গল্প ও গদ্য

মৃত জলদ-শহরে দেখা

আমাদের পরিচয়টা যেন টিকে থাকে পুরোনো ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতন। আমি শুরু থেকেই চেয়েছিলাম— আবেগ কমিয়ে, তোমার মতো স্রোতে গা ভাসিয়ে ইচ্ছেমতো বাস্তবতা নিয়ে জীবন কাটাতে।

আচ্ছা, সবার জীবনের বাস্তবতা কি আর সমান হয়, বলো? এই যেমন, তোমার বাস্তবতায় আমি এক অপ্রয়োজনীয় উপাদান মাত্র; আবার, আমার বাস্তবতায়—তুমি কেবলই এক কল্পনা মাত্র। যদিও, কখনো কখনো এই কল্পনা ভয়ংকর যন্ত্রণায় রূপ নেয়, তোমার চোখজুড়ে যে তীব্র অস্থিরতা, তা যে কেবল এক স্বর্গীয় কামনায় সুরক্ষিত—তা কিন্তু আমি জানি।

আমার মনে হয়, আমাদের দেখা না হলেই ভালো হতো; কক্ষনো দেখা না হলে, আমি হতাম পৃথিবীর সবথেকে অসুন্দর মানুষ। আমি অসুন্দর হয়ে এখন আর বাঁচতে চাই না। তোমাকে ছোঁয়ার পর থেকে আমার মনের মধ্যে এক তীব্র অনুভূতির সাক্ষাৎ আমাকে এখন অবধি শান্তিতে ঘুমোতে দেয় না।

তবে জানো...সুন্দর মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার সৃষ্টিকর্তা সবাইকে দেন না। আমাদের যতবার দেখা হয়েছে—আমি তোমায় খুব গভীরেই আমার কাছে নিয়েছি, যেন আমাদের শরীরের এই দূরত্বটা চোখে না পড়ে। কিন্তু তা সম্ভব নয়। আমি প্রতিবারই ভীষণভাবে ব্যর্থ হয়েছি।

আমাদের যাত্রাপথ নিঃসন্দেহে এক নয়—তবে আমরা দু-জন মিলেছিলাম এই অনন্ত যাত্রায়...কোনো এক বিশেষ অভিসন্ধিতে। সব কিছুর উত্তর এই জাগতিক নিয়মে পাওয়া সম্ভব নয়, জানো তো?

চলো…বরং অপেক্ষা করি! হয়তো, কোনো এক মৃত জলদ-শহরে আমাদের আবার দেখা হবে। সেখানে কোনো স্পর্শের প্রয়োজন হবে না, শুধুই এক রূপান্তরের অপেক্ষা…

আজ আমাদের দেখা হয়েছিল…আমি এখন পর্যন্ত ছিয়াশি বার তোমার সাথে এই একই দিনে আছি। সম্ভবত এটাই আমাদের শেষ দেখা।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *