মুক্তির অভিজ্ঞতা




একটি পরিচিত গল্প আছে। সমুদ্রতটে শত শত স্টারফিশ ভেসে এসে বালুচরে আটকে ছিল। এক বালক সেগুলো একে একে তুলে সমুদ্রে ছুড়ে দিচ্ছিল। তখন এক বৃদ্ধ এসে বললেন—“এতগুলো স্টারফিশের মধ্যে কয়েকটা ফেরালে কীই-বা হবে?”

বালক থেমে না থেকে আরেকটি সমুদ্রে ছুঁড়ে দিয়ে উত্তর দিল—“ওটার জন্য কিন্তু পার্থক্য হলো।”

মানুষের জীবনও অনেকটা সেই স্টারফিশের মতো। সমাজের স্রোতে ভেসে এসে অধিকাংশ প্রাণ শুকনো অহংকারের খোলসে ঢেকে বালুচরে পড়ে থাকে। তাদের চলন নির্ধারিত হয় সামাজিক নিয়মে, কৃত্রিম আচরণের বাঁধনে।

কখনো কখনো কিছু হৃদয়ে অন্তর্গত সাড়া জাগে—অদৃশ্য সমুদ্রের ডাক প্রতিধ্বনিত হয়। তখন তারা খুঁজতে শুরু করে ফিরবার পথ। সেইখানে এক জাগ্রত পথপ্রদর্শক সাক্ষ্য দেয়—ফেরার পথ আছে।

ফেরার পথে আবিষ্কার হয় এক চিরন্তন সত্য—অহংকার আসলে জলে দ্রবণীয়। একবার প্রেমের অসীম সমুদ্রে ফিরে গেলে অহংকার গলে যায়, ব্যক্তিসত্তা বিলীন হয়। তখন কেবল থেকে যায় সমুদ্রের সাথে অখণ্ড একাত্মতা।

আর সেই অভিজ্ঞতাই প্রকৃত মুক্তি।