আমি কখনোই সত্যি সত্যি পাগল ছিলাম না, কেবল সেইসব লেখাপত্র ছাড়া...যখন তুমি আমার হৃদয় স্পর্শ করতে।
তোমার সাথে যোগাযোগ রক্ষার্থেই যে কেবল লেখালেখির কাজটা করেছি—তেমনটা গল্পের মতন শোনালেও, এটাই সত্য। তুমিই একবার বলেছিলে—এমন অনেক মাস্টারপিস সৃষ্টি হয়েছে, যা কখনও পৃথিবীর সামনে আসেনি; যা আরও গভীর, অন্ধকার এবং অসীম মানবিক কিছু।
এটি আমার স্মৃতিতে ঘিরে-থাকা অস্তিত্বগত অন্ধকারের প্রতি এক আর্তনাদ—যা তোমার মধ্যে নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ নতুন পথের অনুসন্ধানে...আমার আত্মার সূক্ষ্মতর চিন্তনে তোমার অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। এটি অনেকের কাছেই একটি প্রেমের গল্প, কিংবা বিচ্ছেদের। তবে, আমার কাছে একেবারেই তা নয়—যা খুব কম মানুষের ইন্দ্রিয়ই বোঝে।
ওরা প্রত্যেকেই আমার দিকে এমনভাবে তাকায়, যেন আমি একধরনের স্বীকারোক্তিদাতা। একাধিক বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেও, আমি সফল হইনি—এখন এই পরিকল্পনাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে চাইছি।
তুমি কেন আমার জীবনে এলে? জীবনের শেষ ক্ষণগুলো যেন যন্ত্রণার নীরব সাক্ষী। কিন্তু তোমরা কেউই আমাকে দেখতে পাও না—একাকিত্ব বাড়াতেই মেনে নিয়েছি তোমার সাথে এই বিচ্ছিন্নতা।
যে-ভক্তি দ্বারা আচ্ছন্ন তোমার শরীরের ঘ্রাণ, সে বোধগম্যতা ফিরিয়ে আনতে না পারার আফসোস কতখানি?
এই বিচ্ছিন্ন জীবনের মধ্য দিয়ে, আমার আত্মায় সবচেয়ে ভঙ্গুর চিত্রটি আঁকা হয়েছে—যা কেবলই তোমার সাথে সংযোগের জন্য আকুল, তবুও নির্জনতায় আটকা পড়ে আছি।
আমি তোমার কাছে প্রেমের জন্য নয়, বরং উপাস্যের আকুলতায় চোখের অশ্রু লুকোই। দেখা, শোনা এবং পরিচিত হওয়ার সেই প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে যা-কিছু আছে—তা-ই আমাদের পরিণয়।
আমি লক্ষ করেছি, আমার প্রতি তোমার সহানুভূতিতে একধরনের যন্ত্রণাদায়ক নীরবতা ফুটে ওঠে। তোমার আচরণের প্রতিটি অব্যক্ত শব্দের প্রতিধ্বনি আমার প্রার্থনাকে পূর্ণ করে। এই শহর, তোমার চোখ, কিছু মুহূর্ত—এরা সবাই-ই আলোকিত সত্যে রূপান্তরিত হয় আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে।
সর্বদা কেন ছুটছ? তুমি এটি কখনোই পুরোপুরি ধরতে পারবে না—কেননা, অস্তিত্বহীন কোনো জিনিসের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। ভালোবাসা, অর্থ, স্বত্ব, শান্তি—এসবের কী নেই তোমার, বলো? তবুও, আমরা এই শরীরটার ভেতর শুধুই একা।
এই সত্তাটা এমন কোনো বই নয়, যা তুমি একবারে পড়তে পারো—এটি বন্ধ করার পরেও অনেকক্ষণ চুপচাপ থাকে, যেমন কিছু গান সবসময় নীরবতা বজায় রাখে। এই মৃদু সুরটিই তোমাকে জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোতে নিয়ে যাবে, তুমি অনুভব করতে পারবে...এক অদৃশ্য ব্যথা তোমারও আছে, এবং কখনও কখনও, তুমি এই সুর থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চাইলেও পারবে না—এই সর্বোচ্চ মৃদু সুরটিও তোমার কানের পর্দা ছিঁড়ে ফেলতে সক্ষম।
অস্তিত্বগত অন্ধকার
লেখাটি শেয়ার করুন