ভাবনার বনসাই

ভাবনার বনসাই: দুই-শো ছাব্বিশ



১) অনেকসময়, অনেক সহজ সিদ্ধান্ত জীবনকে কঠিন করে;
আবার অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত জীবনকে সহজ করে।

২) মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়, খাওয়ার সময়টুকু বাঁচিয়ে বিশ্রাম নিই। এত ক্লান্ত লাগে...

৩) একটা স্থানে, কতটা না থেকেও থাকা যায়, তার অভ্যাস করাটা জরুরি...যখন সবই চলে মনের বিপরীতে, তখন।

৪) একটা দিনও পেছন ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করে না। জীবন এতটা অস্থির কাটে কার‌ও?

৫) বুঝতে বুঝতে এখন আর কিছুই বুঝতে ইচ্ছে করে না। না বুঝলেই বরং পৃথিবী সুন্দর।

৬) বুকের ভেতরটায় কেমন ব্যথা করে, তা-ও যদি তোমাকে দেখাতে পারতাম, তুমি কি বুঝতে, তোমার জন্য আমার অনুভূতিতে কোনো মিথ্যে ছিল কি না?

৭) একটা বয়সে যেমন নিশ্চিন্তে বেঁচে থাকা যায়,
ধীরে ধীরে সে নিশ্চয়তা কেটে গিয়ে ভয় ভর করে—দম ফুরিয়ে যাবার ভয়।

৮) মাঝে মাঝে অনুমতি না নিয়ে চোখে যে-গতিতে অশ্রু আসে, ঠিক তেমন করেই তুমি জীবন থেকে চলে গেলে।

৯) তুমি একটু শক্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে নাও, তারপর নাহয় আমি ভেঙে পড়ব। কেমন?

১০) তোমাকে মনের আড়াল করতে, তোমারই পথে হাঁটি। আমার পায়ের ছাপ কি সে পথে পড়ে?

১১) খেয়াল করেছ, কিছু কিছু সময় অতিরিক্ত ক্ষুধা পাবার পর, খেতে চাইবার ইচ্ছেই মরে যায়। আমার ভ্রমণ করবার ইচ্ছেটা সেভাবেই মরে গেছে।

১২) ছোটোবেলায় আমরা কিছু-একটা না পেলে কতক্ষণই-বা আর কাঁদতাম?
অথচ বড়োবেলায় কিছু-একটা না পেলে আমরা এত দীর্ঘ সময় ধরে কাঁদি কেন?

১৩) আমি তোমায় কতটা ভালোবাসি, জানো?

আমার লেখা অক্ষরগুলো তোমায় বিশ্বাস করে যতটা!

১৪) অনুভূতির সাতকাহনে তোমার নাম দেখলে ঘাবড়ে যাবে না তো?

১৫) না, আমাকে অতটাও ভাঙতে পারোনি, যতটা ভেঙে যাবার পর মানুষ স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ করা শুরু করে।

১৬) আমার মিথ্যেগুলো, আমার চোখে জ্বলজ্বল করে স্পষ্টভাবে। তা-ও তুমি আমার জন্য এত মায়া করো কেন?

১৭) দেখো, আমাদের বাচ্চাটার নতুন দাঁত উঠেছে। এই দিনটা দু-জনে একসাথে দেখব কল্পনা করতে পেরেছিলে আগে?

এখন সত্যির মধ্যে বসেও কেমন জানি স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছে!

১৮) কী সুন্দর পাখি ডাকছে, তোমায় যদি একটু শোনাতে পারতাম!

...আচ্ছা, মানুষ ওপারে চলে যাবার পর পাখির শব্দ শুনতে পায়?

১৯) আমাদের মাঝের দেয়ালটা ভেঙে পড়লে তুমিও দেখতে পেতে, আমিও তোমারই মতন ভঙ্গুর ছিলাম।

২০) পড়ার টেবিল-চেয়ারে বসে জানালায় চোখ রাখি। একটা মানুষের ভাগ্য কতটা ভালো হলে আকাশের চাঁদ আর চাঁদ ভাবা যায় যাকে, দুটোকেই একসাথে পায়?

ঈশ্বর আমাকে অনেক ভাগ্যবতী করে পাঠিয়েছেন।
লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *