকে চেতনার দীপ্তিতে পুনরুজ্জীবিত করেন। তাঁর শক্তি সেই মহাজাগরণ, যেখানে মানুষ বুঝতে শেখে—যা মৃত মনে হচ্ছিল, তা আসলে নিদ্রিত; আর জাগরণ মানেই মুক্তি।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে, প্রেতকালী হলেন আত্মজাগরণের রূপক। উপনিষদে বলা হয়েছে—“প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম”—চেতনা নিজেই ব্রহ্ম। কিন্তু যখন এই চেতনা দেহ, ইন্দ্রিয় ও মনকে “আমি” বলে ভুল করে, তখন তা হয়ে যায় মৃতসত্তা, কারণ সে নিজের শুদ্ধ সত্তাকে জানে না। প্রেতকালী সেই “অবিদ্যা বা অজ্ঞান-মৃত্যু”-র নাশিনী। তিনি যেন আত্মায় আগুন ধরিয়ে দেন, যাতে তা আবার জ্ঞানের দীপ্তিতে জেগে ওঠে। তাঁর ভয়ঙ্করতা আসলে পুনর্জাগরণের প্রতীক—তিনি ভয় দেখিয়ে নয়, মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জাগিয়ে তোলেন। যেমন গীতায় কৃষ্ণ বলেন—“মৃত্যুঃ সর্বহারশ্চাহম্” (গীতা, ১০.৩৪)—মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তিনি পুনর্জন্ম দেন আত্মাকে।

কাশ্মীর শৈব দর্শনের আলোকে, প্রেতকালী হলেন স্পন্দতত্ত্ব-এর অন্তর্গত নিঃশেষ গতি—চেতনার এমন স্পন্দ, যেখানে মৃত বা স্থবির অবস্থা ভেঙে প্রাণ ফিরে পায়। শৈব দৃষ্টিতে, মৃত মানে, যে-চেতনা নিজের স্বরূপে অবচেতন; আর কালী মানে সেই শক্তি, যা আবার চেতনার স্বাতন্ত্র্য (svātantrya) পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। প্রেতকালী তাই “প্রতিসংহৃত বিমর্শশক্তি”—যিনি চেতনার গভীর নিস্তব্ধ অন্ধকার থেকে আলোর তরঙ্গ জাগিয়ে তোলেন। তাঁর নৃত্য মৃত্যুর নয়, পুনরুত্থানের নৃত্য; তাঁর শ্মশান আত্মার পুনর্জন্মের ক্ষেত্র।

শাক্ত দর্শনে, প্রেতকালী হলেন “মহাশক্তির করুণার চরম প্রকাশ”—যিনি মৃতচেতনারও পরিত্যাগ করেন না। তাঁর লীলা শ্মশানমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়, কারণ শ্মশান মানে সেই সীমারেখা, যেখানে জীবন ও মৃত্যু, চেতনা ও অচেতন, বাস্তব ও শূন্যতার সীমানা বিলীন। তিনি প্রমাণ করেন—চেতনা কখনও মরে না, কেবল আবৃত হয়; আর সেই আবরণই তিনি ছিন্ন করেন। তন্ত্রশাস্ত্রে বলা হয়েছে—“মৃতো ন চেতন্যবিমুখো”—যে চেতনা থেকে বিমুখ, সে-ই মৃত; আর কালী সেই বিমুখতাকে ধ্বংস করে আত্মবিমুখ মনকে পরমবিমর্শে রূপান্তরিত করেন।

মনস্তাত্ত্বিকভাবে, প্রেতকালী মানুষের অভ্যন্তরীণ অবচেতনতার জাগরণশক্তি। তিনি সেই অন্তর্গত “inner death” বা অস্তিত্বহীনতার অনুভূতিকে চেতনার পুনর্নবীকরণে রূপান্তরিত করেন। আধুনিক মনোবিশ্লেষক কার্ল ইয়ুং যেভাবে বলেছেন, “The death of the ego is the birth of the Self”—প্রেতকালী এই মনস্তাত্ত্বিক মৃত্যুরই দেবী, যিনি পুরোনো অহংকে বিলুপ্ত করে আত্মার প্রকৃত জীবন্ততাকে প্রকাশ করেন। তাঁর “প্রেতনৃত্য” মানে অবচেতনের সেই ভয়ঙ্কর কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মন নিজের ছায়া ও অন্ধকারের মুখোমুখি হয় এবং সেখান থেকে নবজাগরণ ঘটে।

প্রেতকালী মৃত্যু ও জীবনের মধ্যে থাকা এক রহস্যময় সেতু—তিনি শেখান, যা মৃত বলে মনে হয়, তা আসলে নিদ্রিত চেতনা; আর যা ভয়ঙ্কর, তা আসলে পুনর্জন্মের সংকেত। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় তান্ত্রিক মন্ত্রের মতো চিরন্তন সত্য—“মৃত নয় কেউই, নিদ্রিত মাত্র; আমি সেই শ্বাস, যা মৃতদের জাগায়।”

সঙ্কটকালী: ইনি কালীর সেই রূপ, যিনি বিপদে রক্ষাকারিণী, সংকটে আশ্রয়দাত্রী, আর অন্তিম মুহূর্তে জাগ্রত করুণা। তাঁর নামেই নিহিত আছে উদ্দেশ্য—“সঙ্কট” মানে জীবনের গভীর বিপদ, সংকীর্ণতা বা সঙ্কুচিত চেতনা; আর “কালী” মানে সেই শক্তি, যিনি অন্ধকার ও ভয়ের মধ্য দিয়েই মুক্তির আলো প্রকাশ করেন। তাই সঙ্কটকালী কেবল বাহ্যিক বিপদের দেবী নন; তিনি আন্তরিক অন্ধকারের রক্ষাশক্তি—যিনি মানুষকে নিজের অবসাদ, হতাশা, ভয় ও অসহায়তার গভীরতা থেকে টেনে তুলে চেতনার জাগরণ ঘটান।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে, সঙ্কটকালী হলেন সেই ব্রহ্মশক্তির প্রতীক, যিনি মায়ার বিভ্রমে আক্রান্ত জীবচেতনাকে আশ্রয় দেন। গীতায় কৃষ্ণ বলেন—“সর্বধর্মান্‌ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ। অহং ত্বা সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ” (গীতা ১৮.৬৬)—"সমস্ত কর্তব্য (ধর্ম) সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করে, কেবল আমারই শরণাপন্ন হও।" সত্যের প্রতি আত্মসমর্পণই মুক্তির পথ।

অদ্বৈত বেদান্তের দৃষ্টিতে “মামেকং শরণং ব্রজ” (মাম্ একং শরণং ব্রজ) — অর্থাৎ “সমস্ত ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণ নাও”—গীতার সবচেয়ে অন্তর্গত দার্শনিক মুহূর্ত। এটি কেবল ভক্তির আহ্বান নয়; এটি চেতনার আত্মসমর্পণের আহ্বান, যেখানে ব্যক্তি নিজের স্বতন্ত্রতা বিলিয়ে দেয় পরম চেতনার ঐক্যে।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে “মাম্” বলে কোনো ব্যক্তির প্রতি ভক্তি চান না; বরং তিনি বলছেন—“আমার” মানে সেই ব্রহ্ম, সেই আত্মা, যা সকলের মধ্যেই বিদ্যমান। যখন বলা হয় “মামেকং”—এর অর্থ, ওই একমাত্র চেতনা, যার বাইরে কিছু নেই। তাই “শরণং ব্রজ” মানে বাহ্য দেবতার পায়ে পড়া নয়, বরং নিজের অহংকার, নিজের কর্তা-ভাব, নিজের ভিন্নতা-বোধ সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করা।

অদ্বৈতের ভাষায়, এ শরণাগতি হলো আত্মোপলব্ধি-প্রক্রিয়া—নিজেকে ব্রহ্মরূপে জানা। “সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য” মানে এখানে সামাজিক ধর্ম নয়, বরং সব কর্তব্য-চিন্তা, ফল-বোধ, কর্তা-অহংকার—এই সমস্ত মনের সংস্কার ত্যাগ করা। যতক্ষণ ব্যক্তি ভাবে, “আমি কর্তা”, ততক্ষণ সে সীমিত; আর যখন বলে “সব কিছু তোমারই”, তখন সেই “তুমি” ও “আমি” এক হয়ে যায়। এই ঐক্যই মোক্ষ।

তাই শ্রীকৃষ্ণের অভয়বাণী—“অহং ত্বা সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ”—অদ্বৈতের ভাষায় যার মানে, “যখন তুমি কর্তা-ভাব ত্যাগ করে নিজেকে আত্মরূপে চেনো, তখন সব পাপ বা অজ্ঞতা বিলীন হয়, কারণ তখন আর দ্বৈততা থাকে না।”

“মামেকং শরণং ব্রজ” কোনো বাহ্য আচার নয়, বরং অহংকারের মৃত্যু ও আত্মার জাগরণ। এখানে শরণাগতি মানে আত্মসমর্পণ নয়, আত্মচেতনার পুনরুদ্ধার—যেখানে জানা যায়, যাঁর কাছে আশ্রয় নিচ্ছি, তিনিই আমার স্বরূপ। এই উপলব্ধিতেই গীতা, বেদান্ত ও সমস্ত যোগ-তন্ত্র মিলিত হয়—“যা-কিছু ত্যাগ করি, তা আমার মিথ্যা অহংকার; আর যাঁর শরণ নিই, তিনিই আমার সত্য আত্মা।”

সঙ্কটকালী সেই “এক সত্য”-এর প্রতিমূর্তি; তাঁর করুণা মানে আত্মসমর্পণের শক্তি, যার দ্বারা জীব সমস্ত ভয় অতিক্রম করে নিজের ব্রহ্মস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর রক্ষাশক্তি বাহ্যিক নয়—এটি চেতনার অন্তরস্থ অবিচল স্থিতি (sthiti)। জীব যখন নিজের সত্তাকে শরীর বা ভাগ্যের সঙ্গে অভিন্ন ভাবে, তখনই সে সঙ্কটে পতিত হয়; আর কালী সেই ভ্রান্তি ভেঙে বলে ওঠেন—“তুমি মৃত্যুর নয়, তুমি চেতনার সন্তান।”

কাশ্মীর শৈব দর্শনের আলোকে, সঙ্কটকালী হলেন স্বাতন্ত্র্যশক্তি-র আশ্রয়রূপা প্রকাশ—যিনি বিপদের মধ্যেও শিবচেতনার স্বাধীনতাকে স্মরণ করিয়ে দেন। শৈব দৃষ্টিতে, কোনো বিপদ প্রকৃত অর্থে চেতনার শক্তিরই এক পরীক্ষামূলক প্রকাশ। অভিনবগুপ্ত বলেছেন—“দুঃখং বিমর্শায় শক্তিঃ”—দুঃখ আসলে বিমর্শের শক্তি, কারণ সেটিই চেতনাকে নিজের গভীরে ফেরায়। সঙ্কটকালী সেই তীব্র মুহূর্তের দেবী, যখন মন বিচলিত, চেতনা আচ্ছন্ন এবং আত্মা বিপর্যস্ত—তিনি তখন মনে করিয়ে দেন যে, বিপদই আসলে আত্মবোধের সূচনা। তাঁর রূপ তাই রৌদ্র নয়, দীপ্ত—যে আলো অন্ধকার ভেদ করে।

শাক্ত দর্শনে, সঙ্কটকালী মাতৃরূপে করুণাময়ী—তিনি সন্তানের বিপদে কখনও নির্লিপ্ত নন। তিনি “রক্ষা” করেন, কিন্তু সেই রক্ষা বাইরের অলৌকিক ঘটনায় নয়; বরং অন্তরে জাগিয়ে তোলেন সাহস, বুদ্ধি ও স্থিরতা। তন্ত্রে বলা হয়েছে—“কালী করুণা রূপিণী”—তাঁর ভয়ংকর রূপই করুণার প্রতীক, কারণ সংকটে তিনিই স্থিতির উৎস। সঙ্কটকালী সেই শক্তি, যিনি ভয়কে রূপান্তর করেন বোধে, দুর্বলতাকে রূপান্তর করেন দৃঢ়তায়, আর অন্ধকারকে পরিণত করেন অন্তর্দীপে।

মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে সঙ্কটকালী মানুষের ভিতরের সেই আদি-শক্তির প্রতীক, যাকে বলা যায় resilience archetype—অর্থাৎ মানসিক প্রতিরোধ ও পুনর্জাগরণের চেতনা। তিনি সেই দেবী, যিনি মানুষকে শেখান যে, ভয়, ক্ষতি বা ধ্বংসের মধ্যে দিয়েই আত্মা নিজের অন্তর্গত শক্তিকে আবিষ্কার করে।

যেমন শাস্ত্রে কালী ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে সৃষ্টি করেন, তেমনি মনোবিজ্ঞানে বলা হয়—মানুষের চেতনা প্রায়শই সঙ্কটের আগুনে নতুনভাবে গঠিত হয়। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই প্রক্রিয়াটিই post-traumatic growth—অর্থাৎ গভীর আঘাত বা দুর্যোগের পর আত্মার বিকাশ, চেতনার প্রসারণ এবং জীবনের নতুন অর্থের সন্ধান। এই বৃদ্ধি আসে, যখন ব্যক্তি নিজের যন্ত্রণা থেকে পালায় না, বরং তা গ্রহণ করে, বুঝে, এবং তার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে যায়।

সঙ্কটকালী সেই অন্তর্গত তপোশক্তির প্রতীক—যিনি মানুষের অবচেতনে নিদ্রিত সাহস (courage), বিশ্বাস (faith) ও জাগরণের (awakening) শক্তিকে জাগিয়ে তোলেন। তাঁর উপস্থিতি বাইরের নয়; তিনি উদিত হন অন্তরের গভীর স্তর থেকে, যেখানে মানুষ নিজের সীমা, ভয়, ও দুর্বলতার মুখোমুখি দাঁড়ায়। তখন তাঁর কণ্ঠ যেন অন্তর থেকে বলে ওঠে—“ভয় কোরো না, এই সঙ্কটই তোমার চেতনার জন্মক্ষণ।”

সঙ্কটকালী সেই মুহূর্তের দেবী, যখন সব বাহ্য ভরসা ভেঙে পড়ে, অথচ আত্মার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত স্থিরতা জেগে ওঠে। মনোবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা যায় “adaptive transformation”—যেখানে মানসিক ভাঙনই পরিণত হয় অন্তর্দৃষ্টি ও শক্তির উত্থানে।

তাঁর রুদ্ররূপ আসলে ধ্বংস নয়, বরং মানসিক পুনর্গঠনের আগুন। তিনি শিখিয়ে দেন যে, বিপর্যয় কোনো অভিশাপ নয়; এটি চেতনার গভীর স্তরে পরিবর্তনের আহ্বান। সঙ্কট আমাদের সব ভান, অহং, এবং বাহ্য ভরসা ভেঙে দেয়, যাতে আমরা নিজেদের সত্য কেন্দ্রকে চিনতে পারি।

সঙ্কটকালী মানুষের অন্তর্গত অবিনশ্বর চেতনার জাগরণরূপা শক্তি—যিনি শেখান, বিপর্যয়ই প্রকৃত শিক্ষক, ধ্বংসই পুনর্জন্মের প্রারম্ভ। তাঁর মুখে ভয় নয়, বরং গভীর আশ্বাস—“সব ভেঙে যাক, তবু তুমি থাকবে, কারণ তুমি সেই চেতনা, যা কখনও ধ্বংস হয় না।”

সঙ্কটকালী কেবল রক্ষাকারিণী দেবী নন; তিনি জীবনের প্রতিটি সঙ্কটের অন্তর্নিহিত করুণা—যিনি শেখান, বিপদই কখনো কখনো পরম আশীর্বাদ। তিনি বলেন না, “বিপদ দূর হবে”, বরং শেখান, “বিপদের মধ্যেই তুমি নিজেকে চিনবে।” তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই যেন প্রতিধ্বনিত হয় সেই আদিম প্রতিশ্রুতি—“সঙ্কটে আমি আছি, কারণ আমি তোমার মধ্যেই স্থিত।”