গল্প ও গদ্য

গোলাপ ছোঁয়ার মুহূর্তে

তোমাকে তো আমি মুক্তি দিয়েই দিয়েছি। তবে এখন কাঁদছ কেন? পুরোনো দিনের কথা ভেবে? আমার কথা ভেবে? না কি আমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা ভেবে? না কি এখন তুমি ততটা ভালো নেই, যতটা ভালো থাকার জন্য আমাকে দূরে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলে?

আমার সাথে থাকতে তোমার ভালো লাগত না বলেই আমি সরে এসেছি। তুমি ভালো থাকলেই আমি খুশি। তোমাকে ভালোবাসি, আর তাই তোমাকে ভালো রাখার জন্য তোমাকে ছেড়ে আসতে আমার খুব খারাপ লাগলেও আমি তা মেনে নিয়েছি তোমার জন্যই।

তুমি ক্রমেই গভীর হতাশায় ডুবে যাছিলে। তোমার সবকিছুই যেন ভেঙে পড়ছিল একটা একটা করে। আমার কারণেই ওরকম হচ্ছিল, এমন কথা শুনতে শুনতে একসময় ভাবলাম, কেন আমি জোর করে থেকে যেতে চাইছি তোমাকে এমন অসুখী করে রেখেও? আমি যে তোমাকে ভালোবাসি, তবে এ কি আমি ঠিক করছি? ভালোবাসলে যে ভালো রাখতে হয় সবার আগে!

আমি সরে এলাম। কিন্তু হায়! এ কী হলো? তোমার দুঃখ তো কমল না এতটুকুও! বরং দিন দিন দুঃখ বাড়ছে! আমার পক্ষে তোমাকে কষ্টে দেখা সহজ নয়। প্রিয়, দুঃখ পেয়ো না। আজ বুঝতে পারি, তোমার দুঃখের কারণ কখনোই আমি ছিলাম না। কারণ কী ছিল, তা খুঁজে পাওনি বলেই আমাকে দূরে সরালে অমন করে! একটু অপেক্ষা করা যেত না? আরও একটু ভেবে দেখা যেত না?

আমাকে আর ডেকো না এমন করে। আমি কিছুতেই ফিরে যাব না। আমার কষ্ট হবে তোমার ডাকে সাড়া না দিয়ে বেঁচে থাকতে, তবু আমি পারব নিজেকে সামলে নিতে। যে আমাকে ছেড়ে চলে যায়, তার কাছে আমি আর যাই না। আমার পায়ে ধরলেও যাই না, আমার জন্য কাঁদতে কাঁদতে মরে গেলেও যাই না। আমাকে চাইলেই ফিরে পাওয়া যায় না, আমার ভালোবাসাকে যে অবহেলা করে, সে আমাকে ডিজার্ভ করে না। এসব ইগোর কথা নয়, এসব সত্যি কথা। এই কথাগুলো এতদিন বলিনি, আজ মনে হলো, বলে দিই!

যারা একতরফা ভালোবাসে, ওদের অনেক ধৈর্য, কারণ ওরা দিনশেষে কিছুই পাবে না জেনেও ভালোবেসেই যায়, লাভ-লোকসান হিসেব করে না। ভালোবাসা ওয়ান-সাইডেড হলেই স্যাক্রিফাইস করার সুযোগ বেশি থাকে। তোমার কথা ভাবলেই আমি ব্যাকডেটেড মানুষ হয়ে যাই, কাউকে নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে ব্যাকডেটেড মানুষেরা। তাই তুমি কাঁদছ ভাবলে আমার ভীষণ অস্থির লাগে; মনে হতে থাকে, থাক, এতকিছু না ভেবে তোমার কাছে ছুটে যাই! পরমুহূর্তেই আবার ভাবি, যদি ফিরিয়ে দাও, তবে এবার আর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব না।

তোমার মনে পড়ে, তুমি আমাকে বলতে, আমার হৃদয়টা গোলাপের মতো, ছুঁতে গেলে খুব সাবধানে ছুঁতে হয়! শুনে আমি চুপ করে হাসতাম। তখন বুঝে না বুঝে কত কী-ই তো বলতে! এখন ভাবি, কেন তুমি তখন বোঝোনি, গোলাপ ছুঁতে চাইলে যে কাঁটার আঘাত সহ্য করার জন্য তৈরি থাকতে হয়!
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *